পশ্চিমবঙ্গে বন্যা: কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ ও সমাধানের পথ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 07.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা: কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ ও সমাধানের পথ

পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলার বড় অংশ বানভাসি৷ মুখ্যমন্ত্রী এ জন্য দায়ী করেছেন কেন্দ্রকে৷ তিনি মানবসৃষ্ট বন্যার অভিযোগ করেছেন৷ তবে কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিভিসি তা অস্বীকার করেছে৷

গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হানার সময় পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের একটি লোকালয়

গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হানার সময় পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের একটি লোকালয়

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ও হুগলির খানাকুল এখনো জলবন্দি৷ বৃষ্টির সঙ্গে উপচে পড়া জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে সংকট বেড়েছে৷ বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তাই কেন্দ্রীয় সংস্থা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বন্যার কারণ প্রাকৃতিক নয় বরং মানবসৃষ্ট, মুখ্যমন্ত্রীর এমন দাবি খারিজ করেছে ডিভিসি৷ প্রকৃত কারণ আসলে কী?

অডিও শুনুন 01:23

মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা একা রাজ্যের সাধ্য নয়: সৌমেন মহাপাত্র

মমতা   বনাম   ডিভিসি
জলাধার তার ধারণক্ষমতার বেশি জল ধরে রাখতে পারে না৷ অতিবৃষ্টি হলে সেখান থেকে জল ছাড়তে হয়৷ তাতে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা৷ মমতার অভিযোগ, ডিভিসির জলাধারগুলির নাব্যতা কমে গেছে৷ কেন্দ্র পলি সরানোর উদ্যোগ না নেওয়ায় বন্যা হচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র আরো কড়া ভাষায় কেন্দ্রের সমালোচনা করেছেন৷ তিনি একে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন৷ পলি সংস্কারের উপর জোর দিয়ে মন্ত্রী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা একা রাজ্যের সাধ্য নয়৷ কেন্দ্রকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে, কিন্তু তারা দায়িত্ব নিচ্ছে না৷’’ শুধু বন্যা নয়, কৃষির প্রশ্নেও মুখ্যমন্ত্রী বিঁধেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে৷ তার মন্তব্য, ‘‘ডিভিসি চাষের মৌসুমে এক ফোঁটাও জল দেয় না৷ বর্ষায় ইচ্ছে মতো জল ছাড়ে৷’’

যদিও ইচ্ছাকৃত জল ছাড়ার অভিযোগ খারিজ করেছে ডিভিসি৷ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ডিভিসি একার সিদ্ধান্তে জল ছাড়ে না৷ উচ্চ পর্যায়ের কমিটি জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়৷ এই কমিটিতে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরাও থাকেন৷’’ কৃষিকাজ সম্পর্কে তার ব্যাখ্যা, ‘‘রাজ্যে তিনবার চাষের জন্য ডিভিসি জল ছাড়ে৷ যে জল সংরক্ষণ হয়, তার ৭০ শতাংশ চাষের জন্যই ব্যবহৃত হয়৷ এই সংক্রান্ত নথিপত্রে প্রমাণও আছে৷’’

বন্যার দায় কার?

ডিভিসির মাইথন, পাঞ্চেতের পাশাপাশি তেনুঘাট, তিলাই ও কোনার জলাধার থেকেও জল ছাড়া হচ্ছে৷ এর প্রভাব পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায়৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির ধরনও অনেকটা পাল্টে গেছে৷ বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য অল্প সময়ে দীর্ঘমেয়াদি বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে৷ তাই জল ধারণের জন্য জলাধার সংস্কার জরুরি৷ কিন্তু সত্যব্রত বলেন, ‘‘মাইথন ও পাঞ্চেতে পলি সংস্কার করতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ৷ পাঁচ বছর অন্তর অন্তর এই পলি সংস্কার করতে হবে৷ কেন্দ্রীয় জল কমিশনকে পলি সংস্কারের বিষয়টি জানানো হয়েছিল৷ টেকনিক্যালি এটা সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে৷’’ ডিভিসি কর্তার দাবি, ‘‘আমরা কার্যক্ষমতার ৩৬ শতাংশ নিয়ে কাজ করি৷ পুরো কর্মক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে হলে আরো তিনটি জলাধার তৈরি করতে হবে৷’’ এতো টাকা জোগাবে কে?

অডিও শুনুন 07:37

ডিভিসি একার সিদ্ধান্তে জল ছাড়ে না: সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

শুধু জলাধার নয়, যে সেচ ক্যানাল জল বহন করে, তাতেও জমেছে পলি৷ এক্ষেত্রেও সংস্কার প্রয়োজন৷ দুই লক্ষ কিউসেক জল যে ক্যানালের ধারণ করার কথা, জলাধার থেকে এক লক্ষ কিউসেক জল ছাড়তেই তা উপচে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে৷ সেচমন্ত্রী বলেন, ‘‘ক্যানাল পলিমুক্ত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রজেক্টের অধীনে কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যে৷’’

সমাধান কী

বন্যা থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে আশার আলো ক্ষীণ৷ নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাঁধগুলির আয়ু ৪০ বছরের বেশি নয়৷ ইউরোপের নদীর হিসেবে এই আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছিল নির্মাণের সময়৷ আদতে ভারতীয় নদীতে পলি জমে আরো বেশি৷’’ নয়া জলাধার তৈরির ভাবনা খারিজ করে তিনি বলেন, ‘‘বাঁধ দেওয়া মানে নদীর মৃত্যু৷ বিশ্বজুড়ে যেখানে বাঁধ ভেঙে নদীর গতিকে মুক্ত করা হচ্ছে, সেখানে নদীকে বেঁধে ফেললে সংকট বাড়বে৷’’ সুপ্রতিমের মতে, ‘‘অনেক সময়ই ছোট ছোট বন্যা বড় বন্যা আটকে দেয়৷ আর বন্যার সময়েই কেবল বাঁধ, পলি সংস্কার নিয়ে ভাবা হয়৷ ব্যাপারটা আঞ্চলিক সমস্যা হয়ে উঠেছে৷ সার্বিক পরিকল্পনা দরকার৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন