পশ্চিমবঙ্গে কেন বিজেপির উত্থান? | বিশ্ব | DW | 18.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে কেন বিজেপির উত্থান?

পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে পদ্ম৷ চলতি লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে বিজেপি৷ বিভাজনের রাজনীতি, না রাজ্যে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা, কোন কারণে মোদী বাহিনীর এই উত্থান?

দুজন সাংসদ রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে৷ বিধায়কের সংখ্যাও মাত্র তিন৷ তা সত্ত্বেও ভোটের ফল প্রকাশের আগে এই রাজ্যে কার্যত দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তির মর্যাদা পেয়ে গিয়েছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর দলকেই৷ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বাংলায় তার দল কমপক্ষে ২৩টি আসনে জিতবে বলে দাবি করেছেন৷ এই দাবির সারবত্তা বোঝা যাবে ২৩ মে ফল বেরোলে৷ কিন্তু, তার আগেই বিজেপির উত্থান নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে৷ এর পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা৷

বিভাজনের রাজনীতি

তৃণমূল, বাম, কংগ্রেস-সহ দেশের অধিকাংশ দলের অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে৷ হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও তার রাজনৈতিক সহযোগী বিজেপির প্রধান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ৷ এই রাজনীতি অন্য রাজ্যের মতো অবশেষে পশ্চিমবঙ্গেও সাফল্যের মুখ দেখতে চলেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 04:08

‘তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের সংগঠন অনেক জায়গায় দুর্বল হয়েছে’

শক্তিশালী বিরোধী শক্তির অভাব

কংগ্রেস নেতা-কর্মী-বিধায়করা গত কয়েক বছরে দলে দলে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন৷ বামেরাও ক্রমশ দুর্বল হয়েছে৷ দাপট বাড়িয়েছে তৃণমূল৷ রাজনীতিতে বিরোধী স্থান শূন্য থাকে না৷ তাই বাম ও কংগ্রেসকে টপকে চতুর্থ থেকে দ্বিতীয় শক্তির দিকে উত্থান হচ্ছে বিজেপির৷ দুর্বলতার কথা স্বীকার করে সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের সংগঠন অনেক জায়গায় দুর্বল হয়েছে৷ ভয় দেখিয়ে, ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে নেতাদের৷ তাই সমর্থকদের একটা অংশ মনে করছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমরা লড়াইয়ের জায়গায় নেই৷ বিজেপি সেই সুযোগটা নিচ্ছে৷''

সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট প্রায় ৩০ শতাংশ৷ এদের সিংহভাগই তৃণমূলের সমর্থক৷ বিজেপির অভিযোগ, ভোটের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু তোষণ করছেন, সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন৷ বিজেপির এই প্রচার সংখ্যাগুরুদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের৷ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তৃণমূলের লক্ষ্য মুসলিম ভোট৷ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথাবার্তা, পোশাক, আচরণে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন৷ এমনকি তিন তালাক প্রথা বাতিলেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি৷ বসিরহাটের প্রার্থী নুসরাত জাহান তিন তালাকের বিরোধিতা করেছিলেন৷ সেখানে প্রচারে গিয়ে মমতা বলেছেন, নুসরাত বাচ্চা মেয়ে৷ আমরা তিন তালাকের বিরোধী নই৷ এটা সংখ্যাগুরুরা ভালো চোখে দেখছেন না৷''

তৃণমূলের নিচুতলায় দুর্নীতি

শাসক দলের তাবড় নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে৷ নারদ তদন্তে গোপন ক্যামেরায় টাকা নিতে দেখা গিয়েছে অনেককে৷ এই বিচারাধীন মামলাগুলির থেকে তৃণমূলের বেশি মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি ও উৎকোচ৷ নিচুতলার তৃণমূল কর্মীরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিতে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ৷ স্কুল-কলেজে ভর্তি থেকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হচ্ছে৷ এর সঙ্গে রয়েছে উদ্ধত আচরণ, দুর্ব্যবহার৷

অডিও শুনুন 01:42

‘আমাদের নেতাদের কিনে নিয়েছে তৃণমূল’

এর ফলে জঙ্গলমহলসহ বিভিন্ন জেলায় বিজেপি গত বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল করেছে৷ এর মধ্যে অনেক স্থানেই সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি নগণ্য, মেরুকরণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ফলে বিজেপি ভালো ফল করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এই ত্রুটি স্বীকার করে নেন পুরুলিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মৃগাঙ্ক মাহাতো৷ পেশায় চিকিৎসক মৃগাঙ্ক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একশ্রেণির কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ছিল৷ সে কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়৷ তার প্রতিফলন পঞ্চায়েত ভোটে দেখা গিয়েছে৷ তবে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি৷ দল অনেককে এ জন্য বহিষ্কার করেছে৷''

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল তৃণমূল৷ যেখানে ভোট হয়েছে, তার অধিকাংশ স্থানে গ্রামীণ জনতা ভোট দিতে পারেনি বলে অভিযোগ৷ একটা বড় অংশের মানুষ তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ৷ তাদের ভোট শাসকদলের বিরোধী হিসেবে বিজেপির দিকে যেতে পারে৷

নেতা কেনে তৃণমূল?

কেন্দ্রে সরকারে আগ্রাসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তিনি পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন৷ তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে সরাসরি তাঁর দ্বৈরথ৷ শাসক দলের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংঘাত হচ্ছে চতুর্দিকে৷ অর্থাৎ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ার মতো ক্ষমতাধর বলে বিজেপি প্রতিষ্ঠা পেয়ে গিয়েছে৷ তাই বাম ও কংগ্রেস সমর্থকরা মোদী বাহিনীর দিকে ঝুঁকছেন৷ তাঁরা মনে করছেন, তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিতে পারে বিজেপিই৷ মুর্শিদাবাদ, মালদার মতো পুরুলিয়াতেও কংগ্রেসের এখনো সংগঠন টিকিয়ে রেখেছে৷ জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো নিজেই এবার পুরুলিয়া কেন্দ্রে দলের প্রার্থী৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মানুষ তৃণমূলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ৷ তারা চাইছে যে কোনোভাবে তৃণমূলকে হারাতে৷ জনতা মনে করছে, শাসককে হারানোর জোর বিজেপিরই রয়েছে৷ তাই তারা পঞ্চায়েতে কংগ্রেস, বামের বদলে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে৷ আমাদের নেতাদের কিনে নিয়েছে তৃণমূল৷ সাংগঠনিক দুর্বলতার এই সুযোগ পুরো নিয়েছে ওরা৷ সে দিক থেকে আমরা ব্যর্থ তো বটেই৷''

অডিও শুনুন 11:18

‘মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণে বোঝাচ্ছেন, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’

গণতান্ত্রিক পরিসরের সঙ্কোচন

বিরোধীরা অহরহ অভিযোগ তোলে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে৷ পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বিরোধী কন্ঠের স্বর ক্রমশঃ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তৃণমূলের আমলে৷ এর প্রতিবাদে কবি শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন, ‘‘দেখ খুলে তোর তিন নয়ন/ রাস্তা জুড়ে খড়গ হাতে/ দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন৷'' এই পরিস্থিতিতে অনেকে বিজেপির হাত ধরছেন৷ অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দের মতে, ‘‘তৃণমূল উন্নয়ন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না৷ এমনটাই বার্তা দেওয়া হচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণে বোঝাচ্ছেন, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত্৷ বিরুদ্ধাচরণ তিনি বরদাস্ত করবেন না৷'' 

সব মিলিয়ে বিজেপির ভোট এ বার অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে৷ সেই বৃদ্ধি কতটা হবে, তার উপর নির্বাচনের ফল অনেকটাই নির্ভর করছে৷

 

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন