পাঁচ দিন জনজীবন স্তব্ধ রাখতে চায় জার্মানি | বিশ্ব | DW | 23.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

পাঁচ দিন জনজীবন স্তব্ধ রাখতে চায় জার্মানি

চ্যান্সেলর ম্যার্কেল ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সোমবার ইস্টারের ছুটির সময়ে জার্মানির জনজীবন স্তব্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন৷ করোনা সংক্রমণের মারাত্মক গতি কমাতে এমন ‘সার্কিট ব্রেকার’ কাজে লাগতে পারে৷

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

সিদ্ধান্তগুলো জানাচ্ছেন ম্যার্কেল

সোমবার জার্মানিতে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে সাপ্তাহিক গড় সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ১০৭৷ ফলে হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটের উপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা বাড়ছে৷ দ্রুত বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে জার্মানিতে লকডাউনের মেয়াদ যে আরও বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে কার্যত কোনো সন্দেহই ছিল না৷ কিন্তু সেইসঙ্গে বাড়তি কড়াকড়ি নিয়ে কিছুতেই ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছিলেন না জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা৷ অচলাবস্থা কাটাতে সোমবার তাদের বৈঠক বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য মুলতবি রাখতে হয়৷ প্রায় ১১ ঘণ্টার নাটকের পর অবশেষে গভীর রাতে তারা পরবর্তী পদক্ষেপগুলি ঘোষণা করেন৷

জার্মানির ফেডারেল ও রাজ্য সরকারগুলি চলমান লকডাউনের মেয়াদ আগামী ১৮ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ সেইসঙ্গে আসন্ন ইস্টারের ছুটির সময়ে দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে পাঁচ দিন ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চ্যান্সেলর ম্যার্কেল ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা৷ ১লা থেকে ৫ই এপ্রিল বাসায় থেকে অন্য মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ যোগাযোগ যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে ‘সার্কিট ব্রেকার’ কৌশলে মহামারির প্রকোপ কিছুটা হলেও কমানোর ডাক দেওয়া হচ্ছে৷ এর আওতায় দুটি পরিবারের পাঁচ জনের বেশি মানুষ একত্র হতে পারবেন না৷ সেই সময়ে দেশে সব দোকানবাজার পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে৷ শুধু শনিবার, ৩রা এপ্রিল সুপারমার্কেট ও মুদির দোকান খোলা রাখা হবে৷ ইস্টারের ছুটির সময়ে গির্জায় ধর্মীয় জমায়েত পুরোপুরি বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়েছে৷ যে সব পর্যটক বিদেশ ভ্রমণ করছেন, জার্মানিতে ফেরার আগে বিমান সংস্থার উদ্যোগে তাদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে৷ জার্মানির যে সব এলাকায় সাপ্তাহিক গড় সংক্রমণের হার ১০০ পেরিয়ে গেছে, সেখানে রাতে কারফিউসহ অন্যান্য পদক্ষেপ কার্যকর করা হতে পারে৷

সোমবার একাধিক মুখ্যমন্ত্রী কড়াকড়ির পাশাপাশি ছুটি কাটানোর কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার চেষ্টা চালালেও ম্যার্কেল নিজের কড়া অবস্থানে অনড় ছিলেন৷ শুধু দেশের মধ্যে নয়, ছুটি কাটাতে বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার ডাক দেন তিনি৷ ম্যার্কেলের চাপে শেষ পর্যন্ত বাকিরা ‘অন্যায্য’ দাবি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন৷ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ম্যার্কেল বলেন, করোনা ভাইরাসের ব্রিটিশ মিউটেশন প্রাধান্য বিস্তার করায় কার্যত নতুন মহামারি শুরু হয়ে গেছে৷ তিনি মনে করিয়ে দেন যে করোনার এই সংস্করণ আরও মারাত্মক, আরও ছোঁয়াচে এবং আরও বেশি সময় ধরে শরীরে বাসা বাঁধে৷

করোনার টিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে ধীর গতির পরিপ্রেক্ষিতে ম্যার্কেল বলেন, করোনা ভাইরাসের অন্যান্য মারাত্মক সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ার আগে টিকাদানের গতি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি৷ তার মতে, এ ক্ষেত্রে ‘সময়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ চালাতে হবে৷ প্রাথমিক দুর্বলতা সত্ত্বেও এবার টিকার সরবরাহ বাড়বে বলে তিনি আশ্বাস দেন৷

এসবি/কেএম (রয়টার্স, ডিপিএ)

সংশ্লিষ্ট বিষয়