পাঁচ তারা সংস্কৃতির জন্য কংগ্রেস ডুবছে: গুলাম নবি | বিশ্ব | DW | 23.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পাঁচ তারা সংস্কৃতির জন্য কংগ্রেস ডুবছে: গুলাম নবি

কংগ্রেসের ভিতর ঝামেলা আরো তীব্র হলো। শুরু করেছিলেন কপিল সিবাল। সমালোচনা করেছিলেন অধীর। এ বার সোচ্চার গুলাম নবি আজাদ।

বিহার নির্বাচনে খারাপ ফলের পর ফ্লাডগেট খুলে গেছে। গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে কংগ্রেসের একের পর এক প্রবীণ নেতা সামিল হচ্ছেন। শুরু করেছিলেন কপিল সিবাল। তারপর চিদাম্বরমও তাতে আংশিক সুর মিলিয়েছিলেন। জবাব দিয়েছিলেন অধীর চৌধুরি। এ বার তাতে সামিল হলেন গুলাম নবি আজাদ। কাশ্মীরের এই নেতা একদা গান্ধী পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ট ছিলেন। কিন্তু এখন তিনিই প্রবীণ নেতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গুলাম নবি বলেছেন, ''পাঁচ তারা সংস্কৃতিই কংগ্রেসের পতনের কারণ। নেতারা দায়িত্ব পেলেই পাঁচ তারা হোটেলে থাকেন। সেখানেও ডিলাক্স ঘর নেন। এসি গাড়ি ছাড়া তাঁরা চড়েন না। কাঁচা রাস্তা থাকলে তাঁরা সেখানে যান না। সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগ নেই। তাই দলের এই অবস্থা।'' তাঁর বক্তব্য, ''দলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হোক। পছন্দের নেতাদের দায়িত্ব দেয়ার প্রথা বন্ধ হোক।''

গুলাম নবি বলেছেন, ''পাঁচ তারা হোটেলে বসে নির্বাচন জেতা যায় না। এই সংস্কৃতির বদল না হলে কংগ্রেস আর ভোটে জিততে পারবে না।'' তিনি মনে করেন, ''কংগ্রেসে প্যারাসুট করে বাইরের নেতাদের রাজ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাঁরা মাটির সঙ্গে যুক্ত নেতাদের আমল দেন না। দায়িত্ব পেলেই নেতারা নিজের প্যাড ছাপান, ভিজিটিং কার্ড তৈরি করেন। তাতেই দায়িত্ব শেষ বলে তাঁরা মনে করেন। ব্লকের নেতা, জেলার নেতাদের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগই রাখেন না।''

এতসব বলার পরে তিনি সোনিয়া গান্ধীর প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি ভুল পথে চলছেন না। তাঁর নেতৃত্বেই দল সাম্প্রতিক সময়ে চার পাঁচটি রাজ্যে ভোটে জিতেছে। আসলে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের বিদ্রোহ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে।

বিদ্রোহী নেতাদের সমালোচনা করেছেন, অধীর চৌধুরি, সলমন খুরশিদরা। অধীর চাঁচাছোলাভাবে বলেছেন, ''এই নেতাদের না পোষালে দল ছেড়ে দিন। নিজে দল গঠন করুন অথবা অন্য দলে যোগ দিন। কিন্তু দলের ভিতর থেকে এই ধরনের কথা বলা ঠিক নয়। নিজে কিছু না করে আত্মবিশ্লেষণের কোনো অর্থ হয় না। বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, গুজরাটের ভোটে তাঁদের প্রচারে দেখা যায়নি।'' সলমন খুরশিদের দাবি, ''সোনিয়া ও রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংকট নেই। দলের সকলেই তাঁদের চান। তাঁরা সকলের কথা শোনেন। সকলকে সুযোগ দেন। যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁরাও ঢালাও সুযোগ পেয়েছেন।'' পশ্চিমবঙ্গের নেতা শুভঙ্কর সরকার ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''এই নেতারা অতীতে প্রচুর সুযোগ পেয়েছেন। এখন দলের খারাপ অবস্থায় তাঁদের কাজ করে দেখানো উচিত।''

কিছুদিন আগে প্রবীণ নেতারা সোনিয়াকে চিঠি দিয়ে নেতৃত্বের সমালোচনা করেছিলেন। তারপর ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তাঁরা প্রবলভাবে সমাচোলিত হন। এখন বিহারের নির্বাচনে খারাপ ফলের পর তাঁরা আবার সোনিয়া-রাহুলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছেন। কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও চরমে উঠেছে। বিজেপি-র সঙ্গে লড়াইয়ের আগে সোনিয়া ও রাহুলকে এই ঘরোয়া লড়াই বন্ধ করে দলের উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন