পথঘাটের বিকট শব্দ মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে | অন্বেষণ | DW | 09.03.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

পথঘাটের বিকট শব্দ মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে

পিলে চমকানো বিকট শব্দ শোনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ-ভারতের মতো দেশের মানুষের কাছে নতুন নয়৷ ইউরোপেও অনেক মানুষ এই সমস্যায় কাতর৷ ধ্বনিবিজ্ঞানীরা শব্দের মাত্রা, ফ্রিকুয়েন্সি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অনেক গবেষণা চালাচ্ছেন৷

আপাতদৃষ্টিতে আওয়াজ বিপদের কারণ না হলেও আমাদের শরীর বিকট শব্দকে বিপদের কারণ হিসেবেই গণ্য করে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ইউরোপের এক পঞ্চমাংশ মানুষকে এমন বিকট শব্দ সহ্য করতে হয়, স্বাস্থ্যের উপর যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে৷ বাকি বিশ্ব সম্পর্কে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলেও এই সমস্যা যে শুধু ইউরোপের নয়, তা বলাই বাহুল্য৷

ঠিক কোন মাত্রায় শব্দ বিকট মনে হয়, ড্রেসডেন শহরের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সে বিষয়ে গবেষণা করছেন৷ প্রোফেসর এরচান আল্টিনসোই এক কম্পিউটারের মাধ্যমে গাড়িতে করে এক ভারচুয়াল যাত্রার নকল করছেন৷ স্বেচ্ছাসেবীরা কোন ধরনের শব্দ শুনলে সংবেদনশীল হয়ে পড়েন, এভাবে তা বোঝার চেষ্টা চলছে৷

এই শব্দরোধী গবেষণাগারের দেওয়াল বা মেঝে ভেদ করে কোনো শব্দ আসে না৷ গবেষকরা একটি জালের উপর হাঁটতে পারেন৷ সে কারণে ল্যাবের ভিতরে কোনো শব্দতরঙ্গের প্রতিফলন ঘটে না৷ ফলে গবেষকরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শব্দের পরিমাপ করতে পারেন৷ কিছু বৈশিষ্ট্য যে আমাদের বিশেষভাবে বিরক্ত করে, তাঁরা সে বিষয়ে সচেতন৷ ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে প্রোফেসর এরচান আল্টিনসোই মনে করিয়ে দেন, ‘‘উচ্চ মাত্রার ফ্রিকুয়েন্সি সব সময়ে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলে সমস্যা হয়৷ সময়ের পার্থক্য অনুযায়ীও আমাদের প্রতিক্রিয়া বদলে যায়৷ আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর৷ বিকট আওয়াজের মধ্যে বার বার পরিবর্তন হলে এবং সেটি লাগাতার না হলেও আমাদের বেশি সমস্যা হয়৷ যেমন কোনো ট্রেন যদি প্রতি পনেরো মিনিট পরপর চলাচল করে, তাহলে এমনটা হয়৷’’

ডেসিবেলের মাধ্যমে শব্দের পরিমাপ করা হয়৷ শব্দের চাপ যত বাড়ে, আওয়াজের মাত্রাও তত বেশি মনে হয়৷ যেমন একটি মোমবাতির শিখা নিভিয়ে দিতে ৯০ ডেসিবেল মাত্রাই যথেষ্ট৷ লাউডস্পিকারও শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করে৷ দশ ডেসিবেল পার্থক্য হলেও আমাদের কাছে সেই শব্দের তীব্রতা দ্বিগুণ অথবা অর্ধেকের বেশি বলে মনে হয়৷

তবে শুধু শব্দের চাপ নয়, তার ফ্রিকুয়েন্সিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ পর পর কত দ্রুত গতিতে শব্দ তরঙ্গের নির্গমন হচ্ছে, ফ্রিকুয়েন্সি তা নির্দেশ করে৷ প্রোফেসর আল্টিনসোই বলেন, ‘‘মানুষ হিসেবে আমরা উচ্চ ফ্রিকুয়েন্সির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল৷ বিশেষ করে এক থেকে পাঁচ কিলোহার্ৎস মাত্রায় আমরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ি৷''

সে কারণে আওয়াজের মূল্যায়নে পার্থক্য দেখা যায়৷ ডিবিএ নামের স্কেল বা মানদণ্ড মানুষের শ্রবণের অনুভূতি বিবেচনা করে৷ যে ফ্রিকুয়েন্সিতে শব্দ ভালো শোনা যায়, সেটি আমাদের বিশেষভাবে বিরক্ত করে৷

সড়ক পরিবহণের ক্ষেত্রে ডাব্লিউএইচও-র স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫৪ ডিবিএ-কে ২৪ ঘণ্টার জন্য গড় মাত্রা হিসেবে ধরা হয়৷ রাতে সেই মাত্রা ৪৫ ডিবিএ-র বেশি হলে চলবে না৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী ইউরোপের অনেক সড়ক সেই মানদণ্ড ছাড়িয়ে যায়৷ ড্রেসডেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো. আন্দ্রেয়াস সাইডলার বলেন, ‘‘এই হিসেব অনুযায়ী প্রায় চার শতাংশ করোনারি হৃদরোগ, অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকের মতো অবস্থার জন্য সড়ক পরিবহণের আওয়াজ দায়ী৷ অর্থাৎ বছরে প্রায় ৫০,০০০ মানুষের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর জন্য রাজপথের শব্দকে দায়ী করা যেতে পারে৷’’

অর্থাৎ সড়ক পরিবহণের ক্ষেত্রে শব্দের উচ্চমাত্রা বেঁধে দেবার সময় এবার এসে গেছে৷

মানুয়েল গ্যার্বার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন