পরিবেশবান্ধব হতে চীনের উপর ইউরোপের নির্ভরতা | বিশ্ব | DW | 30.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

চীন

পরিবেশবান্ধব হতে চীনের উপর ইউরোপের নির্ভরতা

তেল ও গ্যাস আমদানির উপর ইউরোপের নির্ভরতা নিয়ে আলোচনা দিন দিন বাড়ছে৷ এর সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় খনিজ কাঁচামাল পেতে চীনের উপর ইউরোপের নির্ভরতার বিষয়টি৷

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বিভিন্ন দেশ কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করছে৷ সেগুলো বাস্তবায়ন করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে তারা৷ এসব জ্বালানির একটি সৌরশক্তি৷ এটি উৎপাদনের জন্য যে সোলার প্যানেল প্রয়োজন তার বেশিরভাগই তৈরি হয় চীনে৷ ইউরোপে যেসব কোম্পানি সৌরশক্তির প্রসার নিয়ে কাজ করে তারা সম্প্রতি জানিয়েছে, সোলার প্যানেলের দাম বাড়ছে৷ এছাড়া বাজারের সেগুলোর সংকট দেখা যাচ্ছে৷

ই-মোবিলিটি

কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য পূরণের আরেক উপায় ই-মোবিলিটি৷ এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাটারির চাহিদা মেটাতে অনেক কারখানা গড়ে উঠছে৷ তবে ভবিষ্যতে কী দিয়ে ব্যাটারি তৈরি হবে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সির ডাইরেক্টর ডল্ফ গিলেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘(ভবিষ্যতে) ব্যাটারি দেখতে আসলে কীরকম হবে, সেটা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে৷ কয়েক বছর আগে সবাই কোবাল্টের কথা বলতো৷ কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে কোবাল্টের সংগ্রহ যতটা মনে করা হয়েছিল, আসলে ততটা নেই৷''

লিথিয়াম

ব্যাটারি তৈরির জন্য ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে লিথিয়াম৷ গিলেন জানান, ২০১৭ সালে লিথিয়ামের দাম অনেক কমে গিয়েছিল৷ গত কয়েকমাসে সেটা দ্বিগুনেরও বেশি হয়েছে৷ তার আশঙ্কা, দামের এমন হেরফেরের বিষয়টি ভবিষ্যতে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে পারে৷ এই অবস্থায় বড় খনি প্রকল্প গড়ে তোলা কঠিন বলে মনে করেন তিনি৷

গিলেন বলেন, চলতি দশকে খনি থেকে লিথিয়াম তোলার পরিমাণ পাঁচ গুন বাড়াতে হবে৷ তবে লিথিয়াম তোলার চেয়ে তার প্রক্রিয়াজাত করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি৷ এই কাজে চীন অনেক এগিয়ে আছে বলে জানান গিলেন৷ এছাড়া ‘‘চীনা কোম্পানিগুলো লিথিয়ামের অনেক রিজার্ভও কিনছে'' বলেন তিনি৷

যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের ২০১৯ সালের হিসেব অনুযায়ী বিশ্বে লিথিয়ামের সবচেয়ে বেশি রিজার্ভ আছে চিলিতে (৮০ লাখ টন)৷ এরপর আছে অস্ট্রেলিয়া (২৭ লাখ টন), আর্জেন্টিনা (২০ লাখ টন) ও চীনে (১০ লাখ টন)৷ তবে ২০১৮ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি লিথিয়াম রপ্তানি করেছে অস্ট্রেলিয়া (৫১ হাজার টন)৷

এদিকে, ইউরোপের দেশ পর্তুগালে আছে মাত্র ৬০ হাজার টন লিথিয়াম৷ এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্র, স্পেন ও জার্মানিতেও কিছু লিথিয়াম পাওয়া যায়৷ তবে ইউরোপে খনি থেকে লিথিয়াম তোলার প্রকল্প স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়৷

নিকেল

ব্যাটারি তৈরির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হচ্ছে নিকেল৷ গিলেন বলেন, ‘‘ফিলিপাইন্সকে সরিয়ে বিশ্বে নিকেলের মূল উৎপাদনকারী দেশ হতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া৷'' তবে নিকেল প্রক্রিয়াজাত কাজেও এগিয়ে আছে চীন৷ অবশ্য এখন থেকে নিজেরাই নিকেল প্রক্রিয়াজাত করতে চাইছে ইন্দোনেশিয়া৷ ফলে ‘‘চীন ও ইন্দোনেশিয়া নিকেল বাজারে আধিপত্য করতে চলেছে,'' বলে মনে করেন গিলেন৷

ইউরোপে ফিনল্যান্ড ও প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা নিউ ক্যালেডোনিয়ায় (ফ্রান্সের অধীনে থাকা একটি অঞ্চল) নিকেল পাওয়া যায়৷

রেয়ার আর্থ

পরিবেশবান্ধব জ্বালানির লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্ব উপাদান রেয়ার আর্থ৷ এক্ষেত্রে ইউরোপ ও অ্যামেরিকার চেয়ে চীন এগিয়ে আছে বলে জানান ইউরোপিয়ান ব্যাংক ফর রিকন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ বেয়াটা ইয়াভর্চিক৷ ‘‘২০১০ সালে চীন রেয়ার আর্থের ৯০ শতাংশের বেশি খনি নিয়ন্ত্রণ করতো৷'' ঐ সময় এই খনিজ রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল চীন৷ পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সফল হয়৷

বায়ুশক্তি

ইউরোপে যত উইন্ড টার্বাইন বসানো হয়েছে তার ৯৯ শতাংশই ইউরোপে তৈরি৷ তবে এই খাত আমদানি করা রেয়ার আর্থ খনিজের উপর অনেকখানি নির্ভরশীল৷ এছাড়া প্রয়োজনীয় খনিজ কাঁচামালের দাম বাড়ায় আগামী পাঁচ বছর ইউরোপের বায়ুশক্তি কোম্পানিগুলো ভুগতে পারে বলে জানিয়েছেন তাদের সংগঠন ‘উইন্ড ইউরোপ'এর কর্মকর্তা ক্রিস্টোফ জিপ্ফ৷

সার্জিও মাতালুচ্চি/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন