পশ্চিমবঙ্গে সিবিআই-এর প্রশ্নের মুখে শিল্পমন্ত্রী, অনুব্রত | বিশ্ব | DW | 19.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে সিবিআই-এর প্রশ্নের মুখে শিল্পমন্ত্রী, অনুব্রত

স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি দুর্নীতি তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী হাজির হলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সামনে৷ বুধবার তাকে তিন ঘণ্টা জেরা করে সিবিআই৷ যদিও বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বুধবার দিনভর নিখোঁজ ছিলেন৷

পার্থ চট্টোপাধ্যায়

পার্থ চট্টোপাধ্যায়

এসএসসি রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের অধীনে কাজ করে৷ কমিশনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে৷ আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই৷ এসএসসি মামলায় এর আগেও কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে বলেছিল৷ কিন্তু মামলায় সিবিআই তদন্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ৷ তাই হাজিরা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন পার্থ৷ কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় সিঙ্গেল বেঞ্চ ফের বর্তমান শিল্পমন্ত্রীকে হাজিরা দিতে বলে সন্ধ্যা ছ'টার মধ্যে৷ 

অডিও শুনুন 01:47

‘‘যত বড়ই মাথা হোক, দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া দরকার’’

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন

নাটকীয়ভাবে নির্ধারিত সময়ের একটু আগে বিকেল পাঁচটা ৩৮ মিনিটে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে আসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ নির্দেশে বলেছিল, প্রয়োজনে অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই৷ তাই টানটান উত্তেজনা ছিল পার্থর হাজিরার সময়৷ যদিও রাত সাড়ে ন'টা নাগাদ সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে আসেন শিল্পমন্ত্রী৷ দফতরে প্রবেশ বা বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনে মুখ খোলেননি তিনি৷ সূত্রের খবর, এসএসসি নিয়োগ নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন করা হয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে৷

প্রশ্নের মুখে কর্তারাও

এসএসসি দুর্নীতিতে নজরে কমিশনের উপদেষ্টা কমিটিও৷ আদালত এই কমিটির সদস্যদের বিকেল চারটের মধ্যে সিবিআই-এর সামনে হাজির হতে বলেছিল৷ সেই অনুযায়ী কমিটির প্রধান শান্তিপ্রসাদ সিনহা, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব সুকান্ত আচার্য, শিক্ষা দফতরের প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর অলোক সরকার, পার্থর তৎকালীন ওএসডি প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষা দফতরের আইন আধিকারিক তাপস পাঁজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই৷ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে পার্থকে প্রশ্ন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়৷ তদন্তের দিকে তাকিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা৷ তাদের ভবিষ্যতের উপরেও প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে৷ শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘‘যত বড়ই মাথা হোক, দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া দরকার৷ তবে এটাও দেখতে হবে যেন বঞ্চিত ও যোগ্য প্রার্থীরা দ্রুত চাকরি পান৷ তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করছেন৷ তদন্ত প্রক্রিয়া চলতে চলতে প্রার্থীদের বয়স পার হয়ে গেলে, তাঁরা নিয়োগ পাবেন না৷’’

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ‘নিখোঁজ’

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাজিরা নিয়ে যখন শোরগোল, সেই সময় খোঁজ চলেছে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারীর৷ অভিযোগ, পরেশ ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় তার কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীকে অবৈধভাবে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়৷ পরে পরেশ বিধায়ক ও মন্ত্রী হন৷ মেধা তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হতে হয়েছে, এই অভিযোগে চাকরিপ্রার্থী ববিতা সরকার মামলা করেন৷ সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ পরেশকে সেদিন রাত আটটার মধ্যে সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে বলে৷ সেই সময় কোচবিহারে ছিলেন পরেশ৷ রাতে কন্যাকে নিয়ে পদাতিক এক্সপ্রেসে ওঠেন তিনি৷ যদিও বুধবার সকালে পদাতিক শিয়ালদহে পৌঁছলেও পাওয়া যায়নি পরেশ ও অঙ্কিতাকে৷ এরপরই রটে যায়, মন্ত্রী নিখোঁজ৷ বর্ধমান স্টেশনে তাদের দেখা গিয়েছে বলে একটি স্থিরচিত্র ভাইরাল হয়েছে৷ যদিও তার সত্যতা ডয়চে ভেলে যাচাই করেনি৷ এই পরিস্থিতিতে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই পরেশকে খোঁজার লক্ষ্যে টর্চ হাতে অভিনব প্রতিবাদ জানায় কলকাতায়৷ 

Anubrata Mandal at Nizam Palace

অনুব্রত মণ্ডল

কমিশনের অফিসে পাহারা

বুধবার পার্থর হাজিরার পরও নাটকীয়ভাবে জারি ছিল এসএসসি তদন্ত পর্ব৷ রাতেই পদত্যাগ করেন কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার৷ তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় শুভ্র চক্রবর্তীকে৷ এরপর মাঝরাতে চাকরিপ্রার্থীদের সওয়াল শোনেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়৷ দুর্নীতি ঢাকতে নথি নষ্টের আশঙ্কা জানান আবেদনকারীরা৷ এই আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দেয়, রাত সাড়ে বারোটার মধ্যে আধাসেনা ঘিরে ফেলবে কমিশনের সদর দফতর আচার্য সদনকে৷ রাত প্রায় তিনটে নাগাদ সদনে পৌঁছয় সিআরপিএফ৷ গেট টপকে দফতর চত্বরে প্রবেশ করেন জওয়ানরা৷ বুধবার বিচারপতি এমনও নির্দেশ দিয়েছেন, এ দিন সন্ধ্যার সিসিটিভি ফুটেজ আদালতে পেশ করতে হবে৷

আজ হাজির অনুব্রত

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ব্যস্ততা সিবিআই দফতরে৷ বুধবার রাতেই জানা গিয়েছিল, বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল সিবিআই-এর সামনে হাজিরা দেবেন৷ আজ সকাল পৌনে ১০টায় তিনি নিজাম প্যালেসে পৌঁছন৷ গরু পাচার মামলায় এর আগে ছ'বার অনুব্রতকে তলব করে কেন্দ্রীয় সংস্থা৷ কিন্তু বিভিন্নভাবে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি৷ গত ৬ এপ্রিল চূড়ান্ত নাটক হয়৷ কলকাতার বাসভবন থেকে দাপুটে নেতা বেরোলেও নিজাম প্যালেস না এসে কাছেরই এসএসকেএম হাসপাতালে চলে যান৷ অসুস্থতার কথা জানান চিকিৎসকদের৷ তারপর থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন অনুব্রত৷ সিবিআই-কে জানিয়েছিলেন, ২১ মে-র পর তিনি হাজিরা দিতে পারবেন৷ যদিও তার আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি৷