পাঁচ মাতব্বরের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত | বিশ্ব | DW | 25.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

পাঁচ মাতব্বরের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত

দেশে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হওয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভূমিকাকে দায়ী করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে৷  

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন (ফাইল ছবি) 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন (ফাইল ছবি) 

রোববার বাংলাদেশের সাবেক এই স্থায়ী প্রতিনিধি পরাশক্তি দেশগুলোকে নিয়ে মুখ খোলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘ যা যা করার করছে৷ তবে, জাতিসংঘের শক্তিটা হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচজন স্থায়ী সদস্য, তারা হলো ‘মাতব্বর'৷এরা একজন যদি আপত্তি করে সেখানে জাতিসংঘ কিছুই করতে পারে না৷ তার ফলে আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা, ফিলিস্তিনের সমস্যা ঝুলেই আছে৷''

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ৷ তবে বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থী এখন ‘বোঝা' হিসেবে দেখছে সরকার৷ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের আগস্টে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায় উঠে আসে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ, যাকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান' বলেছে জাতিসংঘ৷

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি৷ প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে৷

শরণার্থী সংকট সমাধানে কাজ করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে চার বছর আগে একটি প্রস্তাব তোলার উদ্যোগ যুক্তরাজ্য নিলেও চীন ও রাশিয়া ওই উদ্যোগ বর্জন করে৷  

মোমেন বলেন,  ‘‘ আগামীতে যারা ঝুলিয়ে রেখেছে, তারা আরও সদয় হবে, বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীন৷ আমরা আশাবাদী যে, আমাদের এই সমস্যাও দূর হবে৷’’

১৯৩ সদস্য দেশের বৈশ্বিক সংস্থা জাতিসংঘে সবকিছুর কেন্দ্রে সবসময়ই থাকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স স্থায়ী সদস্য৷

জাতিসংঘের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় সমালোচনা হচ্ছে, ‘পার্মানেন্ট ফাইভ', ‘বিগ ফাইভ' কিংবা ‘পি-ফাইভ' হিসাবে পরিচিত এই সদস্য দেশগুলোর 'ভিটো' ক্ষমতার কারণে অনেক সার্বজনীন সিদ্ধান্তও মাঝপথে আটকে যায়৷

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতিসংঘকে সার্বজনীন সংস্থায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘জাতিসংঘ এখনও সার্বজনীন নয়৷ এটাকে বিশ্ব নেতৃত্বের মুখপাত্র হওয়া উচিৎ, গুটিকয়েক দেশের মুখপাত্র হওয়া উচিত না ৷’’

২০২৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘‘১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সভাপতি হয়েছিল৷ আপনারা জেনে খুশি হবেন, ২০২৬ সালে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে সভাপতি নির্বাচনে আমরা প্রার্থিতা ঘোষণা করেছি ৷’’ 

এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)   

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়