পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে কারাগারে খালেদা জিয়া | বিশ্ব | DW | 08.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে কারাগারে খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে৷ তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে৷ খালেদার বড়ছেলে তারেক জিয়াসহ অন্য পাঁচ আসামিকে দেয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড৷

রায়ের পর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারেই যেতে হবে৷ বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে  তাঁকে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়৷

বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন৷ একইসঙ্গে সাজাপ্রাপ্তদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে৷ এর আগে বেলা সোয়া ২টার দিকে আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া৷

অডিও শুনুন 01:18

‘যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, দুর্নীতি ও অপরাধ করে কেউ পার পায় না’

বিচারক জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ প্রমাণ হয়েছে৷

২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কুয়েত থেকে এতিমদের জন্য পাঠানো দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক৷ ওই বছরেরই ৪ জুলাই মামলাটি গ্রহণ করেন আদালত৷ তদন্ত শেষে দুদকের সহকারি পরিচালক হারুন অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছ’জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন৷

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান৷

অডিও শুনুন 01:23

‘খালেদা জিয়ার প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এই দণ্ড দেয়া হয়েছে’

মামলার ছয় আসামির মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন৷ মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে আর তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক৷

মামলার রায় দেয়ার পর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ‘‘খালেদা জিয়াকে আজই (বৃহস্পতিবার) কারাগারে যেতে হবে৷ তাঁর দণ্ডের যে পরিমাণ তাতে বিচারিক আদালত তাঁকে জামিন দিতে পারবেন না৷ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁকে দণ্ড দিয়েছে আদালত৷ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন, তাতে দেশের ভাবমূর্তি খারাপ হয়৷ তবে এটাও প্রমাণ হলো যে, এ দেশে যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, দুর্নীতি ও অপরাধ করে কেউ পার পায় না৷''

আর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি বলেছেন, ‘‘খালেদা জিয়া দেশকে ভালোবাসেন, দেশের মানুষকে ভালোবাসেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেন, তাই তাঁর প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এই দণ্ড দেয়া হয়েছে৷

অডিও শুনুন 04:07

‘নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়’

এই সরকার সাজানো মামলায় খালেদা জিয়ার প্রতি নির্মম আচরণ করেছে৷'' তিনি রাজনৈতিকভাবে এর প্রতিবাদ এবং মোকাবেলার আহবান জানান৷

আপিল করবেন খালেদা জিয়া

এদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেছেন, ‘‘আমরা আগামী সপ্তাহে আপিল দায়েরের আশা করছি৷''

খালেদা জিয়া বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন৷ আদাললতে পৌছান দুপুর ২টার পর৷ তাঁর গাড়ি বহরের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক সালমান তারেক শাকিল জানান, ‘‘ পথে নেতা-কর্মীরা তাঁর সঙ্গে যোগ দেন৷ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের মগবাজার, মৎসভবন এলাকায় এবং চানখার পুলে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়৷''

আরেক সাংবাদিক নুরুজ্জামান লাবু জানান, ‘‘চানখার পুলের পরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আর নেতা-কর্মীরা যেতে পারেননি৷

অডিও শুনুন 02:21

‘মৎস ভবনে সংঘর্ষের সময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে’

তাঁদের সেখানে আটকে দেয়া হয়৷ খালেদা জিয়া ও তাঁর নিরপত্তাকর্মীরা তিনটি গাড়ি নিয়ে বকশিবাজারের আদালতে যান৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘মৎস ভবনে সংঘর্ষের সময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে৷''

রাজধানী ঢাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে৷ রাস্তা-ঘাট ফাঁকা৷ মোটামুটিভাবে সারাদেশেই এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷

বন্ধুরা, এই রায় সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন