পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটে বাড়িতে আগুন, মৃত অন্তত আট | বিশ্ব | DW | 22.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটে বাড়িতে আগুন, মৃত অন্তত আট

পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাট অগ্নিগর্ভ৷ এক তৃণমূল নেতা খুন হওয়ার পর একাধিক বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। পুড়ে মৃত অনেকে।

সোমবার রাত থেকে অগ্নিগর্ভ বীরভূমের রামপুরহাট৷ জ্বলছে একের পর এক বাড়ি৷ রাতেই অগ্নিদগ্ধ কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, রাতেই মৃত্যু হয়েছে একজনের। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, রাতে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আরো সাতজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার৷ এলাকার তৃণমূল নেতা তথা রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হন৷ স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে তিনি বসেছিলেন৷ সে সময় একদল দুষ্কৃতী ওই চায়ের দোকানে এসে বোমা ছোঁড়ে বলে অভিযোগ৷ রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ এরপরেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে৷

পুলিশের বক্তব্য

অভিযোগ, বগটুই গ্রামে পর পর বাড়িতে আগুন লাগানো হয়৷ পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে একটি বাড়ি থেকে সাতজনের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ স্থানীয় মানুষ জানিয়েছেন, সোমবার রাতে অন্য একটি বাড়ি থেকে তিনজনের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজ্য পুলিশের ডিজি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাতে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকিরা হাসপাতালে ভর্তি। এখনো পর্যন্ত ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দমকল সকালে জানিয়েছিল, সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় আরেকটি সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। প্রশাসন এখনো সম্পূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না। স্থানীয় সূত্র ডিডাব্লিউকে জানিয়েছে, রামপুরহাট হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে৷ তার মধ্যে এক যুবক, দুই নারী এবং একটি বাচ্চা আছে৷ 

তৃণমূলের দাবি

ঘটনার পরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ বীরভূমে তৃণমূলের নেতা অনুব্রত মন্ডল বলেন, ‘‘টিভি ফেটে আগুন লেগে গেছিল বলে শুনেছি৷ আমি ঘটনাস্থলে যাইনি৷ ফলে বাকিটা বলতে পারব না৷’’ এরপরেই অবশ্য অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভাদু শেখ খুনের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে৷ পুলিশ সুপার অবশ্য খুনের ঘটনার সঙ্গে আগুন লাগার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি৷ তিনি বলেছেন, তদন্ত শুরু হয়েছে৷ কীভাবে আগুন লাগলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা থেকে ঘটনাস্থলে রওনা হন বীরভূমের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূলের নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ হেলিকপ্টারে বীরভূমে পৌঁছান তিনি৷ বেলার দিকে রামপুরহাট রওনা হন অনুব্রত মন্ডলও৷ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় থানার ওসি-কে ক্লোস করা হয়েছে৷ বদলি করা হয়েছে স্থানীয় এসডিপিও-কে৷

সিপিএম এবং বিজেপির বক্তব্য

এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন রাজ্য সিপিএম-এর নতুন সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাওয়া হয়েছে৷ সিপিএমের প্রতিনিধিদল এলাকায় যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডলকে আক্রমণ করে সেলিমের বক্তব্য, ''যার মাথায় অক্সিজেন কম আছে বলে তৃণমূল প্রচার করে, তিনি বললেন টিভি ফেটে এই ঘটনা ঘটেছে। মমতা বলেছিলেন, রাজ্য বিরোধীশূন্য করতে হবে। সেই খেলাই আমরা দেখছি।'' সেলিমের অভিযোগ, রাজ্যের সর্বত্র খুন হচ্ছে। বোমা পড়ছে। ভাদু শেখ খুন হয়েছেন তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্য, তৃণমূল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট শুরু করে দিয়েছে। পুলিশ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে ঘটনা। কিন্তু এভাবে সত্য চেপে রাখা যাবে না।

অন্যদিকে ঘটনা ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা৷ মুখ্যমন্ত্রীর জবাব চেয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিরোধী বিধায়কেরা৷ বিজেপি নেতা এবং বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী টুইট করে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দেখা করবে বিজেপির প্রতিনিধি দল। সব মিলিয়ে রামপুরহাটের ঘটনা কার্যত গোটা রাজ্য জুড়েই উত্তাপ ছড়িয়েছে৷ 

এসজি/জিএইচ (পিটিআই, সিপিএমের সাংবাদিক বৈঠক, পুলিশ সুপারের বিবৃতি)