পথশিশুদের ঠিকানা পালটাবে না? | বিশ্ব | DW | 19.02.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

পথশিশুদের ঠিকানা পালটাবে না?

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সি মেয়েটাকে উদ্ধারের পর চিকিৎসক জানান, সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা৷ মায়ের বয়স এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় পেটের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই৷ তারপর অপেক্ষা৷

অবশেষে এই শিশুটি আরেকটি শিশুকে জন্ম দেয়৷ এ ঘটনাটি ঘটে প্রায় চার বছর আগে৷ সেই মা  বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে৷ আর মা ও সন্তান বড় হচ্ছে অন্য শিশুদের সঙ্গে৷ ঢাকার বছিলায় ‘লিডো পিস হোম'-এ দেখা মেলে এই মা ও ছেলের৷

এই কিশোরী মা পথশিশু, বিশেষ করে মেয়েশিশুদের পরিণতির একটি উদাহরণ মাত্র৷ হোমে থাকার কারণে তার ছেলে পথশিশু পদবি পায়নি৷ কিন্তু ধর্ষণের শিকার এই কিশোরী পথে থাকলে মা হতে গিয়ে হয় মারা যেত, নয়তো ছেলে নিয়ে পথেই জীবন পার করত৷

কিশোরীটির কপাল ভালো, সে বাংলাদেশের লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)-র উদ্ধারকারী দলের চোখে পড়ে৷ কিন্তু লাখ লাখ পথশিশু সরকার এবং বেসরকারি সংগঠনের নজরের বাইরেই রয়ে গেছে৷ কত শিশু নজরের বাইরে তার সঠিক পরিসংখ্যানও সরকারের কাছে নেই৷ বহু আগের পরিসংখ্যানের সঙ্গে যোগ-বিয়োগ করে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, দেশে পথশিশুর সংখ্যা ২০ লাখ বা তারও বেশি৷

জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ বলছে, যেসব শিশুর জন্য রাস্তা বসবাসের স্থান অথবা জীবিকার উপায় হয়ে গেছে, তাদের পথশিশু বলা হয়৷ আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি পথশিশুদের তিনটি ভাগে ভাগ করেছে৷ এই শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথে একাএকা বসবাস করতে পারে৷ পথে কর্মরত শিশু বা যেসব শিশু জীবিকার জন্য তাদের দিনের বেশির ভাগ সময়ই রাস্তায় ব্যয় করে, তারাও পথশিশু৷ রাস্তায় বসবাসরত পরিবারের শিশু বা যেসব শিশু তাদের পরিবারের সঙ্গে রাস্তায় বসবাস করে, তারাও পথশিশু৷

এই পথশিশুদের নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, দাতাগোষ্ঠী এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় বেসরকারি সংগঠন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছে৷ তবে এই শিশুদের পুনর্বাসনে পূর্ণাঙ্গ কোনো কার্যক্রম নেওয়া হয়নি৷ অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পথ থেকে এই শিশুদের ঠিকানা পাল্টানোর নির্দেশ দেন৷ তারপর মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তৎপর হয়েছে৷ কোনো শিশু পথে থাকবে না, তা জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী৷ ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জন্য দুটি কমিটি গঠন করে মাঠে নামে পথশিশুদের পুনর্বাসনে৷ কমলাপুর এবং কারওয়ানবাজারে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করে৷

পথশিশুদের পরিস্থিতি নাজুক বলেই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এদের জন্য কিছু করার নির্দেশ দিতে হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পথশিশুরা জায়গা পেতে শুরু করে৷

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি কমলাপুরে পথশিশুদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্বোধন করে বলেন, ‘‘শিশুর ঠিকানা পথ নয়, সরকার সব শিশুর আশ্রয়ের ব্যবস্থা করবে৷ এই শিশুদের পরিবার খুঁজে বের করে পরিবারের হাতে শিশুদের হস্তান্তর করবে৷''

সরকারের তৎপরতা বাড়ানোর পর তিন বছরের বেশি সময় পার হয়েছে৷ সেই অর্থে পথ থেকে শিশুদের অদৃশ্য হওয়া বা দেখা না যাওয়ার কথা ছিল৷ তবে বাস্তবতা ভিন্ন৷

রাজধানীর আড়ং সিগনাল দিয়ে যে যাত্রীরা যাতায়াত করেন, তাঁরা জানেন বাস্তবতা কাকে বলে৷ এই সিগনালে রাত ১১টার সময়ও দেখা মেলে শিশুদের৷ একটি মোটরবাইকেল যে উচ্চতা কোনো কোনো শিশুর সেই উচ্চতাও নেই, মোটরবাইকেলের চাকা সমান হতে পারে৷  কিন্তু তারাই বাটি হাতে ভিক্ষা চাইতে নেমে গেছে পথে৷ অনেকে মুরগির পালক দিয়ে বানানো ঝাড়ু হাতে গাড়ির কাচ মোছার কাজ করে৷ উচ্চতার জন্য গাড়ির সামনের কাচের নাগাল পাওয়া এই শিশুদের জন্য কঠিন কাজ৷ এমনও দেখা যায়, শিশু নিজেই ভালোভাবে হাঁটতে পারে না, অথচ তার কোলে আরেক শিশু৷ সুর করে তারা ভিক্ষা চায়৷ সিগন্যালের গাড়ি চলা শুরু হলে চালকেরা এই শিশুদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন৷ ছোট ছোট অবৈধ লেগুনা পরিবহনের পেছনে বাদুরঝোলা হয়ে শিশুদের ঝুলতে দেখা যায় রাত ১০ টা ১১টা পর্যন্ত৷ এই শিশুদের দায়িত্ব যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া তোলা৷ পথশিশুদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত রাতে বস্তিতে ঘুমানোর সুযোগ পাচ্ছে৷ আর একদলকে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোলা আকাশের নীচে ঘুমাতে হচ্ছে৷

২০১৭ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদেও জায়গা করে নেয় পথশিশুরা৷ নির্বাচিত প্রশ্নোত্তরপর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা জানান৷ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে৷ এতে  শিশুরা প্রশিক্ষণ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, উন্মুক্ত স্কুল, বিনোদনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হবে৷ এর বাইরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পরিচালিত ছয়টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে দুস্থ ও পথশিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে৷ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা শিশু হেল্প লাইন ১০৯৮-এর মাধ্যমে এক লাখের বেশি শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়েছে৷ ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত শহুরে শিশুদের বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত থাকা, শারীরিক নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন শর্তে ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷ বেসরকারি সংগঠন ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ'-এর সহায়তায় ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬৬৫ জনকে ড্রপ ইন সেন্টারে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে৷ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১১টি জেলা শহরে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সুবিধা পাচ্ছে৷

অর্থাৎ, মোটাদাগে সরকারি বা দৃশ্যমান পর্যায়ে পথশিশুদের নিয়ে কার্যক্রম বলতে গেলে এইটুকুই৷ এর পরে কাজের তালিকায় হয়তো আর কিছু যোগ হয়েছে৷ তবে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে পথশিশুদের নিয়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বলছেন, যে কার্যক্রম তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল৷

পথের শিশুরা কেমন আছে? এর উত্তরে সরকারের কাছে যে তথ্য আছে, সে অনুযায়ী, পথের শিশুরা ভালো নেই৷

পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরুর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আট নম্বর ওয়ার্ডে ২০১৫ সালের ২৭ থেকে ২৮ ডিসেম্বর মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ভিত্তি জরিপ করা হয় পথশিশুদের পরিস্থিতি অনুধাবনের জন্য৷ কমলাপুর রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকার মোট ৭০ জন পথশিশুর সংগৃহীত উপাত্তের মধ্যে ছেলে শিশুর সংখ্যাই বেশি ছিল৷ পথশিশুদের মধ্যে শতকরা ১৪ দশমিক ২৯ ভাগের শিশুর বয়স ছিল ০ থেকে ৫ বছর৷ শতকরা ৫২ দশিক ৮৫ ভাগ শিশুর বয়স ছিল ৬ থেকে ১০ বছর৷ শতকরা ৩২ দশমিক ৮৬ ভাগের বয়স ছিল ১১ থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছর৷ এদের শতকরা ৭০ ভাগ শিশু রাতে রাস্তায় ঘুমায়৷

জরিপ মতে, শতকরা প্রায় ৪৩ ভাগ শিশুই নিজেদের খাদ্য নিজেরা কাজের মাধ্যমে সংগ্রহ করে৷ শতকরা ৬০ ভাগ শিশু মাদক গ্রহণ করে৷ ৭৭ ভাগের বেশি শিশুর স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই৷ প্রায় ৯ ভাগ শিশু যৌন হয়রানির শিকার৷ তবে প্রায় ৯২ ভাগ শিশুই যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেনি বা গোপন করেছে৷ পথে থাকতে গিয়ে শতকরা ৫৭ দশমিক ১৪ ভাগ শিশু পুলিশি বাধার শিকার হয়েছে৷

এ তো গেল কাগজে-কলমে জরিপের কথা৷ আসলেই শিশুরা পথে কেমন থাকে? তাদের অভিজ্ঞতা কেমন? কারওয়ানবাজারে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন কেন্দ্রের ১৪ বছরের এক কিশোরের হাত এবং বুকে ব্লেডের অনেকগুলো কাটা দাগ৷ প্রথমে বলতে লজ্জা পেলেও পরে জানালো, সে যখন নিজের জীবনের পরিণতির কথা ভাবত, তখন নিজেই নিজের গায়ে ব্লেড দিয়ে কাটাকাটি করত৷ তার ভাষায়, ‘‘জিদ উঠত, তখন নিজেই ব্লেড দিয়ে শরীর কাটতাম৷'' এই কিশোর সৎ মায়ের অত্যাচারে বাড়ি থেকে পালিয়ে পথে নামে৷ গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশার সঙ্গে পরিচিত হয়৷ একসময় এই নেশার টাকা সংগ্রহ করতেই চুরি করা শুরু করে৷ পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে বহুবার মার খেয়েছে৷ অবশেষে পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মীরা কেন্দ্রে নিয়ে আসেন৷ তবে এখানে আসার পরও নেশার টানে পথে চলে গিয়েছিল৷ আবার ফিরেও এসেছে৷ এখন সে নিজেই বলে, ‘‘‘রাস্তায় যা করছি, তার সবই ছিল ভুল৷'' এখন এই কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে হস্তশিল্প বানানো, মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের কাজ শিখছে৷ চোখে-মুখে লাজুক হাসির ঝলকানি৷

এই কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন রাতে থাকা, তিন বেলা খাওয়া, গোসল করাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছে৷ কেন্দ্রের দরজা খোলা থাকে, যখন যে শিশুর ইচ্ছা সে কেন্দ্রে আসতে পারে, আবার চলেও যেতে পারে৷ এ পর্যন্ত ১৫জন শিশুকে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে৷ ১৫জন শিশুকে হস্তশিল্প বানানো শেখানো হচ্ছে৷ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬ সাল থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কার্যক্রমের আওতায় এসেছে মোট ৬ হাজার ৬৪৫জন৷ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ১৬১জন শিশুকে৷

Journalistin Mansura Hossain

মানসুরা হোসাইন, সাংবাদিক

পুনর্বাসন কেন্দ্রটিতে এই কিশোরের সঙ্গে যিনি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন, তিনি হলেন মো.মামুন বকাউল৷ ২৩ বছর বয়সি এই যুবক সরকারের পুনর্বাসন কেন্দ্রটিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত৷ তিনিও ছিলেন পথশিশু৷ অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর একটি শেল্টার হোমে বেড়ে ওঠেন৷ এই যুবকের ব্যক্তিগত মতামত, ‘‘সরকার বর্তমানে মাত্র দুইটি পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করছে৷ বিমানবন্দরের যে পথশিশু, তিন বেলা খাবার বা অন্যান্য সুবিধা নেওয়ার জন্য সে কারওয়ানবাজারে আসবে না৷ এই ধরনের কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে, শিশুরা পথে নামার পর কোনো বিপদে পড়ার আগেই যাতে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায়৷ আর বাবা-মায়ের বহুবিবাহ, পারিবারিক অশান্তি, বাবা-মায়ের তালাকসহ বিভিন্ন কারণে শিশুরা পরিবার থেকে ছিটকে এসে পথে আশ্রয় নেয়৷ তাই এই শিশুদের পরিবারে পুনর্বাসনের জন্য শিশুর অভিভাবকদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে৷

মামুন নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘‘রাতে পল্টনে ঘুমাতে গেলেই আনসার সদস্যরা এসে এমন মাইর দিত যা এখনো মনে আছে৷''

পথশিশুদের নিয়ে আরো কিছু কার্যক্রমের কথা জানা যায়৷  বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে  ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে এনজিও বা বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে ১০টাকার বিনিময়ে শ্রমজীবী পথশিশুরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাচ্ছে৷ তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরেই জমানো টাকার পরিমাণ কমেছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা৷ ২০১৮ সালে মাত্র ১২৩টি নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা হয়৷ পাঁচ হাজারের কম শ্রমজীবী পথশিশু এ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে৷ অর্থাৎ উদ্যোগে ভাটা পড়া শুরু হয়েছে৷

১৯৯৫ সাল থেকে পথশিশুদের পুনর্বাসনে কাজ করছে অপরাজেয় বাংলাদেশ৷ এ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু বলেন, ‘‘ছোট ছোট প্রকল্প দিয়ে পথশিশুদের পুনর্বাসন করা সম্ভব  নয়৷ সরকারি বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি পথশিশুদের পুর্নবাসনের দায়িত্ব আসলে সরকারকেই নিতে হবে৷ তবে এখন পর্যন্ত এখন পর্যন্ত উদ্যোগ খুবই সীমিত৷ দেশে শিশুদের নিয়ে কাজ করছে অনেক সংগঠন, কিন্তু শুধু পথশিশুদের নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা এনজিও বা সংগঠনের সংখ্যা ১০/১২টির পর আর নাম বলা সম্ভব হবে না৷ অথচ নানা কারণেই পথশিশুদের সংখ্যা বাড়ছে৷ আর এই শিশুদের উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রেখে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নয়, তা সবাই বুঝতে পারছে৷ আর পথশিশুদের পাশে থাকলে সুফল পাওয়া যায় তার প্রমাণও আছে৷ অপরাজেয় বাংলাদেশের শেল্টারহোমে থাকা পথশিশুরা বড় হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত৷ ওয়াহিদা বানুর ভাষায়, ‘‘শুধু চিকিৎসক হতে পারেনি, এ ছাড়া প্রায় সব পেশাতেই আছেন তাঁরা৷''

সানিয়া মির্জা, জেসমিন আক্তার, স্বপ্না আক্তার, আরজু রহমান, রাসেল ইসলাম রুমেল, আবুল কাশেম, রুবেল ও নিজাম হোসেনের পরিচয় ছিল পথশিশু হিসেবে৷ তাদের পথ থেকেই কুড়িয়ে আনা হয়েছিল৷ বর্তমানে লিডোর পিস হোমে থাকা এই শিশুরাই লন্ডনে আগামী এপ্রিলে প্রথমবারের মতো আয়োজিত স্ট্রিট চিলড্রেন ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপে খেলার জন্য বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হচ্ছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে৷

 অর্থাৎ, এই শিশুদের দিকে নজর বাড়ালে শুধু ঠিকানা বদল নয়, ওদের পুরো জীবনটাকেই পাল্টে দেওয়া সম্ভব৷ লিডোর আট ক্রিকেটারের একজন নিজাম হোসেন বর্তমানে পড়ছে নবম শ্রেণিতে৷ সে এখন সংস্থা পরিচালিত মোবাইল স্কুলের দায়িত্বে আছে, সে অন্য পথশিশুদের পড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে৷

সময় এসেছে নিজামদের পাশে দাঁড়ানোর৷ এরাই একসময় অন্যদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে৷ তখন আর খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না কাউকে৷

মানসুরা হোসাইনের লেখার সঙ্গে কি আপনি একমত? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন