পরিবেশ দূষণ এড়াতে ‘সবুজ কংক্রিট′ | অন্বেষণ | DW | 06.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

পরিবেশ দূষণ এড়াতে ‘সবুজ কংক্রিট'

সিমেন্ট আর পানি ছাড়া কংক্রিটে যা কিছু থাকে, পরিভাষায় তার নাম ‘অ্যাগ্রেগেট'৷ কিন্তু সেই অ্যাগ্রেগেটে যদি পুরনো ইনডাস্ট্রিয়াল ফাইবার, এমনকি পুরনো টায়ার বা প্লাস্টিকের টুকরো ঢোকানো থাকে, তাহলে তার নাম হয় ‘সবুজ কংক্রিট৷'

কংক্রিট বস্তুটি সবসময় আমাদের চারপাশেই রয়েছে, অথচ অদৃশ্য৷ সিমেন্ট, বালি বা নুড়ি আর পানি মিশিয়ে যে কংক্রিট তৈরি হয়, এ আমরা সকলেই জানি৷ শহরের বড় বড় বাড়িঘরের অস্থিমজ্জা হল এই কংক্রিট৷

 সালের্নো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আপাতত একটি ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত, যার উপজীব্য হল কংক্রিট৷ সাধারণ কংক্রিটের উপাদান হল পানি, সিমেন্ট আর বালি, নুড়ি ইত্যাদি – বিজ্ঞানীরা তার সঙ্গে যোগ করেছেন ‘রিসাইকল্ড ইনডাস্ট্রিয়াল ফাইবার' বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত নানা ধরনের আঁশ বা তন্তু৷ উদ্দেশ্য: আরো বেশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কংক্রিট তৈরি করা৷

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এনজো মার্তিনেলি জানালেন, ‘‘আমরা দেখার চেষ্টা করছি, কংক্রিটে সাধারণ  ইনডাস্ট্রিয়াল ফাইবারের পরিমাণ কমিয়ে তার বদলে কীভাবেপুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্পোপযোগী তন্তু ব্যবহার করা যায় – এবং কংক্রিটের মান ও স্থিতিস্থাপকতার হানি না ঘটিয়ে তা করার চেষ্টা চলছে৷'' 

রিসাইকল্ড পদার্থে সমৃদ্ধ এই পরীক্ষামূলক কংক্রিট বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করা হয়: বেঁকিয়ে, চাপ দিয়ে, টেনে লম্বা করে ও চিরে দেখা হয়, চরম পরিস্থিতিতে ঐ কংক্রিটের কী প্রতিক্রিয়া হয়৷ আর্জেন্টিনার ইঞ্জিনিয়ার আন্তোনিও কাজিয়ানো সেজন্য সব ধরনের স্ট্রেস টেস্টের ব্যবস্থা করেছেন৷

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আন্তোনিও কাজিয়ানো যোগ করলেন, ‘‘আমরা বুঝেছি যে, রিসাইকল্ড ইনডাস্ট্রিয়াল ফাইবারের মূল সমস্যা হল তার জ্যামিতি৷ অন্য নানা কাজে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে তাদের জ্যামিতি আর নিয়মমাফিক বা মসৃণ নয়৷ কাজেই সেগুলি সিমেন্টের সাথে ভালোভাবে মেশে না৷''

কাজিয়ানো আরো বললেন, ‘‘নতুন ইনডাস্ট্রিয়াল ফাইবার আরো ভালোভাবে মেশে৷ যার অর্থ, আমরা এমন একটা কংক্রিট তৈরি করতে পারি যার যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি আরো বেশি সমজাতীয়, এবং সেই কারণে আরো বেশি নির্ভরযোগ্য৷''

কংক্রিটের ভিতরে কী ঘটে

যান্ত্রিক পরীক্ষা ছাড়াও গবেষকরা কম্পিউটার সিমিউলেশনের মাধ্যমে দেখার চেষ্টা করেন, চরম পরিস্থিতিতে কংক্রিটের ভিতরে কী ঘটে৷ তুকুমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হোসে গিয়ের্মো এৎসে বোঝালেন, ‘‘একাধিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে: যেমন কংক্রিটের ভিতরে প্রতিটি উপাদানের অনমনীয়তা, কংক্রিটের ভিতরকার আকার, রসায়ন, অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা, আর্দ্রতার পরিমাণ, কংক্রিটে কতটা ফাইবার আছে ও কী ধরনের ফাইবার – এই সব প্যারামিটার দিয়ে আমরা কংক্রিটের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করি৷''

বিজ্ঞানীদের আশা যে, তাঁদের গবেষণার ফলে শীঘ্রই কলকারখানায় ‘সবুজ কংক্রিট' তৈরি হবে – যেমন এই কারখানাটি, যেখানে প্রতি বছর ষাট হাজার ঘনমিটার কংক্রিট তৈরি হয়৷ কোম্পানির ম্যানেজাররা বলছেন, তারা টেকসই, বিকল্প কংক্রিট উৎপাদন করতে রাজি – তবে একটি শর্তে৷

কংক্রিট তৈরির কোম্পানির কোয়ালিটি ম্যানেজার মাউরো মেলে বললেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের কংক্রিটে শতকরা ১০০ ভাগ রিসাইকল্ড পানি ব্যবহার করি৷ আমরা খুব খুশি হয়ে রিসাইকল্ড ফাইবারের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘অ্যাগ্রেগেট' ব্যবহার করব, যদি তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী হয়৷''

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এনজো মার্তিনেলি আরেকটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেন: ‘‘উদ্ভিদ তন্তু দিয়ে সমৃদ্ধকৃত সবুজ কংক্রিট পুরনো বাড়িঘর মজবুত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে – যেমন ঐতিহাসিক বাড়িঘর৷ ওটা একটা ভালো, টেকসই বিকল্প, কেননা ওটা এমন সব পদার্থ থেকে তৈরি, পরিবেশের উপর যাদের প্রভাব অনেক কম ও পরিবর্তনীয়৷ যেহেতু ঐ কংক্রিট বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে না, কাজেই প্রযোজনে অন্য কংক্রিট দিয়ে তা পালটে দেওয়া যাবে৷''

 পুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্পোপযোগীতন্তু ও উদ্ভিদজাত তন্তু ছাড়াও বিজ্ঞানীরা আগামীতে পুরনো গাড়ির টায়ার ও পুরনো প্লাস্টিক ব্যবহার করে উচ্চমানের সবুজ কংক্রিট তৈরির আশা রাখেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন