পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পীদের কদর | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.02.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পীদের কদর

বাংলাদেশের বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কলকাতার ‘সঙ্গীত রিসার্চ আকাদেমি' প্রাঙ্গণে বাংলা গানের এক উৎসব হয়ে গেল৷ অংশ নিলেন প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রায় অর্ধ-শতাধিক সংগীতশিল্পী৷

বাংলাদেশের রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতির শিল্পীরা কলকাতা-সহ বাকি পশ্চিমবঙ্গেও অত্যন্ত জনপ্রিয়৷ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, মিতা হক বা ইফ্ফাত আরা দেওয়ান ওপার বাংলায় যতটা ভালবাসা পান, এপারেও ততটা ভালবাসা এবং সম্মান তাঁদের জন্য তোলা থাকে৷ সেই শিল্পীদের মুখোমুখি বসে গান শোনার সুযোগ৷ তাও একটা-দুটো দিন নয়, টানা নদিন৷ এমন দীর্ঘায়িত গানের আসরের কথা প্রায় শোনাই যায় না, বললেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু৷

‘সঙ্গীত রিসার্চ আকাদেমি'-র পক্ষে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী চমৎকার বলেন যে, বিনোদনের ক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশের লোকেদের একটা প্রবণতা আছে পশ্চিমের দিকে দেখার, কিন্তু পুবে, যেদিকে সূর্যের উদয় হয়, সেদিকে অনেকেই দেখেন না৷ এবার সময় এসেছে পশ্চিম থেকে পুবে মুখ ফেরানোর৷ টানা নয় দিনের এই বাংলা গানের উৎসবের প্রথম উদ্দেশ্যই তাই দুই বাংলার সাংগীতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া৷ সেই সঙ্গে শিল্পী এবং শ্রোতার সম্পর্কের নবীকরণ৷

Bangladeshi singer Dr. Sanjida Khatun

দুই বাংলার সাংগীতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের প্রয়াস চলছে

সেই কারণেই বাংলাদেশের জাতীয় কবি, দুই বাংলারই বিদ্রোহী সত্তার প্রতিভূ নজরুল ইসলামের স্মৃতিতে উৎসর্গ করা এই সংগীত উৎসবে রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের গানের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে লালনগীতি ও অন্যান্য লোকসংগীত, পুরাতনী ও বৈঠকী গান, ধ্রুপদী অঙ্গের গান এবং আধুনিক জীবনমুখী গানও৷ নয় দিনের অনুষ্ঠানের প্রথম সন্ধের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশের সদ্য প্রয়াত সংগীতশিল্পী সোহরাব হোসেনের স্মৃতির উদ্দেশে নিবেদিত৷ আর দ্বিতীয় দিনের সারা রাতব্যাপী অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশের বিশিষ্ট নজরুলগীতি শিল্পী নীলুফার ইয়াসমিনকে উৎসর্গ করা৷

এই সন্ধেতেই ইফ্ফাত আরা দেওয়ান, ফারহানা রহমানের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, পণ্ডিত অরুণ ভাদুড়ি ও কৌশিকী দেশিকান৷ অন্যান্য সন্ধ্যার শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শামা রহমান, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, মিতা হক, লাইসা আহমেদ লিসা, অদিতি গুপ্ত, প্রমুখ৷ পশ্চিমবঙ্গের সংগীতশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন শ্রীকান্ত আচার্য, স্বাগতালক্ষী দাশগুপ্ত, জয়তী চক্রবর্তী, শুভমিতা ও শ্রেয়া গুহঠাকুরতা৷ দুই বাংলার প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথের দুটি গীতিনাট্যও মঞ্চস্থ হয়৷ একটি ভাবনা সংস্থার প্রযোজনায় ভানুসিংহের পদাবলী, যার ভাষ্যপাঠে ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্যকর্মী আসাদুজ্জামান নূর৷ অন্যটি কলকাতার দক্ষিণী সংস্থা প্রযোজিত শাপমোচন৷

বাংলাদেশের যে সংস্থার সুবাদে এই সংগীত উৎসবের স্বাদ পেলেন কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের উৎসাহী শ্রোতারা, সেই বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রাণপুরুষ আবুল খায়ের লিটু উপস্থিত ছিলেন দ্বিতীয় দিনের সারারাত্রিব্যাপী অনুষ্ঠানে৷ তিনি জানালেন, বাংলা গান নিয়ে এমন উদ্যোগ গোটা এশিয়াতেই কখনও হয়নি৷

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন কলকাতার এই সংগীত উৎসব উপলক্ষে বেশ কিছু নতুন গানের সিডি প্রকাশ করে৷ ‘সঙ্গীত রিসার্চ আকাদেমি' চত্বরে এইসব সিডি বিক্রির একটি স্টলও ছিল৷ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশনা. এবং অবশ্যই বাঙালি খাবার৷ বিরিয়ানি থেকে শুরু করে পুলিপিঠে৷ আর তার সঙ্গে গান তো ছিলই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন