পশ্চিমবঙ্গে নতুন লকডাউন নিয়ে বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 21.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে নতুন লকডাউন নিয়ে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গে সপ্তাহে দুই দিন লকডাউনের কথা জানিয়েছে সরকার। যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

ফের লকডাউনের রাস্তায় হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ। তবে আগের মতো নয়। সপ্তাহে দুই দিন পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে যা বৃহস্পতিবার এবং শনিবার পালিত হবে। আগামী সপ্তাহে বুধবার লকডাউন থাকবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকটি দিন সপ্তাহের শুরুতে জানানো হবে। শুধু জুলাই নয়, অগাস্ট মাসেও একই নিয়ম চালু থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।

গত সপ্তাহে মুখ্যসচিব জানিয়েছিলেন রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও আপাতত পূর্ণ লকডাউনের রাস্তায় হাঁটবে না রাজ্য সরকার। কারণ তাতে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন। রেড জোনের সংখ্যা অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। রেড জোনে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার এক নতুন মডেলের কথা ঘোষণা করেন রাজীব সিনহা। তাঁর বক্তব্য, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক হয়েছে সপ্তাহে দুই দিন করে পূর্ণ লকডাউন চালু করা হবে। ওই দুই দিন সমস্ত কিছু বন্ধ থাকবে। অন্য দিনগুলিতে মানুষ কাজে যেতে পারবেন।

রাজীববাবু মেনে নিয়েছেন যে, রাজ্যের কোনও কোনও এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে জায়গাগুলির নাম তিনি জানাননি। এর দু'দিন আগেই ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর মেডিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছিল, দেশে করোনা ভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, সপ্তাহে দুই দিন লকডাউন ঘোষণা করে আদৌ কোনও লাভ হবে কি না। বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের মধ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। ডয়চে ভেলেকে আইসিএমআর এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চিকিৎসক সমরজিৎ জানা জানিয়েছেন, ''লকডাউন করে কোনও লাভ হবে না। এর আগেও হয়নি, এখনও হবে না। কারণ কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারই শুধুমাত্র লকডাউন ঘোষণা করেই দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। লকডাউন করে বাকি যে কাজগুলি করা দরকার, তা করা হচ্ছে না।'' সমরজিৎবাবুর বক্তব্য, লকডাউন করার অর্থ হলো সাধারণ মানুষকে ঘরে আটকে রেখে সংক্রমণ কমানো। ওই একই সময়ে যদি গোষ্ঠী ধরে ধরে টেস্ট করা যেত, তা হলে বোঝা যেত কত মানুষ আক্রান্ত। গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়েছে কি না। কিন্তু প্রায় দেড় মাসের লকডাউনে সে কাজ হয়নি। তার ফল এখন ভুগতে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন যে সপ্তাহে দুই দিন লকডাউন ঘোষণা করেছে, তাতেও কোনও লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন না। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োজনীয় টেস্ট এখনও হচ্ছে না বলেই তিনি মনে করেন।

সমরজিৎবাবুর সঙ্গে সহমত নন আর এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শংকরপ্রসাদ সরকার। তাঁর বক্তব্য, সপ্তাহে দুই দিন লকডাউন একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। ফলে এক কথায় বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা অঙ্ক কষে দেখিয়েছেন সপ্তাহে দুই দিন লকডাউন জারি রাখলে করোনার চেন ভাঙা সম্ভব। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নতুন এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে এখন অপেক্ষা করে দেখতে হবে যে শেষ পর্যন্ত এর থেকে ফল মেলে কি না। এখনই এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। শংকরপ্রসাদবাবুর কথায়, ''যে কোনও প্যানডেমিক যখন আসে তখন এমনটাই হয়। ট্রায়াল অ্যান্ড এরারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছন। এ বারেও সেই একই বিষয় ঘটছে।''

বস্তুত, চেন্নাই, গুয়াহাটি, বেঙ্গালুরু, লাদাখের লে সর্বত্রই সপ্তাহে একদিন বা দুই দিন লকডাউনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চেন্নাইয়ে এর ফলে খানিক লাভ হয়েছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পার্থপ্রতিম বোস অবশ্য সম্পূর্ণ অন্য একটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, লকডাউনে করোনার চেন ভাঙে এ কথা সত্য। কিন্তু লকডাউন ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব সরকার এবং সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে কলকাতায় লকডাউন ঠিকমতো পালনই করা হয় না বলে তাঁর অভিযোগ। লকডাউনের মধ্যেও মানুষ চায়ের দোকানে আড্ডা মারেন, বাজারে যান। ফলে যে কারণে লকডাউন ঘোষণা, সেই লাভটাই শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। পার্থপ্রতিমবাবুর বক্তব্য, এ বারেও যদি সে ভাবেই লকডাউন হয়, তা হলে অদূর ভবিষ্যতে কোনও লাভ হবে বলে তিনি মনে করছেন না।

সরকার অবশ্য জানিয়েছে, নতুন লকডাউনে পুলিশ এবং প্রশাসন সতর্ক থাকবে। লকডাউন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন