পাকিস্তানের গদরে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে শঙ্কার কালো মেঘ | বিশ্ব | DW | 23.12.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তান

পাকিস্তানের গদরে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে শঙ্কার কালো মেঘ

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, গদরকে ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে৷ কিন্তু বালোচিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে বাসা বাঁধছে অন্য আশঙ্কা৷

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরুর কারণে বালোচিস্তানে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে৷

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরুর কারণে বালোচিস্তানে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে৷

পাকিস্তানের দৈনিক দ্য নিউজ-এর খবর অনুযায়ী, সে দেশের সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গদর ফেন্সিং প্রোজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে গত সপ্তাহ থেকে৷ চীনের অর্থ সাহায্যে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ দ্য নিউজকে গদর বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নাসির খান কাশানি বলেন, কাঁটা তারের বেড়ার কাজ শেষ হলে বন্দর নগর গদরের নিরাপত্তার গতিপথ বদলে যাবে

পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র এবং সবচেয়ে কম জনবহুল প্রদেশ বালোচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার ২৪ বর্গ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার পরিকল্পনা করেছে৷ প্রকল্পটি ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি)-র অংশ৷

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গদরকে ঘিরে গড়ে তোলা কাঁটা তারের বেড়ায় দুটি প্রবেশ পথ থাকবে৷ ওই দুই পথে অন্তত ৫০০ নজরদারি ক্যামেরা বসানো হবে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম৷

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরুর কারণে বালোচিস্তানে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে৷ 

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক আরো জোরদার এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে সিপিইসি প্রকল্প ঘোষণা করে চীন৷ এই প্রকল্প পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় গদর বন্দরকে একদিকে আরব সাগর এবং অন্যদিকে চীনের দক্ষিণাঞ্চল শিনজিয়াংয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে৷ সড়ক পথ, রেল পথ তৈরি করে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে পারবে চীন৷

বালোচিস্তানআবারউত্তপ্তহবে?

ইসলামাবাদ এবং পাঞ্জাব অন্যায়ভাবে বালোচিস্তানকে বঞ্চিত করছে, শোষণ করছে- এমন দাবি তুলে বঞ্চনার অবসানের জন্য কয়েক দশক ধরে কাজ করছে বালোচ একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ৷ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নির্মূল করতে ২০০৫ সালে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তান সরকার৷ কিন্তু তাতে বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নির্মূল হয়নি৷ সেই অভিযানের ১৫ বছর পরও পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

২০১৮ সালে করাচিতে চীনের কনস্যুলেটে হামলা চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা৷এ বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে হামলা চালায় চার বন্দুকধারী বালোচিস্তান লিবারেশন ওয়ার (বিএলএ কর্মী) কর্মী৷ হামলায় দুই নিরাপত্তারক্ষী ও এক পুলিশসহ তিনজন মারা যায়৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শুরু করায় স্থানীয়রা ঘরছাড়া হওয়ার আশ্ঙ্কায় পড়েছে৷ তবে পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গদরের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন খুব জরুরি৷

নিরাপত্তা উৎপাদন বিষয়ক মন্ত্রী জুবায়দা জালাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এর পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণ রয়েছে৷ এর মাধ্যমে স্থানীয়দের নিরাপত্তাও দেয়া হবে৷'' কিন্তু বালোচিস্তানের বাসিন্দা এবং পাকিস্তানের বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে আসলে বালোচদের এলাকাছাড়া করা হবে৷

বালোচিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আব্দুল মালিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নিরাপত্তার কথা বলে ওরা আসলে স্থানীয় মানুষদের এলাকাছাড়া করার পাঁয়তারা করছে৷ আমরা অন্যান্য বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব৷''

বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা রহিম জাফর মনে করেন, ‘‘এই প্রকল্প জনগণের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকারকে ক্ষুন্ন করবে৷ এটা অন্যায়, এটা সংবিধানবিরোধী৷ এই বেড়া স্থানীয়দের মনে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়াবে৷''

এস খান(ইসলামাবাদ)/ এসিবি

সংশ্লিষ্ট বিষয়