‌পশ্চিমবঙ্গেও রোকেয়া পুরস্কার | বিশ্ব | DW | 11.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌পশ্চিমবঙ্গেও রোকেয়া পুরস্কার

বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখিকা, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং নারী অধিকারের অন্যতম প্রবক্তা বেগম রোকেয়ার স্মৃতিতে উৎসর্গীকৃত উৎসব৷ হবে কলকাতায়, আগামী সপ্তাহে৷

default

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে স্থাপিত বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য

সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাস আর অশান্তির চলতি সময়ে দাঁড়িয়ে এমন একটা উৎসবের সূচনা করার যে বিশেষ দরকার ছিল, এ নিয়ে তর্কের কোনো অবকাশ নেই৷ পশ্চিমবাংলার সমাজ সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠন ‘‌পাশে আছি’ এই উৎসবের উদ্যোক্তা, যা নিবেদন করা হচ্ছে বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখিকা, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও নারী অধিকারের অন্যতম প্রবক্তা বেগম রোকেয়ার স্মৃতিতে৷ আগামী ১৮ ডিসেম্বর কলকাতার সল্ট লেকের পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বা ইজেডসিসি-র ঐকতান মঞ্চে হবে রোকেয়া স্মৃতি পুরস্কার প্রদান৷ সাহিত্যে এবং সমাজে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন, সম্প্রীতিমূলক দৃষ্টান্ত গড়েছেন এমন দু'জনকে দেওয়া হবে বেগম রোকেয়ার নামাঙ্কিত এই সাহিত্য এবং সমাজসেবার পুরস্কার৷

প্রথম বছরে এই পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলা গদ্য-সাহিত্যের নবীন কথক তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়৷ চলতি বছরের একুশ শতক পত্রিকার শারদ সংখ্যায় তাঁর লেখা একটি ছোট গল্পের জন্য, যে গল্প সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সচেতন করে৷

কীভাবে হয় এই নির্বাচন?‌ পাশে আছি সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা সন্দীপ নট্ট ডয়চে ভেলেকে জানালেন, তাঁরা নিজেরাই একটি নির্বাচক মণ্ডলী গড়েছেন, যার সদস্যরা চলতি বছরে প্রকাশিত বেশ কিছু গল্পের মধ্যে থেকে ১৫টি গল্প প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছিলেন৷ তার পর সহমতের ভিত্তিতে বেছে নেওয়া হয়েছে তমালের গল্পটি, যা এই অস্থির সময়ে কিছুটা আলোর সন্ধান দেবে বলে তাঁদের বিশ্বাস৷ এর পাশাপাশি এই বছর তাঁরা সামাজিক সম্মান জানাবেন ইশরাত জাহানকে, তিন তালাকের বিরুদ্ধে যাঁর দায়ের করা মামলায় এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট৷ সেই সঙ্গে তিন তালাক প্রথা নিয়ে সামাজিক অভিজ্ঞতা এবং আইনি লড়াইয়ের কথা বলবেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং অধ্যাপিকা আফরোজা খাতুন৷ তিন তালাক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ডয়চে ভেলেকেও একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন আফরোজা৷

অডিও শুনুন 06:24
এখন লাইভ
06:24 মিনিট

‘তমালের গল্পটি এই অস্থির সময়ে কিছুটা আলোর সন্ধান দেবে’

এছাড়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার বলবেন বেগম রোকেয়ার জীবন ও কাজ সম্পর্কে৷ অধ্যাপিকা মীরাতুন নাহার বলবেন দেশপ্রেমিক বেগম রোকেয়া সম্পর্কে৷ সন্দীপ নট্ট জানাচ্ছেন, তাঁরা তাঁদের সংস্থা সম্পর্কে বলেন, এটি হল সম্প্রীতির উন্মুক্ত প্রাঙ্গন৷ বাস্তবেও তাঁরা সামাজিক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি খোলা মঞ্চ গড়ে তুলতে প্রয়াসী৷ যে মঞ্চ থেকে সম-মনোভাবাপন্ন লেখক, কবি, শিল্পীরা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন৷ সাহিত্যিক শ্রী অমর মিত্র, নাট্যকার চন্দন সেন যুক্ত আছেন এই উদ্যোগে৷ উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা জুগিয়ে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখিকা সেলিনা হোসেন৷ ঠিক যেমন শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আগ্রহ দেখিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ৷ পাশে আছি এক সাহিত্য আন্দোলনও বটে, যেখানে সমকালীন বাংলা সাহিত্যকে একত্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এই অনুষ্ঠানের প্রকাশিত হবে ওদের ষান্মাষিক সাহিত্যপত্র ‘‌আপন পাঠ'‌-এর একটি সংখ্যা, যেটি, বলা বাহুল্য যে সাম্প্রদায়িকতার বিপদের বিরুদ্ধেই আওয়াজ তুলবে৷ বাংলার দুই বিশিষ্ট প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার, ‘‌মিত্র ঘোষ’-এর সবিতেন্দ্রনাথ রায় এবং ‘‌গাঙচিল’ সংস্থার সুধীর দত্ত থাকবেন উৎসাহ দিতে৷ আরও একটি উল্লেখ করার মতো বিষয় যে বিনোদ ঘোষাল, শমীক ঘোষের মতো বাংলার নবীন এবং প্রতিশ্রুতিবান লেখকেরা যুক্ত হয়েছেন এই মহতি উদ্যোগে৷ এবং উদ্যোক্তা সন্দীপ নট্ট জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের সঙ্গেও সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক সমান্তরাল উদ্যোগ তাঁরা ইতোমধ্যেই নিয়েছেন৷

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও