পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করতে চান নেতানিয়াহু | বিশ্ব | DW | 04.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মধ্যপ্রাচ্য

পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করতে চান নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার আবারও গাজায় কয়েক হাজার নতুন বসতি নির্মাণের কথা বলেছেন৷ পাশাপাশি বলেছেন, পশ্চিমতীরকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করতে চান তিনি৷

পশ্চিমতীরের একটি এলাকা সফরকালে এ কথা বলেছেন তিনি৷

মঙ্গলবার জেরুসালেম থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমতীরের শহর মালেহ আদুমিম সফর করছিলেন তিনি৷ সেখানেই ইসরায়েলের বসতি বাড়ানোর ঘোষণা দেন৷ বর্তমানে সেখানে ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করছে৷ তার এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন৷ এই ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল, গত আট মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন৷

কেবল নতুন বসতিই নয়, পশ্চিমতীরে নতুন ‘শিল্প এলাকা’ গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেছেন নেতানিয়াহু৷ সেখানকার উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন তার সব করা হবে এবং পশ্চিমতীরকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি৷ তবে ঠিক কবে থেকে এই উন্নয়ন কাজ শুরু হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী৷

সম্প্রতি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলছে৷ তাই গণমাধ্যমের রোষের মুখে পড়েছেন তিনি৷ এ অবস্থায় জনসমর্থন আদায়ে গত কয়েক সপ্তাহে তিনটি স্থানে দেয়া বক্তব্যে এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু৷

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা নাবিল শাদ বলেছেন, ‘‘এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য৷ এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু৷’’

ফিলিস্তিনের দাবি, ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়৷ ইসরায়েলের মানবাধিকার সংস্থা বি'টিসেলেম এর হিসেবে, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ইহুদি বাস করছেন৷ ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে যে পরিমাণ বসতি থাকার কথা বলা হয়েছিল এখন সেখানে তার প্রায় তিনগুণ বসতি আছে৷

ফিলিস্তিনে জাতীয় ঐক্যের সরকার:

ফাতাহ ও হামাস সমর্থিত ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আলোচনার জন্য গাজা সফর করছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ৷ কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দু'দেশের মধ্যে কোন চুক্তির জন্য এই সরকারে হামাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে দলটিকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে৷

নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর সরকার তখনই এই ঐক্য সরকার মেনে নেবে, যদি হামাস রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়, অস্ত্র প্রত্যাহার করে এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে ছিন্ন করে৷ ‘‘আমরা কোনো ধরণের ভুয়া ঐক্য সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত নই৷’’ নিজের দল লিকুদ দলের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন তিনি৷

বলাবাহুল্য, হামাস এবং ফাতাহ'র মধ্যে দীর্ঘকাল ধরেই রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল৷ ২০০৭ সালে দুই পক্ষের মধ্যকার এই বিরোধ সহিংস রূপ নেয়৷ ২০০৭ সাল থেকে গাজায় এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে৷ সেই সময় থেকে ইসরায়েল গাজাকে প্রায় অবরুদ্ধ করে দিয়েছে এবং অভিযোগ করে আসছে হামাস একটি জঙ্গি সংগঠন এবং ইরানের সঙ্গে যাদের যোগসূত্র রয়েছে৷

হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে না

এদিকে, ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী সোমবার হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া এবং ইয়েহিয়ে সিনওয়ার এর সঙ্গে বৈঠকের আগে বলেছেন, ‘‘ঐক্যের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব৷’’

ফাতাহ'র নেতৃত্ব ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের হাতে৷ দলটি হামাসের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন করলে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই গাজা এবং পশ্চিমতীরে নতুন নির্বাচন হতে পারে৷ তবে হামাস নেতা হানিয়াহ মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘গাজা থেকে সামরিক নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়ার ব্যাপারে এখনও তিনি নিশ্চিত নন৷ তার দল কোনো ধরনের অস্ত্র ত্যাগ করবে না, কেননা, নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য তাদের কাছে অস্ত্র রাখতে হবে৷’’ অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ঐক্য সরকারে আসতে হলে হামাসের অস্ত্র পরিত্যাগ করতে হবে৷ তিনি চান, ‘‘এক রাষ্ট্র, এক রাষ্ট্রব্যবস্থা, এক আইন এবং এক অস্ত্র৷’’

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন