পরিষেবার মুখ হিসেবে উঠে আসছে ভার্চুয়াল অবতার | অন্বেষণ | DW | 19.10.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পরিষেবার মুখ হিসেবে উঠে আসছে ভার্চুয়াল অবতার

ভার্চুয়াল অবতারের ক্ষমতা বেড়েই চলেছে৷ শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশার কাজ আংশিংকভাবে হলেও মানুষের বদলে তার অবতার কাজে লাগানো যাচ্ছে৷ এই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে আরও সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাচ্ছে৷

ভিডিও দেখুন 04:20

ভার্চুয়াল অবতারের ক্ষমতা বাড়ছে

শুধু ২০২০ সালেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-ভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানিগুলি ৬,১৮০ কোটি ইউরো আয় করেছে৷ মার্কেট রিসার্চ বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটিং ও বিনোদনের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল অবতারের ব্যবহার একশো গুণ বেড়ে যাবে৷

তবে এখনো পর্যন্ত এই প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই৷ ডয়চে ভেলে ‘আওয়ার ওয়ান' নামে অবতার স্টার্টআপ কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে এ ক্ষেত্রে প্রবণতার আভাস পাওয়ার চেষ্টা করেছে৷ প্রশ্ন হলো, কৃত্রিম মানুষ কি শীঘ্র আমাদের চাকরি খেয়ে নেবে? 

আওয়ার ওয়ান কোম্পানির নাতালি মঁবিয়ো এমনটা মনে করেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি না যে অবতার মানুষ কর্মীর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে৷ তার চেয়ে বরং এক নতুন ধরনের হাইব্রিড কাজ সম্ভব করে তুলবে৷ মানুষের মাধ্যমে গ্রাহক ও বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ কোনো কোম্পানির জন্য সেরা পথ বলে আমরা বিশ্বাস করি৷ কিন্তু রক্তমাংসের মানুষের সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণ কন্টেন্ট তৈরি করা সম্ভব নয়৷ সেই অভাব পূরণ করতে প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে৷''

আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্লিৎস ভার্চুয়াল কোর্সের পরিসর আরও বাড়াতে আওয়ার ওয়ান কোম্পানির এআই মডারেটর ব্যবহার করছে৷ ডিজিটাল পদ্ধতি সৃষ্টি করা হাজার হাজার শিক্ষক অনেক ভাষায় ক্লাস পরিচালনা করে৷ নাতালি মঁবিয়ো সেই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘আমরা একটা টেক্সট ভরে দিয়ে স্বাভাবিক মডারেটর-সহ চূড়ান্ত ভিডিও পেয়ে যাই৷ সেই মডারেটর বেশ নমনীয় ও দ্রুত কন্টেন্ট শেখাতে পারে৷ আমরা সব সময়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেই যে ভিডিওর মানুষটি মোটেই স্টুডিওয় শুটিং করেন নি, কম্পিউটারে তাকে তৈরি করা হয়েছে৷ ভিডিওর কোণে ওয়াটারমার্কেও সেই কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়৷'' 

আওয়ার ওয়ান কোম্পানির অবতারগুলি রিসেপশনিস্ট থেকে শুরু করে এস্টেট এজেন্ট বা এইচআর প্রধানের মতো সব সম্ভাব্য ভূমিকা পালন করতে পারে৷ রক্তমাংসের মানুষের অবলম্বনেই সেই অবতার সৃষ্টি করা হয়৷ সেই সব মানুষও সামান্য পারিশ্রমিক পান৷ নাতালি জানান, সে সব মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে চুক্তির মধ্যে তাদের ভূমিকা স্থির করা থাকে৷

কৃত্রিম কন্টেন্ট কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দিচ্ছে৷ সেইসঙ্গে সৃজনশীলতার বিকাশ ও কাজের চাপ কমাতেও সাহায্য করছে৷ তবে এ ক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্নও উঠে আসে৷

এই প্রযুক্তি প্রয়োগ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে? কীভাবে কোনো ভিডিওর মধ্যে প্রদর্শিত মানুষকে আসল হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব? কারণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সহজেই কোনো মানুষের ক্লোন সৃষ্টি করা যায়, কণ্ঠ নকল করা যায় বা ডিপ ফেক এডিট করা যায়৷ থটফুল মিডিয়া প্রকল্পের আভিভ ওভাডিয়া বলেন, ‘‘ভুল তথ্যের পাশাপাশি প্রতারণার ভয় ও নিজস্ব নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকে৷ বিশেষ করে ডিপ ফেক এবং ডিপ ফেক অডিও এমন অনিশ্চয়তার কারণ৷ গোটা দেশ বিপদের মুখে পড়তে পারে৷ জনগণ, সরকার ও সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে আদানপ্রদানের উপর ভরসা উঠে যেতে পারে৷ ডিপ ফেক গোটা রাষ্ট্রকে ঝাঁকিয়ে দিতে পারে৷ মোটকথা এমন সিস্টেম তৈরি করতে হবে, যাতে আসল-নকলের মধ্যে পার্থক্য নিশ্চিত করা যায়৷''

ট্যারিন সাদার্ন তার অবতার এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমাদের ভার্চুয়াল আদানপ্রদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘আনকোরা নতুন এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ অবশ্যই অনেক গোলমালের আশঙ্কা রয়েছে৷ অন্যদিকে অনেক সৃজনশীল সম্ভাবনাও খুলে যাচ্ছে৷''

অতএব অবতার এখনো শারীরিক কাজ করার ক্ষমতা আয়ত্ত করে নি বটে৷ কিন্তু অবতারের শেখার ক্ষমতা ও ক্ষমতা সম্প্রসারণের সুবিধার কারণে অবতার আমাদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে আরও দ্রুত উন্নতি করতে পারে৷

আমেলিয়া হেম্পহিল/এসবি