পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোদীর হাজার কোটি | বিশ্ব | DW | 22.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোদীর হাজার কোটি

আকাশপথে পশ্চিমবঙ্গের আমফান বিধ্বস্ত এলাকা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর রাজ্যের জন্য প্রাথমিকভাবে এক হাজার কোটি টাকা দিলেন। 

মাইলের পর মাইল এলাকা ডুবে আছে জলে। যেখানে বাড়ি ছিলো, চাষের জমি ছিলো, তা জলে ভরা। শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। আকাশপথে পশ্চিমবঙ্গের আমফান বিধ্বস্ত এলাকার এই ছবি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ তা ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে দেখে ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর বসিরহাটে নেমে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মোদীর ঘোষণা, প্রাথমিকভাবে রাজ্যকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। এটা অ্যাডভান্স বা আগাম। যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন। রাজ্যে এ পর্যন্ত আমফানের কারণে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রাজ্য সরকার পরিকাঠামো, ত্রাণ, বিদ্যুৎ, পানীয় জলের অবস্থার কথা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে। কেন্দ্রীয় দল এসেও দেখবে। তারপর কেন্দ্রীয় সরকার আবার টাকা দেবে রাজ্য সরকারকে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, পুরো দেশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আছে। এই বিপদের সময় রাজ্যকে সবরকম সাহায্য করা হবে।

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেছেন, আমফান বিধ্বস্ত এলাকার যে ভিডিও এবং ছবি তিনি দেখেছেন, তাতে তাঁর চোখে জল চলে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এখনও কথা হয়নি। 

তবে প্রাথমিকভাবে যে টাকাটা দিয়েছেন মোদী, তার পরিমাণ খুব বেশি নয়। রাজ্য সরকার নিজেই চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল তৈরি করেছে। তবে মোদী বলেছেন, এটা প্রাথমিক সাহায্য। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আরও টাকা দেওয়া হবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এ নিয়ে প্রচুর টানাপোড়েন হয়। রাজনীতি চলে। করোনার সময়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ সামনে এসেছে। রাজনীতি করার অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছেন, আমফান নিয়ে যেন রাজনীতি করা না হয়। মানবিক দৃষ্টিতে যেন সবকিছু দেখা হয়।

আমফান ও করোনার প্রসঙ্গ ছাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রধানমন্ত্রী বসিরহাটে আরেকটি বিষয়ে কথা বলেছেন। মোদী বলেন, ''আজ রাজা রামমোহন রায়ের জন্মদিন। আমি চাইব, তিনি আশীর্বাদ করুন, যাতে এই অবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি। আর রামমোহন যেমন বলেছেন, সেরকম সময়ানুকূল সমাজ পরিবর্তন দরকার, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কাজ করা দরকার।'' অর্থাৎ, এই অবস্থাতেও রাজা রামমোহনের প্রসঙ্গ তুলে পরিবর্তনের কথাটা বলে গেলেন মোদী।

বিজেপি নেতারা অবশ্য বারবার করে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের কাছে রাজনীতি আলাদা জায়গায়, প্রশাসনিক সাহায্য আলাদা জায়গায়। মুখ্যমন্ত্রী বলার পরেই প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। তিনি সাহায্য করবেন। পশ্চিমবঙ্গের পাশে দাঁড়াবেন। এ নিয়ে কোনও রাজনীতি হবে না। মোদী নিজেও বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কাজেরও প্রশংসা করেছেন।

দমদম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীরবিমান নামে বেলা পৌনে এগারোটা নাগাদ। তারপর সেখান থেকেই হেলিকপ্টার করে বিধ্বস্ত এলাকা দেখেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা ম্যাপ তৈরি করেছিলেন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোন কোন এলাকায় তাঁরা ঘুরবেন তা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজারহাট, ভাঙড়, থেকে শুরু করে সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, গোসাবা, কুলতলি, মিনাখাঁ হয়ে বসিরহাটে গিয়ে যাত্রাশেষ হবে। এই এলাকাগুলির অবস্থা খুবই খারাপ।

ডিডি নিউজের চিত্রগ্রাহক প্রতিনিধি ছিলেন ওই হেলিকপ্টারে। তাঁর তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর কোলে রাখা ম্যাপ। হাতে আই প্যাড। মাঝে মাঝে তিনি ম্যাপ দেখছেন। আবার বাইরে তাকাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী তো বাইরের অবস্থা এক মনে দেখে যাচ্ছেন। একবারের জন্যও চোখ অন্যদিকে ফেরাচ্ছেন না। যে এলাকাগুলি তাঁরা দেখেছেন, সেখানে অনেক জায়গায় লোকালয় ভরে গিয়েছে জলে। ব্রিজ ভেসে গিয়েছে। গাছ যে কত পড়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বিদ্যুতের খুঁটি কমই অবশিষ্ট রয়েছে। সড়কপথে অনেক এলাকায় যাওয়া যাচ্ছে না। লোকে আশ্রয়শিবিরে।

এক ঘণ্টা ধরে হেলিকপ্টারে ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি দেখার পর বসিরহাটে পৌঁছন মোদী, মমতা, ধনখড়। শুরু হয় বৈঠক। সেখানে মুখ্যসচিব ছাড়া জেলাশাসকরাও ছিলেন। ছিলেন প্রশাসনের কিছু কর্তা। আবার বাবুল সুপ্রিয়, দেবশ্রী চৌধুরীর মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও বসিরহাটে ডেকে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। 

বসিরহাটে এক ঘণ্টা দশ মিনিট ধরে বৈঠক করার পর মোদী গেলেন ওড়িশায়, আমফানের প্রভাব দেখতে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেমে গেলেন দমদম বিমানবন্দরে। শনিবার আবার তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বিশেষ করে সুন্দরবনের এলাকা দেখবেন। তার আগে শুক্রবার তিনি যোগ দেবেন সনিয়া গান্ধীর ডাকা বিরোধী নেতাদের ভিডিও বৈঠকে।

জিএইচ/এসজি(ডিডি নিউজ, আবাপ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন