পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেনের এত দাম? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 01.05.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেনের এত দাম?

কলকাতায় করোনায় নিহতের অনেকেরই অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু৷ যে কারণে অক্সিজেন সঙ্কট আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করে হচ্ছে৷ তার জেরে কালোবাজারিও বাড়তে পারে বলে অনুমান৷

ফাইল ছবি৷

ফাইল ছবি৷

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা৷ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার ফলে হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়বে৷ সেক্ষেত্রে এমন রোগীদের অক্সিজেনের জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে৷ চিকিৎসকেরা বলছেন, করোনা ভাইরাস ফুসফুসে যে প্রদাহ তৈরি করে, তাতে বায়ুথলিতে (অ্যালভিওলাই) রক্ত চলাচল বাধা পায়৷ ফলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের আদান-প্রদান ব্যাহত হয় এবং অক্সিজেনের ঘাটতি ধরা পড়ে৷ এমন পরিস্থিতিতে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দিতে হয় রোগীকে৷ কিন্তু এই মহামারির মধ্যে বাজারে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সঙ্কট৷ অনেক ওষুধের দোকানই এখন অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করতে চাইছেন না বলে অভিযোগ৷ আর এ সুযোগে শুরু হয়েছে কালোবাজারি৷

৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা

হলদিয়ার সুপ্রিয় শাসমল তার কোভিড আক্রান্ত মায়ের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার চেয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন৷ কোথাও সিলিন্ডার পাননি৷ আবার উত্তর কলকাতার অনুসূয়াদে-র কাছ থেকে সিলিন্ডারের জন্য যে পরিমাণ মূল্য চাওয়া হয়েছে, সেটা জোগাড় করার আগেই রোগীর মৃত্যু ঘটে৷

কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাতে টাকা থাকলেও মিলছে না সিলিন্ডার‍৷ এ চিত্র কমবেশি সর্বত্র৷ সঙ্কট আঁচ করতে এক অক্সিজেন সরবরাহকারীর সঙ্গে কথা বলে ডয়চে ভেলে৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সরবরাহকারী জানান, সিলিন্ডারের জন্য জমা রাখতে হবে ২০ হাজার টাকা৷ ইনস্টলেশন খরচ পাঁচ হাজার আট'শ টাকা৷ দৈনিক ভাড়া ১৫০ টাকা৷

অডিও শুনুন 02:11

‘অক্সিজেন সরবরাহ পর্যাপ্ত নেই’

প্রশ্ন হলো এই বিপুল টাকা কীভাবে জোগাড় করবেন সাধারণ মানুষ? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, কালোবাজারির জেরে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে সিলিন্ডারের৷ ১৫০০ লিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার সাধারণত হাজার তিনেক টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়৷ মাসে একবার রিফিল-এর খরচ আড়াইশো টাকা৷আর এখন এর জন্য এখন দিতে হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা৷ ডি-টাইপ সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে খরচ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের দশগুণ৷

বাম যুবদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ভলান্টিয়ার্স-এর সদস্য ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অক্সিজেন সরবরাহ পর্যাপ্ত নেই৷ এ ছাড়া মেডিক্যাল অক্সিজেন প্লান্ট-এ পূর্ণমাত্রায় এর উৎপাদন হচ্ছে না অক্সিজেন৷'' যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলিও কোভিড চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে৷

তবে রাজ্য সরকারের দাবি, তাদের হাতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন রয়েছে৷ শীর্ষ আদালতে হলফনামায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, রাজ্যের অক্সিজেন উৎপাদন ক্ষমতা ৪৯০ মেট্রিকটন৷ এখন ৩৬২ মেট্রিকটন উৎপাদন হচ্ছে৷ রাজ্যের বর্তমান চাহিদা ২৫০ মেট্রিক টন৷ তবে জুনে এই চাহিদা ৬০০ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে৷ তখন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার অভিযোগ করেছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০০ মেট্রিকটন অক্সিজেন বাংলার প্লান্ট থেকে অন্য রাজ্যে সরবরাহ করছে৷ সংক্রমণের ঊর্ধগতির এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যসচিব৷

উল্লেখ্য, হিসাবে অনুযায়ী, শুক্রবার রাজ্যে সংক্রমণ ১৭ হাজারের বেশি৷

অডিও শুনুন 03:02

‘কেন অর্থের বিনিময়ে মানুষকে অক্সিজেন কিনতে হবে?’

কালোবাজারি ঠেকাতে কী করছে প্রশাসন?

এদিকে অক্সিজেনের কালোবাজারি ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রশাসন৷ তৈরি হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ-এর বিশেষ দল৷ তারা ওষুধের দোকান থেকে গুদামে মজুত অক্সিজেন সিলিন্ডারের হিসেব নিচ্ছে বলে জানা গেছে৷ তৈরি করা হয়েছে তিন স্তরের কন্ট্রোল রুম৷ প্রথম স্তরে তিন শিফটে থাকবেন ১২ জন অফিসার৷ দ্বিতীয় স্তরে থাকবেন ড্রাগ কন্ট্রোলার ও সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরের অফিসাররা৷ আর তৃতীয় স্তরে থাকবেন পুলিশ, পরিবহণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা৷ অক্সিজেনের অপচয় রুখতে দেওয়া হয়েছে নতুন গাইডলাইন৷ কখন অক্সিজেন চালু করতে হবে, কখন বন্ধ করতে হবে, কখন ও কোন পরিস্থিতিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে হবে এর সবই বলা হয়েছে সেই গাইডলাইনে৷ আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া মেডিক্যাল অক্সিজেন বিক্রি না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে৷ 

এদিকে শনিবার থেকে রাজ্যে চালু হয়েছে অক্সিজেন পার্লার‍৷ এ ধরনের উদ্যোগের কতটা সুফল পাবে মানুষ? ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মী ডাক্তার কৌশিক চাকিরর প্রশ্ন, ‘‘প্রথম ঢেউয়ের পর এত মাস সরকার সময় পেয়েছে৷ এখন অক্সিজেন নিয়ে কালোবাজারি হচ্ছে কেন? কেন অর্থের বিনিময়ে মানুষকে অক্সিজেন কিনতে হবে?’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়