পশ্চিমবঙ্গে বিনামূল্যে চিকিৎসার দিন শেষ? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 30.10.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে বিনামূল্যে চিকিৎসার দিন শেষ?

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এখন স্বাস্থ্যবীমা কার্ড বাধ্যতামূলক৷ এই নির্দেশনার বিরোধিতা করে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলি বলছে, এর ফলে বিনামূল্যের সরকারি স্থাস্থ্যসেবা থেকে সাধারণ নাগরিকরা বঞ্চিত হবেন৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গে এতদিন পর্যন্ত সরকারি চিকিৎসার সব সুযোগ-সুবিধা বিনামূল্যে পেতেন রোগীরা৷ এবার কি তবে সেই সুযোগ মিলবে না? স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে সেই প্রশ্নই উঠছে৷ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যসাথীসহ চারটি সরকারি হেলথ কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ কার্ড না থাকলে সরকারি হাসপাতালে তৈরি করে দেয়া হবে কার্ড৷ এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর৷

চিকিৎসকদের সংগঠনগুলি নতুন নির্দেশিকার বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম-এর সদস্য ডাঃ অর্জুন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে জনগণের করের টাকায়৷ যাদের করের টাকায় এই পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, তাদের সরাসরি সুযোগ থাকা দরকার৷’’

দেশে চিকিৎসা পরিষেবায় যে টাকা খরচ হয়, তার প্রায় ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে আউটডোর চিকিৎসায়৷ ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা আর ওষুধ কিনতেই বেশি টাকা খরচ হয়৷ স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারতের মতো কোনো প্রকল্পে এই টাকা পাওয়া যায় না৷ সমীক্ষা অনুযায়ী, এই পরিমাণ টাকা মেটাতে গিয়েই প্রতি বছর সাত কোটি ভারতবাসী দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাচ্ছেন৷ কাজেই চিকিৎসকদের সংগঠনগুলির দাবি, স্বাস্থ্যসাথী বা যেকোনো বিমাভিত্তিক প্রকল্পে সরকার যে টাকা বরাদ্দ করে, সেই টাকায় পরিকাঠামো আরও ভাল করে তোলা যেত৷ সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সম্পাদক ডাঃ সজল বিশ্বাস বলেন, ‘‘এই ধরনের হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সাধারণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে৷ কার্ড ব্যবহার করে চিকিৎসায় যে জটিলতা সৃষ্টি হবে, তাতে বেশিরভাগ মানুষই উতরোতে পারবেন না৷ সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর নিয়ে বিমা কোম্পানিকে না দিয়ে নিজস্ব স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটাতে কাজে লাগালে ভালো হত৷’’

অডিও শুনুন 02:04

এবার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পুরো ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করেছে: ডাঃ অংশুমান মিত্র

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিবার পিছু পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ৷ এর মধ্যে বিমা কোম্পানি দেয় দেড় লক্ষ টাকা৷ আর বাকি সাড়ে তিন লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য ভবন থেকে দেওয়া হয়৷ সেই টাকা ফুরিয়ে গেলে কী হবে? চিকিৎসক মহল বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন৷ পাঁচ লক্ষ টাকা ফুরিয়ে গেলে রোগী কি সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা পাবেন না? তখন চিকিৎসার খরচ কীভাবে চলবে, বিনামূল্যে নাকি টাকা দিয়ে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার করে জানা নেই কারও৷ শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের সদস্য ডাঃ পুণ্যব্রত গুণ বলেন, ‘‘এই যে বিমার কথা বলা হচ্ছে, তা কেবল ইনডোর হাসপাতালের খরচ বহন করে৷ তাছাড়া বিমা সংস্থা খরচ হওয়া টাকার সবটা দেয় না৷ কিছুটা অংশ দেয়৷ বাকি অংশটা মানুষকে নিজের পকেট থেকেই দিতে হবে৷’’

যদিও স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তাদের যুক্তি, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কত খরচ হচ্ছে, সেই হিসেব পেতেই এই নির্দেশিকা৷ কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নন বড় অংশের চিকিৎসকেরা৷ আদতে এটা সরকারি পরিষেবাকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়ার উদ্যোগ, সেটা অনেকেই মনে করছেন৷ ডাঃ দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘আমি মনে করি, সরকার নাগরিকদের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব থেকে হাত তুলতে শুরু করেছে৷ বেসরকারি বিমার হাতে তুলে দিচ্ছে সেই দায়িত্ব৷ এটাই প্রথম ধাপ৷ পরের ধাপে এটাকে জনপ্রিয় করে তোলা হবে৷’’

জনগণ এবং সরকারের মধ্যে হঠাৎ বিমা কোম্পানির অনুপ্রবেশকে ভাল চোখে দেখছেন না ডাঃ বিশ্বাস৷ তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের যে প্রিমিয়াম আজ সরকার দিয়ে দিচ্ছে, সেটা ভবিষ্যতে মানুষকে দিতে হতে পারে৷ আর জনগণের করের টাকা বিমা কোম্পানিকে কেন দেওয়া হবে? এই স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিকাঠামো তো বিমা কোম্পানি চালাচ্ছে না৷ তা হলে সাধারণ মানুষের টাকা হঠাৎ তাদের দেওয়া হবে কেন?’’

মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক ডাঃ অংশুমান মিত্র বলেন, ‘‘গত ২৫-৩০ বছর ধরে চলে আসা, সকলের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বন্ধ করার উপক্রম করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার৷ ধাপ ধাপে পেইড চিকিৎসা বাড়ানো, ফ্রি আউটডোর চিকিৎসা কমিয়ে দেওয়া, পেয়িং বেড বাড়ানো, ওষুধের খরচ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পাবলিক মানি প্রাইভেট পকেটে যাওয়া শুরু করেছে৷ এবার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পুরো ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করেছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়