পথ দুর্ঘটনায় ভারতে প্রতিদিন প্রাণ হারায় গড়ে চারশ′ জন | বিশ্ব | DW | 10.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

পথ দুর্ঘটনায় ভারতে প্রতিদিন প্রাণ হারায় গড়ে চারশ' জন

সংখ্যাটা চমকে দেওয়ার মতো হলেও এটাই বাস্তব৷ সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ২০১৬ সালের সরকারি রিপোর্টে এমনটাই বলা হয়৷ চেন্নাইতে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি হলেও পথ দুর্ঘটনায় মারা যায় বেশি দিল্লিতে৷

ভারতে রাস্তাঘাটের নিরাপত্তা ক্রমশই যেন মরণফাঁদ হয়ে উঠছে৷ সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি সাড়ে তিন মিনিটে মারা যান একজন৷ সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত গত বছরের রিপোর্টে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার আর তাতে প্রাণ হারায় প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার মানুষ৷ অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় তিন শতাংশ বেশি৷

দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু পথ দুর্ঘটনার শীর্ষে৷ এরপর মধ্যপ্রদেশ এবং কর্নাটক৷ এছাড়া শহর-ভিত্তিক হিসেবে চেন্নাইয়ে শহরে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা সবথেকে বেশি – ৭,৪৮৬৷ কিন্তু মারা যায় বেশি রাজধানী শহর দিল্লিতে – ১,৫৯১৷ রিপোর্টে বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক, অর্থাৎ যাঁদের বয়স ১৮ বছরের নীচে, মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে তাদের হতেই বেশি৷ তবে গত বছর সবথেকে বেশি পথ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি চালকরা৷ তাছাড়া দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারায় তাদের ৮৩ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে৷ পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে জেলাস্তরে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠনের কথা বলেন কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী গডকরি৷ তিনি জানান, কমিটি ঐ এলাকার সড়ক নিরাপত্তা রেকর্ড মনিটার করবে৷ কমিটির প্রধান হবেন ঐ এলাকার সাংসদ৷

জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের অসাবধানতা এবং জোরে গাড়ি চালানো৷ দ্বিতীয় প্রধান কারণ, চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা৷ টু-হুইলারের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং হেলমেট না পরা আরও বেশি বিপজ্জনক৷ গাড়ি চালকদের তুলনায় টু-হুইলার দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ৩৫ শতাংশ বেশি৷ শহুরে রাস্তার টি-জংশনগুলি সাধারণত নিরাপত্তার দিক থেকে বেশি মারাত্মক৷

পথ দুর্ঘটনার কারণ এবং দুর্ঘটনা নিবারণ সম্পর্কে দিল্লির স্কুল অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারের অধ্যাপক ড. পি. কে সরকার ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে জানান যে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত দায়ী রোড ডিজাইনে ত্রুটি৷ ভারতীয় রোড কংগ্রেসের নির্দেশিকা ঠিকভাবে রূপায়িত হয় না৷ স্ট্যান্ডার্ড গাইডলাইন রূপায়ণে গাফিলতি থেকে যায়৷ দ্বিতীয় কারণ, বেশির ভাগ ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুয়ো৷ দু-এক হাজার টাকা খাইয়ে রাম-শ্যাম-যদু-মধু যে-কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স বাগিয়ে নিতে পারে৷ তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স সিস্টেমটা আরও কড়া করা দরকার৷ দরকার লাইসেন্স মঞ্জুর করার প্রক্রিয়াটি আরও শক্ত হাতে সামলানো৷ তিন নম্বর কারণ. ট্র্যাফিক নিয়মবিধি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্পরতা কম থাকা৷ ট্র্যাফিক নিয়মবিধি বলবত করার ক্ষেত্রে ট্র্যাফিক পুলিশের যথেষ্ট গাফিলতি থেকে যায়৷ সে জন্য ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনকারীর জরিমানা এবং শাস্তি বাড়ানো উচিত৷

অডিও শুনুন 01:32
এখন লাইভ
01:32 মিনিট

'সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত দায়ী রোড ডিজাইনে ত্রুটি'

সড়ক দুর্ঘটনা কম করতে হলে রোড সেফটি অডিট করা জরুরি৷ অডিট করলে বুঝতে পারা যায় গলদটা আসলে কোথায়, ডয়চে ভেলেকে বলেন ড. সরকার৷ তিনি নিজেই রোড সেফটি অডিটে যুক্ত ছিলেন৷ তাঁর অভিজ্ঞতা বলছে রোড সেফটি অডিটর যেসব সুপারিশ করেছেন, তা ঠিকমত মানা হয় না৷ রাস্তাঘাটের একটা ইউনিভার্সাল বা সর্বজনীন ডিজাইন থাকা দরকার এবং সেটা বলবত করা বিশেষ জরুরি৷ থাকা উচিত সড়ক পারাপারের উপযুক্ত ব্যবস্থা, বিশেষ করে মহিলা ও বয়স্কদের জন্য৷ এর জন্য প্রতিটি রোড-ক্রসিংয়ে এবং জংশনে হাইস্পিড ক্যামেরা বসানো উচিত৷ থাকা উচিত ইলেকট্রনিক নজরদারি৷ গাড়ির গতি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলেই তা সহজে রেকর্ড হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে চালকের বা গাড়ির মালিকের কাছে গাড়ির রেজিস্টার্ড নম্বরসহ নোটিস চলে যাবে৷ ড. সরকার জানান, মোটর ভেহিকিল অ্যাক্ট সংশোধন কমিটিতে তিনি নিজে যুক্ত ছিলেন৷ ট্র্যাফিক নিয়মবিধি ভঙ্গ করলে জরিমানা এবং শাস্তি কঠোর করার সুপারিশ সংক্রান্ত বিলটি বর্তমানে সংসদের বিবেচনাধীন আছে৷ নিম্নকক্ষ লোকসভাতে পাশও হয়েছে, তবে এখন তা আটকে আছে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে৷

পথ দুর্ঘটনা এড়াতে মহানগরগুলোতে কি গাড়ির সংখ্যা কম করা দরকার? রাস্তার মোড়ে জনৈক ট্র্যাফিক অফিসারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, আপাতদৃষ্টিতে সেটা মনে হলেও ট্র্যাফিক অ্যাক্সিডেন্টের বড় কারণ ট্র্যাফিক রুলস না মানা৷ ডয়চে ভেলের পাল্টা প্রশ্ন, সেজন্য কি আপনারা দায়ী নন?  ট্র্যাফিক নিয়ম ভঙ্গকারীরা কেন আপনাদের পরোয়া করে না? কেন খুশিমত গাড়ি চালায়? সঙ্গে সঙ্গে চালান রেজিস্ট্রি বের করে ট্র্যাফিক অফিসার দেখালেন, ৭-৮ ঘণ্টায় শুধু রেড লাইট না মানায় এতগুলি চালান কাটা হয়েছে৷ কিন্তু আইন মাফিক জরিমানা এত কম বলে তা দিতে কারোরই অসুবিধা হয় না৷ আসলে চালকদের নিজেদের নিরাপত্তাবোধ না থাকলে যা হবার তাই হয়৷

উল্লেখ্য, ভারতে এখন দেশি-বিদেশি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা রমরমা৷ প্রতি মাসে গাদা গাদা নতুন নতুন মডেলের গাড়ি বাজারে আসছে কম দামে, প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে৷ ফলে আগে যাঁদের গাড়ি কেনার শখ পূরণ হয়নি, তাঁরা এখন একাধিক গাড়ির মালিক৷ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট থাকা সত্ত্বেও নিজের গাড়িতে যাওয়ার সুখ তাঁরা ছাড়তে চান না৷

সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন