পথে-বাজারে শারদীয় ভিড়, বেপাত্তা করোনা-আতঙ্ক | বিশ্ব | DW | 01.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কলকাতা

পথে-বাজারে শারদীয় ভিড়, বেপাত্তা করোনা-আতঙ্ক

সংক্রমণ আছে, আছে মৃত্যু৷ কিন্তু সতর্কতার বাঁধন ক্রমশ আলগা হচ্ছে প্রতিদিন৷ উৎসবের মরশুম শুরু হতেই কলকাতার রাস্তাঘাটে ক্রমশ বেপাত্তা হয়ে যাচ্ছে করোনা আর তার আতঙ্ক!

কলকাতায় সতর্কতার বাঁধন ক্রমশ আলগা হচ্ছে

কলকাতায় সতর্কতার বাঁধন ক্রমশ আলগা হচ্ছে

চারপাশের সার্বিক হাহাকারের মধ্যে সময়ের নিয়মে এসে গিয়েছে দুর্গাপুজো৷ আনলক পর্বে পুজো উপলক্ষে উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই৷ অনেক ক্ষেত্রেই এই উৎসাহ দেখে বোঝার উপায় নেই, কার্যত এক জরুরি অবস্থার মধ্যে দিয়ে চলেছে দেশ৷ তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নয়, আগস্ট থেকেই আস্তে আস্তে শিথিল হচ্ছে কঠোর নিয়ম-কানুনের ফাঁস৷ সরকারি প্রচার আছে আগের মতোই, কিন্তু ক্রমশ ভিড় বাড়ছে বাজার-হাটে৷ বাসে অন্যান্য সময়ের মতো ভিড়ও চোখে পড়ছে৷ সভা-সমাবেশ-মিছিল হচ্ছে অহরহ৷ অর্থাৎ সবই আছে কলকাতায়, শুধু নেই করোনা ভাইরাস!

শিয়ালদা ও হাওড়া থেকে শহরতলির ট্রেন চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে৷ পথে বাসের সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম৷ পাওয়া যাচ্ছে অটো, ট্যাক্সি৷ কেউ যদি হঠাৎ কলকাতায় এসে পড়েন, তাহলে রাস্তায় ভিড় দেখে বুঝতে পারবেন না, আদৌ কোনো আপৎকালীন পরিস্থিতি চলছে কিনা৷ দোকান বাজারে বেশ ভিড়৷ রাস্তাঘাটে অনেকের মুখে মাস্ক নেই৷ আবার অনেকের মুখে মাস্ক থুতনির কাছে নামানো৷ সামাজিক দূরত্ব কাকে বলে, সেটা যেন কেউ জানেন না! যেখানে এই ছবি অক্টোবরের গোড়ায়, সেখানে পুজোর দিন এগিয়ে এলে কী হবে, তা নিয়ে আশঙ্কার কারণ আছে বৈকি৷

অডিও শুনুন 03:13

কলকাতার বড় বড় পুজো নিয়ন্ত্রণ করেন শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা: রন্তিদেব সেনগুপ্ত

ইতিমধ্যে দুর্গাপুজো নিয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার৷ খোলামেলা মণ্ডপ ও প্রতিমার উচ্চতার কথা বলে দেওয়া হয়েছে৷ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা থেকে স্যানিটাইজেশন, সব ধরনের সর্তকতা নেওয়ার নির্দেশ ও বার্তা রয়েছে৷ সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া চিকিৎসক রেজাউল করিম এই নির্দেশিকাকে পর্যাপ্ত বলে মনে করলেও তাঁর মতে, এটা কার্যকর করাই আসল চ্যালেঞ্জ৷ তিনি বলেন, ‘‘মণ্ডপ পরিচালনা করবেন যাঁরা, তাঁদের দায়িত্ব অনেকটাই বেশি৷ মণ্ডপ জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷ দেখতে হবে সামাজিক দূরত্ব যেন বজায় থাকে৷ আমরা চিকিৎসকরাও প্রয়োজনে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে প্রস্তুত৷’’ অর্থাৎ, বল মূলত আয়োজকদের কোর্টে৷

সম্প্রতি কেরলে ওনাম উৎসবের পর সংক্রমণের হার অনেকটাই বৃদ্ধি পাওয়ায় তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছে বাংলা৷ আগস্টের শেষ সপ্তাহে পালিত হয়েছে এই উৎসব৷ যেখানে উৎসবের আগে প্রতিদিন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল হাজারের আশপাশে, সেখানে কেরলে পার্বণের পর এই সংখ্যা ছয় হাজারের উপরে চলে গিয়েছে৷ দুর্গাপুজোর পর পশ্চিমবঙ্গেও একই পরিস্থিতি হবে না কি? বিজেপি নেতা রন্তিদেব সেনগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কলকাতার বড় বড় পুজো নিয়ন্ত্রণ করেন শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা৷ তাঁদের দেখতে হবে যাতে সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে পালন করা হয়৷ সবচেয়ে বড় কথা, সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে৷ নইলে একটা বড় বিপর্যয় নেমে আসবে৷’’

অডিও শুনুন 01:54

সব যাত্রীকে মাস্ক পরতে হবে: তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পুজোর আগে ট্রেন চালু হবে কিনা ঠিক নেই৷ যে সংখ্যক বাস কলকাতার রাস্তায় চলছে, তা দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে যথেষ্ট নয়৷ জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাসের উপর চাপ বেশি থাকবে৷ তাই আমরা বাসের সংখ্যা বাড়াব৷ এখন আসন সংখ্যা অনুযায়ী যাত্রী তুলতে হচ্ছে৷ পুজোর সময় সংখ্যা সরকার কত নির্ধারণ করেন দেখতে হবে৷ সব যাত্রীকে মাস্ক পরতে হবে৷ অযথা ভিড় করা যাবে না৷’’

ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ যদিও এবার উৎসবের আগমনী কিছুটা ম্লান৷ গত কয়েক মাসের রুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যদি বাঙালি শারদীয় উৎসবকে বেছে নেয়, করোনার আতঙ্ক আরো মুছে যায়, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন৷ সব পক্ষই সাধারণ মানুষের সচেতনতার উপর নির্ভরশীল৷ তারা পরীক্ষায় পাস করবে কি?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন