পশ্চিম বঙ্গের ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র সংসদের চরিত্র | আলাপ | DW | 08.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিম বঙ্গের ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র সংসদের চরিত্র

ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস বেশ পুরনো হলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস তুলনামূলকভাবে নবীন৷

প্রথম ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল চীন দেশে, খ্রীষ্টপূর্ব ১৬০ সালে৷ ইমপেরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পড়ুয়া শাসকের কয়েকটি নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন৷ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ৷ সাধারণ মানুষও সেই আন্দোলনে যোগ দেন৷ প্রতিবেশী বাংলাদেশের ছাত্র-রাজনীতি রীতিমতো বিখ্যাত৷ সেই দেশের ভাষা আন্দোলন তথা মুক্তি আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকাই মুখ্য ছিল৷

কিন্তু যখনই ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন, তখন দেশের আর পাঁচটা রাজনৈতিক দলের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মতোই চলে কোন্দল, হিংসা ও হানাহানি৷ দেশের মুখ্য রাজনৈতিক দলগুলির ছাত্র শাখা হিসাবে পরিচিত ছাত্র-ছাত্রীদের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সমর্থন পায় মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকেই৷

ফলে সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে ছাত্র সংসদের নির্বাচনের তফাৎ ঘুচতে থাকে৷ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় থাকেন পড়ুয়ারা৷ ফলে তাদের অধিকার-অনধিকার, প্রশ্ন, আপত্তি, প্রতিবাদে তাঁদেরই মুখ খোলাটা সবচেয়ে জরুরি৷ কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেটি হচ্ছে না৷ রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিয়মনীতি ও স্বার্থরক্ষায় ব্যবহার করে ছাত্র সংসদকে৷

শাসক দল পালটালে ছাত্র সংসদের রাজনীতিও দ্রুত বদলাতে থাকে৷ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ছাত্র সংসদ শাসক দলের অনুগামী পড়ুয়াদের দখলে৷ তবে কি ছাত্র আন্দোলনের কোনো স্বকীয়তা নেই, তারা কি বড় পার্টির হাতের পুতুল!

দিন কয়েক আগে, পশ্চিমবঙ্গের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ তুলে দেওয়ার সুপারিশ এসেছে৷ পরামর্শ দিয়েছেন স্বয়ং রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী৷ কারণ কী? ছাত্র সংসদের নির্বাচন ঘিরে তুমুল হিংসা ও মারামারি৷ নিয়মিত সংঘর্ষ ও কোন্দল দূর করতে এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজ্যপাল সংসদ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গের উপাচার্যদের এক বৈঠকে৷ কিন্তু শরীরের ক্ষত সারাতে গোটা শরীরকে উপড়ে ফেলার নিদান কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়৷

চৌধুরী চরণ সিং যখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি উত্তরপ্রদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন৷ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরাও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজনৈতিক স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠনের পক্ষে৷ তাতে হিংসা এড়ানো সম্ভব হবে৷ ছাত্র আন্দোলনের এমনতরো অবস্থা দেখে দুজন উপাচার্য পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন৷ তাঁরা হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরঞ্জন দাস এবং প্রেসিডেন্সির অনুরাধা লোহিয়া৷ আচার্য, তথা রাজ্যপাল তাঁদের সেই বাসনায় সায় দেননি৷ অরাজনৈতিক বলে আদৌ কিছু হয় নাকি, বা হলে, সেই কাউন্সিল গড়া হবে কোন গণতান্ত্রিক উপায়ে, সেই প্রশ্ন উঠেছে৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, এমনটি হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন৷ 

অডিও শুনুন 01:34

‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন তুলে দিলে নাগরিকদের মানসিক পরিপক্বতা আসবে না’

ছাত্র রাজনীতি বা ছাত্র সংসদ নির্বাচন তুলে দিলে ভবিষ্যৎ নাগরিকদের মানসিক পরিপক্বতা আসবে না, এমনটাই মনে করেন রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল৷ তাঁর মতে, টাকার খেলা বন্ধ হলেই হিংসা থেমে যাবে৷ বাম মনোভাবাপন্ন রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল তাঁর ছাত্রজীবনে কটকের একটি কলেজ এবং পশ্চিমবঙ্গের ফকিরচাঁদ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে লড়েছিলেন৷

মাত্র কিছু দিন আগে সম্পন্ন হয়েছে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন৷ বাম ছাত্রদের অনুকূলে গিয়েছে নির্বাচনের ফলাফল৷ শাসক দলের অনুগামী অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সভাপতি, সম্পাদক ইত্যাদি কোনো আসনই পায়নি৷ কিন্তু সেই নির্বাচন ঘিরে, আগে এবং পরে, ছিল টানটান উত্তেজনা৷ হুমকি, মারপিট চলেছে৷ প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে, এমন অভিযোগও উঠেছে৷ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি এন সাই বালাজি এখনো আত্মগোপন করে আছেন৷

বাম ছাত্রনেতা বালাজির অভিযোগ, তুমুল অশান্তি চলছে নির্বাচনের পরেও৷ পরাজিতরা বাইরের লোক এনে তাঁদের মারধর করেছে৷ পুলিশের সামনেই তাঁদের উপর অত্যাচার করেছে শাসক দলের মদতপুষ্ট ছাত্রনেতারা৷ বালাজি প্রাণভয়ে তাই আত্মগোপন করে রয়েছেন৷

এখন প্রশ্ন, এমন সংসদ নির্বাচন কি আদৌ প্রয়োজনীয়? উত্তর দু রকম৷ এক, নির্বাচন না হলে সংসদ চলে যাবে শাসকের হাতে৷ যেখানে ছাত্রদের অধিকারের কথা ছাত্রদেরই বলার কথা, সেখানে সেই কথা বলবে রাজনৈতিক নেতারা, শাসক দল চাপিয়ে দেবে নিজস্ব কানুন—যা ছাত্রদের দাবির পরিপন্থি৷ আরেক ধরনের উত্তর হলো, ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসেছেন লেখাপড়া করতে, রাজনীতি করতে নয়; ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে এমন অশান্তির বাতাবরণ হলে তাঁরা লেখাপড়া করবেন কখন! দ্বিতীয় উত্তরের জবাবে আসে প্রশ্ন, নাগরিকের ভোটাধিকার থাকলে ছাত্র সংসদ ও তার নির্বাচনই বা থাকবে না কেন! যে কোনো প্রতিষ্ঠান চলবে গণতান্ত্রিক উপায়ে, কারণ, এই দেশ অগণতান্ত্রিক নয়৷

যদি ছাত্রসংসদের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র উঠে যায়, নির্বাচন না মানা হয়; তাহলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও তা-ই হবে, একদিন ‘রাষ্ট্র' নামক প্রতিষ্ঠানেও একদিন বন্ধ হবে ভোটাধিকার৷ ছাত্র আন্দোলনের বৈধতা তো একদিনে মেলেনি, ছাত্র সংসদের অধিকারও একদিনে আদায় হয়নি৷ তবে কি শাসক ছাত্র সংসদের নির্বাচনকে তুলে দিয়ে বা সেই নির্বাচনে গা-জোয়ারি করছে কোনো ভয় থেকে!

ভারতের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে ছাত্ররা ছিলেন সামনের সারিতে৷ ১৯৪২ সালের ভারত-ছাড়ো আন্দোলনে ছাত্ররা তীব্রভাবে মুখর হয়ে ওঠে৷ ১৯৪৭ সালের আগে আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দি সেনাদের মুক্তির দাবিতে ছাত্ররাই পথে নেমেছিলেন৷ ১৯৪৬ সালে ক্যাপ্টেন রাশিদ আলির বিচারের সময় পড়ুয়ারা উত্তাল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শহরের রাজপথে৷ সেই সময় চলে পুলিশের গুলি, মারা যান কিছু পড়ুয়া৷ তবু পিছু হটেনি তারা৷

স্বাধীনতার পর জাতীয় কংগ্রেস দল ক্ষমতায় আসে৷ তখনও ছাত্র আন্দোলন চলেছে নিজস্ব নিয়মে৷ তারপর এক সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু হয়৷ ছাত্র ইউনিয়নের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে দলগুলি অংশ নেয়, তাদের প্রায় সকলেই প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের ছাত্রশাখা৷ এনএসইউআই, এবিভিপি, এমএসএফ, ডিএএসএফআই, এআইএসএফ, এসএফআই—ছাত্রশাখাগুলি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুগামী৷ ফলে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে হিংসার দায় রাজনৈতিক দলগুলি এড়াতে পারে না৷

বছর পাঁচেক আগে, ছাত্র সংসদের নির্বাচনে হিংসা রুখতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভেবেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু৷ উচ্চ শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তিনি বৈঠকও করেন৷ ছাত্র সংসদের নির্বাচনের সময় অশান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে কিনা, তার জন্য ঠিক হয় সুগত মারজিত নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন, খতিয়ে দেখবেন ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত ভারত সরকারের গঠিত লিংডো কমিটির সুপারিশসমূহ৷

অডিও শুনুন 05:27

‘শাসক চায় না, ছাত্ররা রাজনীতি করুক’

ইউপিএ জমানার জে এম লিংডো শিক্ষাঙ্গন থেকে ছাত্র রাজনীতিকে কার্যত বিদায় জানানোর কথা বলেছিলেন, সেই এক সুরে এনডিএ জমানার টিএসআর সুব্রহ্মণ্যম কমিটিও ছাত্র-রাজনীতি বন্ধের সুপারিশ করে৷ এর মধ্যে অনেকে দেখতে পাচ্ছেন শিক্ষায় বেসরকারীকরণের ভূত৷ ছাত্র সংগঠনগুলো, বিশেষ করে বাম ছাত্ররা যাতে শিক্ষার বেসরকারিকরণ বন্ধ করতে মাঠে নামতে না পারে, তাই তাদের অধিকার কেড়ে নিতে বদ্ধপরিকর শাসক৷ বিজেপি নেতা বেঙ্কাইয়া নাইডুও বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির কোনো প্রয়োজন নেই৷

উত্তর ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ ভারতে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং পূর্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বার বার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে ছাত্র রাজনীতির কারণে৷ সুব্রহ্মণ্যম কমিটির প্রতিবেদনে যেন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা মাথায় রেখে বলা হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের ফলে শিক্ষাঙ্গনে অবাঞ্ছিত পরিবেশ তৈরি হয়, ভেস্তে যায় লেখাপড়া৷ পরীক্ষা না দিয়ে কিছু পড়ুয়া বছরের পর বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে থাকে৷ পাশাপাশি ওই কমিটি মনে করে, তবে পড়ুয়াদের কথা বলার অধিকার আছে৷ কিন্তু কী তার প্ল্যাটফর্ম? শাসকের ঠিক করে দেওয়া অরাজনৈতিক সংসদ! সর্বোচ্চ আদালতও জানিয়ে দেয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন৷ ছাত্র নেতারা অবশ্য মনে করেন, রাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ আসলে পড়ুয়াদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র৷

অডিও শুনুন 04:28

‘শাসক-অনুগামী ছাত্র-সংসদ চলে পেশি ও অর্থের ক্ষমতায়’

সিপিআইএম-এর ছাত্রশাখা ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য মনে করেন, ছাত্র অধিকারের প্রশ্ন, ছাত্রদের রাজনীতি করা উচিত কিনা—এই প্রশ্নগুলো বার বার উঠেছে৷ শাসক চায় না, ছাত্ররা রাজনীতি করুক৷ ছাত্র সংসদের পরিসর বারংবার নষ্ট হয়েছে, সংকুচিত হয়েছে৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় থাকেন পড়ুয়ারা, তাঁদের অধিকারের বিষয়ে তাঁরাই মুখ খুলবেন, প্রশ্ন করবেন—সেটাই সুস্থতা, গণতন্ত্র৷

কিন্তু এমন চিত্র দেখা গিয়েছে, ছাত্র সংসদের কর্তারা মোটা টাকার বিনিময়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পড়ুয়াদের বাঁকা পথে ভর্তি করেছে৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে যে আন্দোলন করে, তার বিরুদ্ধেও আপত্তি উঠেছে৷ তাহলে কি ধরে নিতে হবে যে, ছাত্র আন্দোলনের নামে আসলে পকেট ভরানো বা কায়েমি স্বার্থের ধ্বজাধারী হওয়াটাই মূল লক্ষ্য? শাসক দল বা মূল ধারার রাজনৈতিক দলের তাঁবেদারি করে আসলে ছাত্ররাই তাঁদের অধিকার সঁপে দিয়েছেন অগণতন্ত্রের হাতে৷

শামিম আহমেদ, কলেজ শিক্ষক, পশ্চিমবঙ্গ

শামিম আহমেদ, কলেজ শিক্ষক, পশ্চিমবঙ্গ

প্রেসিডেন্সি কলেজ ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে দিল্লি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রাজীব রায় জানান, সব সময় যে ছাত্র সংসদ শাসকের কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগামী হবে, এমন নয়৷ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি ছাড়াও হিমাচলপ্রদেশের কথা ভাবা যেতে পারে৷ বাম ছাত্র-রাজনীতির সাংগঠনিক ক্ষমতা অনেক বেশি৷ তাই জেএনইউ, প্রেসিডেন্সি প্রভৃতি জায়গায় তাদের এমন সাফল্য৷ কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই সব ক্ষেত্র হলো দ্বীপের মতো৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে মূল রাজনৈতিক ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এরা সবাই কিন্তু বামেদের হয়ে ভোট করে না৷ আর শাসক-অনুগামী ছাত্র-সংসদ চলে পেশি ও অর্থের ক্ষমতায়৷

এখন প্রশ্ন, ছাত্র সংসদের রাজনীতি কি তাহলে মূল ধারার অসহিষ্ণু রাজনীতিরই প্রতিলিপি হয়ে পড়ল? নাকি, এই ছাত্ররাই হিংসামুক্ত রাজনীতির সন্ধান দিতে পারে অদূর ভবিষ্যতে? তারাই তো আগামীর দূত!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন