পশ্চিমবঙ্গে সব বিজেপি বিধায়ককে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা | বিশ্ব | DW | 11.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে সব বিজেপি বিধায়ককে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা

পশ্চিমবঙ্গের সব বিজেপি বিধায়ক কেন্দ্রীয় সরকারের সুরক্ষা পাবেন। তাদের সঙ্গে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কম্যান্ডোরা।

পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বেনজির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। বিজেপি-র যে ৭৭ জন বিধায়ক জিতে এসেছেন, তাদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা দেয়া হবে। এর মধ্যে ৬১ জন বিধায়ককে দেয়া হবে এক্স পর্যায়ের নিরাপত্তা। তার মানে তাদের সঙ্গে তিন থেকে পাঁচজন সিআইএসএফ বা সিআরপিএফের কম্যান্ডো থাকবেন। আর বাকিরা পাবেন ওয়াই পর্যায়ের নিরাপত্তা। তার মানে তাদের সঙ্গে পাঁচ থেকে সাতজন কম্যান্ডো থাকবেন। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী আগের থেকেই সর্বোচ্চ জেড পর্যায়ের নিরাপত্তা পান।

এর আগে অন্য কোনো রাজ্যে এবং পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি বিধায়কদের জন্য এই ভাবে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা দেয়া হয়নি। এই নজিরবিহীন ঘটনার পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুক্তি,  ভোট শেষ হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রবল সহিংসতা চলছে। কেন্দ্রীয় দল সেখানে ঘুরে এসে রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্ট মেনে এবং বিধায়কদের বিপদের সম্ভাবনা যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিজেপি-র ৭৭ জন বিধায়কের মধ্যে দুইজন নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার তাদের সাংসদ পদ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বিধায়ক হিসাবে শপথ নেননি। ফলে বিজেপি-র এখন বিধায়ক-সংখ্যা ৭৫ জন। এছাড়া বিরোধী বলতে আছেন আইএসএফের নওসাদ সিদ্দিকি। তাকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেয়া হয়নি। যদিও আইএসএফ অভিযোগ করেছে, তাদের কর্মী-সমর্থদেরও মারা হচ্ছে।

ভোটের ফলাফল বেরনোর পর থেকে এখনো পর্যন্ত বিজেপি-র দাবি, তাদের ১৪ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, তাদের পাঁচজন মারা গেছেন। এই দুই দলের হিসাব অনুযায়ী মোট ১৯ জন মারা গেছেন। এই দাবি মেনে নিলে বোঝা যাচ্ছে, সহিংসতা একতরফা হচ্ছে না। দুই তরফেই হচ্ছে। তবে বিজেপি-র ক্ষয়ক্ষতি তুলনায় বেশি। এর মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ভরে গেছে নানা ধরনের সহিংসতার খবরে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ মে বীরভূমে বিজেপি-র এজেন্টকে ধর্ষণের অভিযোগ ভুয়া খবর। ৬ মে শীতলকুচিতে মৈনাক মৈত্র বলে একজন বিজেপি কর্মীর হত্যার খবরও ভুয়া বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দ্য হিন্দু সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে অভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট তুলে দেয়া হয়েছে, যেখানে তিনি লিখেছেন, ''আমি শীতলকুচি থেকে এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে আছি। বিজেপি-র আইটি সেল দাবি করছে, আমি মৈনাক মৈত্র এবং শীতলকুচিতে মারা গেছি। দয়া করে এই ভুয়ো খবর বিশ্বাস করবেন না। আমি বেঁচে আছি।'' পুলিশের দাবি, আরো গোটা ছয়েক এরকম ভুয়ো পোস্ট রয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোর জন্য পুলিশ দেগঙ্গা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি-র সব বিধায়ককে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন উঠছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো? এর ফলে কতটা লাভ হবে বিজেপি-র? প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র মনে করেন, এতে রাজনৈতিকভাবে বিজেপি-র ক্ষতি হবে। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, ''রাজনৈতিক সহিংসতা পশ্চিমবঙ্গে নতুন নয়। তার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। প্রতিবারই যারা আক্রান্ত তারা মানুষের কাছে গেছে। অতীতে কংগ্রেস, তৃণমূল, বামেরা মানুষের কাছেই গেছে। বিজেপি গেল না। তাতে তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। তারা তো দুই কোটি ২৮ লাখের মতো ভোট পেয়েছে। ভোটের পর সেই মানুষের কাছেই তো যাওয়া দরকার ছিল বিজেপি-র।'''

শুভাশিস মনে করেন, বিধায়করা নিরাপত্তা পাবেন, আর দলের কর্মী, যারা মার খাচ্ছেন, তাদের তো কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নেই। তারা ক্ষুব্ধ হতেই পারেন।

রাজ্য বিজেপি-র সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন,  শুধু বিধায়ক নয়, সব বিজেপি কর্মীকেই কেন্দ্রীয় সুরক্ষা দেয়া উচিত।  ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছেন, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা উচিত।

দিল্লির প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''এটাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত হিসাবেই দেখতে হবে।  এর একটা দ্বিতীয় দিকও আছে। এই নিরাপত্তা দিয়ে যেমন বিধায়কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাওয়া হয়েছে, তেমনই তাদের উপর পূর্ণ নজরদারিও থাকবে। তাদের সব গতিবিধি নথিভুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে দলে ভাঙন এড়াতে এই ব্যবস্থা কাজে লাগতে পারে।''

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। শুভাশিস যেমন বলেছেন, একটা সময় নকশালরা দেওয়াল লিখে সহিংসতার কথা বলেছে। করেওছে। পরে সব সরকারই এসে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে। রাজনীতি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া রাজনীতিক যেমন মুক্তি পেয়েছেন, তেমনই হত্যার অভিযোগ থাকা রাজনৈতিক কর্মীও মুক্তি পেয়েছেন।

তার মতে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলই সহিংসতার শিকার হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে অন্য ধরনের সহিংসতা কম। রাজনৈতিক সহিংসতা বেশি। অন্য রাজ্যে ধর্মীয় হিংসা, জাতপাতের হিংসা অনেক বেশি। সব দল মিলে তা বন্ধ না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধায়কদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা দেয়াটা কোনো সমাধান নয়। এমনকী বিজেপি নেতাদের একটা অংশও মনে করেন, এর ফলে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শুভাশিসের মতো অনেকেই মনে করেন, রাজ্যে অস্ত্র তৈরি করা, বাইক বাহিনী, বোমা বাঁধা সবই এখন ছোট শিল্পের পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক দলগুলি তা ভাড়ায় নেয়। চাকরি নেই বলে অনেক যুবক সেই শিল্পের দিকে ঝোঁকে। ফলে অসুখটা অনেক গভীরে ঢুকে গেছে।

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, দ্য হিন্দু)