পাকিস্তানে করোনা সংকটের কারণ | বিশ্ব | DW | 24.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান

পাকিস্তানে করোনা সংকটের কারণ

পাকিস্তানে এখন দ্রুত গতিতে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ৷ উগ্র ধর্মীয় বিশ্বাস, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, সেইসঙ্গে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এবং অব্যস্থাপনাকে এই জন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা৷

২৩ জুন পর্যন্ত পাকিস্তানে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৮৭ হাজার, প্রাণ হারিয়েছেন তিন হাজার ৭০০৷ এই পরিস্থিতিতে চলতি মাসের শেষ নাগাদ সংক্রমণ পৌঁছাতে পারে তিন লাখে৷ জুলাই-আগস্ট নাগাদ রোগীর সংখ্যা হতে পারে ১০ লাখ৷

জুনের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাকিস্তানকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেয়৷ সেসময় গড় সংক্রমণের হার বেড়ে ২২.৬ শতাংশে পৌঁছায়৷ প্রতিদিন এখন গড়ে ছয় হাজার জন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন সেখানে, যা একমাস আগেও ছিল এক হাজার৷

এই হিসাব দেশটির সরকারের৷ তবে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে তিন থেকে দশগুণ বেশি৷ অথচ সংক্রমণ বেড়ে চলার এই পরিস্থিতিতেই দেশটির সরকার লকডাউন শিথিল করেছে, এমনকি পর্যটন খাতও খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷

মার্চে সংক্রমণের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান করোনা ভাইরাসকে সাধারণ ফ্লু এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন৷ দাবি করেন ৯৭ ভাগ আক্রান্ত রোগীরই কোনো ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না৷ পরবর্তীতে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, এক চতুর্থাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করা জনগোষ্ঠীর দেশ পাকিস্তানের পক্ষে দেশজুড়ে লকডাউন আরোপ সম্ভব নয়৷ করোনা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি সত্ত্বেও তার সরকার এখন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের যুক্তিতে সব ক্ষেত্রে বিধিনিষেধগুলো তুলে দিয়েছে৷

কিন্তু এর ফলে পাকিস্তান আরো মারাত্মক স্বাস্থ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷

যেভাবে ছড়িয়েছে

পাকিস্তানে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি৷ এক এপ্রিল থেকে সীমিত লকডাউন আরোপ করে সরকার, যা ৯ মে পর্যন্ত কার্যকর ছিল৷

মার্চের শুরুর দিকে করোনার প্রকোপ যখন ততটা ছিল না সেসময় ফেডারেল সরকার কোয়ারান্টিনের যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়েই শিয়া তীর্থযাত্রীদের ইরান থেকে পাকিস্তানে আসার অনুমতি দেয়৷ অন্যদিকে পাঞ্জাব প্রদেশে সুন্নিদের তাবলিগ জামাতও চলেছে সমানতালে৷ এমন গণজমায়েত থেকে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে৷ মার্চে মানুষকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে ঈদ উদযাপনে কড়াকড়ি তুলে নেন ইমরান খান৷ পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন৷

পাকিস্তানের রাজনীতি ও ধর্ম

ইসলামাবাদ ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, করোনাকে ভয়াবহ মনে করেন না পাকিস্তানের ৫৫ ভাগ মানুষ৷ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস বিষয়ে সম্যক ধারণা রয়েছে দেশটির মাত্র তিনভাগ মানুষের৷

দেশটির মানুষের এই ভুল ধারণা পোষণের জন্য সরকারকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তারা মনে করেন কর্তৃপক্ষ গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে পদক্ষেপ না নেয়ায় ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিস্তার ঘটেছে মানুষের মধ্যে৷ যেমন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাংবাদিক ওয়াহিদ তৌহিদের মতে পাকিস্তানের রাজনীতি এবং ধর্মীয় উগ্রতাই এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে৷ তিনি জানান মানুষ বিশ্বাস করেছে যে রোগটি পূর্বের দেশগুলো চেয়ে পশ্চিমে বেশি ক্ষতি করে৷ সাদা মানুষেরাই মূলত আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন৷ পাকিস্তানের মানুষ সেভাবে আক্রান্ত হবেন না কিংবা মারাও যাবেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানের মানুষ বরাবরই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে আস্থা রাখেন৷ সেভাবেই চলেন এবং যতক্ষণ না বাস্তবতা তাদের মুখে চপোটাঘাত করে ততক্ষণ অন্য কিছু মানেন না৷’’

করোনা ভাইরাস ইশ্বরের শাস্তি

এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছে? সমাজবিজ্ঞানী মোহাম্মদ জাকারিয়া জাকার মনে করেন বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং শিক্ষার অভাব এর পেছনে ভূমিকা রাখছে৷ ‘‘আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান এবং যুক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করিনি,’’ বলেন তিনি৷

রক্ষণশীলরা যেকোন রোগের বিস্তারকেই ইশ্বরের শাস্তি হিসেবে দেখেন৷ যার কারণে ধর্মীয় গুরুদের দেয়া বিধিবিধানই তারা এসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন৷ চিকিৎসা ব্যবস্থার বদলে নির্ভর করেন ঝাড়-ফুঁকের উপর৷ জাকার বলেন, ‘‘কারো যদি কোভিড-১৯ ধরা পড়ে তাহলে তার উপর অপবাদ দেয়া হবে যে তিনি কোনো পাপ করেছেন যার কারণে ইশ্বরের রোষাণলে পড়েছেন৷’’

রাজনৈতিক নেতাকর্মী, চিকিৎসক এবং ধর্মীয় গুরুদের নানা ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই প্রতিনিয়ত সেখানে ভুল ধারণা, গুজব ছড়িয়েছে৷ যেমন এপ্রিলে তারিক জামিল নামের জনপ্রিয় একজন ধর্মীয় বক্তা দাবি করেন, নারীদের নির্লজ্জ নাচ ও পোশাকের কারণেই শাস্তি হিসেবে সৃষ্টিকর্তা করোনা ভাইরাস দিয়েছেন৷

ভয়াবহ সংকটের মুখে

সংক্রমণের গতি রোধ করতে পাকিস্তানকে দুই সপ্তাহর মধ্যবর্তী লকডাউন দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ যদিও বিরোধী দলসহ, ডাক্তাররা সম্পূর্ণ লকডাউন পক্ষে মত দিয়েছেন৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জানিয়েছেন, এই ধরনের পরামর্শ তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়৷ সরকার অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য দুই দিকই বিবেচনায় নিচ্ছে৷

বর্তমানে ফেডারেল সরকার করোনার বেশি সংক্রমণ এলাকাগুলোকে ‘হটস্পট’ হিসেবে নির্ধারণ করে সেসব স্থানে লকডাউন আরোপ করেছে৷ মহামারিতে দেশটিতে চাকরি হারানোর মুখে কয়েক লাখ মানুষ৷ ‘‘সামনের দিনে পাকিস্তান সম্ভবত তার সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়তে যাচ্ছে,’’ বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষ তৌহিদ৷

আসিম সালিম/এফএস

মার্চের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন