পরিবেশ রক্ষায় ‘গ্রিন ইসলাম’ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 03.07.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

পরিবেশ রক্ষায় ‘গ্রিন ইসলাম’

ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মসজিদের ইমাম এই ‘গ্রিন ইসলাম’-এর কথা বলেন৷ অর্থাৎ জানিয়ে দেন পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে ইসলামের কোন বিরোধ নেই৷ উদ্দেশ্য, জলহাওয়ার পরিবর্তনের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা৷

Indonesian President Susilo Bambang Yudhoyono, center, prays with former President Abdurrahman Wahid, right, at an Eid Al-Adha prayer service at Raya Baiturrahman Mosque Friday, Jan. 21, 2005 in Banda Aceh, Indonesia. Muslims around the world are celebrating the Eid al-Adha, or Feast of Sacrifice, which marks the end of the annual hajj pilgrimage to Mecca. Imams leading prayers have urged Muslims around the world to open their hearts to the victims of the tsunami. (AP Photo/Achmad Ibrahim)

ইন্দোনেশিয়ার একটি মসজিদ

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ছে, সমুদ্রের পানির স্তর ওপরে উঠে এসেছে, কোথাও বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেছে আবার কোথাও প্রবল বর্ষণ সৃষ্টি করছে ভয়াবহ বন্যা৷ আর এসবই হচ্ছে আবহাওয়া এবং পরিবেশের পরিবর্তনের ফলাফল৷ এর সঙ্গে রয়েছে সুনামি এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ৷

এশিয়ার দুটি দেশে সুনামি ধ্বংসযজ্ঞের যে স্বাক্ষর রেখে গেছে তা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায়নি৷ দেশ দুটি জাপান এবং ইন্দোনেশিয়া৷ অনেক ইন্দোনেশিয় মনে করেন এগুলো খোদার প্রতিহিংসা৷ অন্যায় কাজ করার ফলে সৃষ্টিকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন৷ আবার অনেকে মনে করেন, এটা হচ্ছে মানুষের ধৈর্যেরই পরীক্ষা৷

সম্প্রতি বেশ কিছু ইমাম কোরানের আয়াত ব্যবহার করছেন পরিবেশ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে৷ কোরান থেকে বেশ কিছু উদ্ধৃতি তারা সরাসরি তুলে ধরছেন যেমন ‘তোমরা পৃথিবীকে ধ্বংস কোরো না৷' কোরান শরিফের কোন কোন জায়গায় মানুষের জীবনকে একটি গাছের জীবনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে,‘নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু, বেসামরিক মানুষ এবং গাছ – এদের হত্যা কোরো না৷'

হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মনিকা আর্নেজ গ্রিন ইসলম সম্পর্কে বললেন,‘‘গ্রিন ইসলামের ব্যাখ্যা বিভিন্নভাবে হতে পারে৷ পরিবেশ ও প্রকৃতি বাঁচানোর কথা ইসলাম ধর্মেও বলা আছে৷ এর অর্থ হতে পারে মুসলমানরা পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বসবাস করতে পারে এবং পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য কোরান শরীফের আশ্রয় নেয়া যেতে পারে৷''

উনবিংশ শতাব্দী থেকেই ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্কুলে পরিবেশ রক্ষা করার বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো হয়৷ তখন কেউ-ই সবুজ পৃথিবী, উত্তরমেরুর বরফ গলে যাওয়া, বন্যা এবং ক্ষরা নিয়ে মাথা ঘামাতো না৷

পূর্ব জাভার মাদুরা দ্বীপে আল-নুকায়াহ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৭ সালে৷ প্রতিষ্ঠা করেন মুহাম্মদ সিয়ারকাওয়ি৷ তিনি মূলত ইসলামের বিভিন্ন দিক বাচ্চাদের পড়াতেন এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে দূরে থাকতে বলতেন৷ কিছুদিনের মধ্যেই তিনি দেখেন যে দ্বীপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল প্রকৃতি এবং পরিবেশ৷ পানির অভাব দেখা দেয়ায় দ্বীপবাসীদের মধ্যে সারাক্ষণই সংঘর্ষ লেগে থাকতো৷ তিনি তার শিক্ষকতায় পরিবর্তন আনেন৷ ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করেন প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষা করার নানা কৌশল৷

সেই একই স্কুলে এখন বাচ্চাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করার বিভিন্ন কৌশল শেখানো হয়৷ গাছ লাগানোর কথা বলা হয় বাচ্চাদের৷ সেই একই কাজ করছে মসজিদগুলো৷ ইমামরা সারাক্ষণই মানুষদের উদ্বুদ্ধ করছেন গাছ লাগাতে, প্রকৃতি ও পরিবেশের পরিবর্তনের ওপর নজর রাখতে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

বিজ্ঞাপন