পশ্চিমবঙ্গে কেন লোকালয়ে এত ঘনঘন বাঘ চলে আসছে? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.01.2022
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে কেন লোকালয়ে এত ঘনঘন বাঘ চলে আসছে?

গত কয়েক সপ্তাহে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে ত্রাস ছড়িয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার৷ বারবার জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বাঘ৷ এতে হতাহত হচ্ছে মানুষ, গৃহপালিত পশু৷ কেন ঘনঘন বাঘ চলে আসছে গ্রামে?

বাঘ যাতে গ্রামে ঢুকে না পরে সেজন্য নানা চেষ্টা চালাচ্ছে বনদপ্তর

বাঘ যাতে গ্রামে ঢুকে না পরে সেজন্য নানা চেষ্টা চালাচ্ছে বনদপ্তর

গত দুই দশকের হিসাব দেখলে বোঝা যাবে, বাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে৷ ২০০০ সাল থেকে প্রথম দশকে গড়ে বাৎসরিক মৃত্যু ২২-২৩ জনের৷ ২০১০ থেকে পরের দশকে এই সংখ্যাটা নেমে আসে ৮-৯ জনে৷ সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে দক্ষিণ ২৪ পরগনার যে তিনটি ব্লকে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাঘের হামলার শিকার হয়, সেগুলি হলো গোসাবা, কুলতলি ও বাসন্তী৷ সবচেয়ে বেশি বাঘের হামলার খবর গোসাবা থেকে পাওয়া যায়৷ গত বুধবার জনপদে ঢুকে পড়া একটি বাঘ বনকর্মীরা খাঁচায় ভরেছে৷ শেষ আড়াই মাসে বাঘের গ্রামে অনুপ্রবেশের ঘটনা দশেরও বেশি৷ ফলে সুন্দরবনের এই তিনটি ব্লকে এখন ভরপুর আতঙ্ক৷

অডিও শুনুন 02:41

সুন্দরবনের জঙ্গল আরও ঘনত্বপ্রাপ্ত হয়েছে, ফলে শিকার বাঘের চোখে পড়ছে না: প্রণবেশ সান্যাল

এর আগেও বারবার লোকালয়ে এসে পড়েছে বাঘ৷ এটা বাঘের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলেই বিশেষজ্ঞদের দাবি৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অংশে গত নভেম্বর মাস থেকে অপেক্ষাকৃত ঘনঘন রয়েল বেঙ্গল ঢুকে পড়েছে গ্রামে৷ কোথাও বাঘের হামলায় গ্রামবাসী বা মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে, কোথাও গৃহপালিত পশু মারা পড়ছে৷ একাধিক বিশেষজ্ঞ এজন্য বাঘের খাদ্যাভাবকে দায়ী করেছেন৷ বিভিন্ন কারণে বনাঞ্চলে খাদ্যের অভাব হতে পারে৷ ‘ইন্টারন্যাশানাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার' সংগঠনের দীর্ঘদিনের ক্যাট স্পেশ্যালিস্ট প্রণবেশ সান্যাল বলেন, ‘‘সুন্দরবনের জঙ্গল আরও ঘনত্বপ্রাপ্ত হয়েছে, ফলে শিকার বাঘের চোখে পড়ছে না৷ বাঘ যদি বুড়ো হয় তাহলে সমস্যা আরো বেশি৷ অথচ সেই বাঘ নদীর ওপারে ফাঁকা জমিতে গবাদি পশু চরতে দেখছে৷ সেগুলি ধরতে লোকালয়ে চলে আসছে৷’’ শুধু সেটাই কি রয়্যাল বেঙ্গলের লোকালয়ে ঘনঘন এসে পড়ার কারণ?

বাঘ যাতে গ্রামে ঢুকে না পরে সেজন্য জাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বনদপ্তর৷ কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক জায়গায় জাল ছিন্ন হয়ে গেছে৷ তার ফাঁক গলে শিকারের সন্ধানে থাকা বাঘ লোকালয়ে চলে আসছে৷ ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফান্ড ফর নেচার, ডাব্লিউডাব্লিউএফ সুন্দরবন প্রোগ্রামের অধিকর্তা অনামিত্র অনুরাগ দণ্ড মনে করেন, ‘‘হতে পারে জাল মানুষই নষ্ট করেছে, জালগুলো পরীক্ষা করে দেখা দরকার৷ এছাড়া জঙ্গলে বাঘের জায়গা বাড়ছে না, বংশবৃদ্ধি হলে তারা ছড়িয়েছিটিয়ে যাবেই৷’’ 

অডিও শুনুন 03:31

লোকালয়ে বাঘ না বাঘিনী হাজির হচ্ছে, সেটাও জানাতে হবে: শিবাজী ভট্টাচার্য

রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অবশ্য খাদ্যাভাবের কারণটি নাকচ করেছেন৷ তার মতে, খাবারের অভাব হয়নি৷ এটা বাঘের বংশবিস্তারের সময়৷ তাই সঙ্গীর খোঁজে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়৷ সেই ফাঁকে বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে৷ এই দাবির সমর্থনে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, ‘‘এটা বাঘের প্রজননের সময়৷ বাঘ বা বাঘিনীর বয়স বেশি হলে তাকে তার রাজত্ব থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়৷ তবে এটাই একমাত্র কারণ নাও হতে পারে৷'' নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণে বাঘ লোকালয়ে চলে আসে না৷ অনেকগুলি কারণ এর পেছনে থাকতে পারে৷ এমনটাই মনে করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহকারী অধিকর্তা শিবাজী ভট্টাচার্য৷ তিনি বলেন, ‘‘লোকালয়ে বাঘ না বাঘিনী হাজির হচ্ছে, সেটাও জানাতে হবে৷ বাঘিনী এই মৌসুমে বাঘকে আহ্বান করে৷ কোনো বাঘ তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বাঘিনীকে তাড়িয়ে বের করে দেয়৷ বাঘিনীকে নিজের বাসস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হয়৷ স্থানান্তরের সময় গ্রামে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকেই৷’’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পে বনাঞ্চলের সীমানা নির্দিষ্ট৷ কিন্তু সুন্দরবনের ক্ষেত্রে তা নয়৷ সুন্দরবনের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সঙ্গে বাঘের বিচরণভূমি কমে যায়৷ একটি বাঘের জন্য দশ বর্গ কিলোমিটার বাসস্থান দরকার হয় ডাঙায়৷ সেটা সুন্দরবনে সবসময় পাওয়া যায় না৷ এমনকি যাত্রিবাহী ভেসেল, মাছ ধরার ট্রলার ঢুকে পড়েও বাঘকে বিরক্ত করতে পারে৷ একই বাঘ নাকি আলাদা বাঘ বেরোচ্ছে সেটাও দেখতে হবে৷ শিবাজী বলেন, ‘‘পাশাপাশি প্রাণীটি কতটা সুস্থ বা বয়স্ক, সেটাও জানা দরকার৷ বাঘ অসুস্থ বা বৃদ্ধ হলে জঙ্গলে শিকার ধরতে পারে না৷ তখন লোকালয়ে এসে তাকে সুলভ শিকারের ব্যবস্থা করতে হয়৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও