পণ্যের প্রচারে তারকার দায়বদ্ধতা | আলাপ | DW | 03.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আলাপ

পণ্যের প্রচারে তারকার দায়বদ্ধতা

পণ্যমূল্য আর তারকামূল্য৷ দুটো তো আলাদা বিষয়৷ যখন তা মেলে এক মোহনায়, বেশিরভাগ সময়ই পণ্যের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়ে যায়৷ কিন্তু কখনো কখনো যে তাতে কমে যেতে পারে তারকার মূল্য, সেটি তারা ভাবেন?

অর্থের বিনিময়ে হরেদরে পণ্যের প্রচার-প্রসারে কি সম্পৃক্ত হওয়া উচিত তারকাদের? সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু ঘটনায় প্রশ্নটি সামনে চলে আসছে যে!

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের বড় দুই তারকা তাহসান খান ও রাফিয়াত রশিদ মিথিলা৷ নিজস্ব ভক্তকূলের পাশাপাশি দম্পতি হিসেবেও ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়৷ প্রায় ১১ বছরের সংসারজীবনের ইতি টানেন ২০১৭ সালে৷ এরপর থেকে দুজনের আলাদা পথ৷ সে পথটি চার বছর পর এক অর্থে এক করেছিল ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি৷

এ বছরের মে মাসে ফেসবুক লাইভে একসঙ্গে উপস্থিত হন মিথিলা-তাহসান৷ ইভ্যালির উদ্যোগে৷ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে৷বিচ্ছেদের চার বছর পর দুজনের যৌথ উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে আলোড়ন তোলে প্রবল৷ তবে সেখানে তো আর নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে হাজির হননি তারা৷ বরং ওই ইভ্যালির গুণগানের জন্য৷ তাতে এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির প্রতি গ্রাহক কিংবা ভোক্তাদের আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে ব্যাপকভাবে৷

পরবর্তীতে যে ইভ্যালির প্রতি অনাস্থা, তাতে কি তাই দায় এড়াতে পারেন তাহসান-মিথিলা? কিংবা তাদের মতো আরো যেসব তারকা যুক্ত হয়েছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে?

‘প্রতারিত' কিংবা অনিশ্চয়তায় থাকা গ্রাহকরা তাহসান-মিথিলাকে ‘খুঁজে' পাবেন কোথায়! তুলনায় মাশরাফি বিন মর্তুজা সহজপ্রাপ্য৷ অন্য আরেকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন তিনি৷ যখন ওই প্রতিষ্ঠানের ভোক্তারা নিজেদের প্রতারিত ভাবতে শুরু করলেন, ঠিকই খুঁজে বের করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়কের বাড়ি৷ সেখানে শত শত লোকের স্লোগানে, হট্টগোলে বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা৷

ততদিনে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ই-অরেঞ্জের সঙ্গে মাশরাফির চুক্তির মেয়াদ শেষ৷ কিন্তু দায়িত্বের শেষ ভেবে দায় এড়াননি৷ অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন; সাহসের পাশাপাশি পরামর্শ দিয়েছেন সাধ্যমতো৷ কিন্তু অর্থের বিনিময়ে এমন পণ্যের শুভেচ্ছাদূত হওয়ায় নিজের ভাবমূর্তিতে কি কালি লাগেনি মাশরাফির?

অডিও শুনুন 03:45

‘ইভ্যালি নিয়ে কথাবার্তা উঠেছে, তখন তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আর ছিল না’

পণ্যের প্রচারে প্রতিষ্ঠানগুলো তারকাদের পেছনে ছোটে৷ অর্থের বিনিময়ে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেন তারা৷ পৃথিবী জুড়েই এমনটা হয়ে থাকে৷ কিন্তু যে পণ্যটির বিজ্ঞাপন করছেন, সেটি নিজে কতটা ব্যবহার করেন কিংবা তা জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কিনা -- এমনটা ভেবে দেখার চল কি রয়েছে বাংলাদেশে? সংকটটা তৈরি হয় সেখানেই৷

অথচ পৃথিবীতে অমন উদাহরণ রয়েছে ভুড়ি ভুড়ি৷ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তাই ইউরোর সংবাদ সম্মেলনে টেবিলে থাকা কোকাকোলার বোতল সরিয়ে পানি পানের আহবান জানান৷ কারণ, স্বাস্থ্যসচেতন এই ফুটবলার শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোমল পানীয় নিজে পান করেন না৷ তার ওই হাত দিয়ে দুটো বোতল সরিয়ে দেয়ায় কোকাকোলার বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির খবর আসে সংবাদে৷ পাশাপাশি রোনালদোর কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থক তো কোমল পানীয়ের ক্ষতিকর দিকটি সম্পর্কে ঠিকই সচেতন হয়৷

আবার ধরুন অমিতাভ বচ্চনের কথা৷  বলিউডের এই মেগাস্টার দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন আরেক কোমল পানীয় পেপসির শুভেচ্ছাদূত৷ সেখান থেকে কিভাবে নিজেকে সরিয়ে নেন, ছোট্ট একটি মেয়ের ছোট্ট এক প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে৷ জয়পুরের এক স্কুলছাত্রী তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি কোমল পানীয় কেন প্রোমোট করেন, যেখানে আমার শিক্ষক বলছেন, এটি বিষ?' এর তাৎক্ষণিক উত্তর ছিল না অমিতাভের কাছে৷ তবে আত্মোপলব্ধিতে পেপসির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন ঠিকই৷

আবার তারকা তো শুধু ব্যক্তি নয়, অনেক সময় প্রতিষ্ঠানও৷ যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)৷ মাস ছয়েক আগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির স্পন্সর হিসেবে নিয়েছিল তারা৷ চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের কোনো পণ্যের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হলে বোর্ড থেকে অনুমোদন নিতে হয়৷ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবির কি নিজস্ব কোনো নীতিমালা রয়েছে? বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন দিলেন এর উত্তর, ‘‘আমাদের স্ট্যান্ডার্ড একটা প্র্যাকটিস, অ্যাকর্ডিং টু দ্য ল অব দ্য ল্যান্ড আমরা অ্যালকোহল, টোবাকো, গ্যাম্বলিং এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশিপ নিতে পারবো না৷ এর বাইরে এ ধরনের আলাদা কোনো গাইডলাইন নেই৷ আমরা যাদের স্পন্সরশিপ নেবো, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত কিনা, সেটিই দেখি৷ আর বেশিরভাগ সময় সুপরিচিত ব্র্যান্ডগুলোই তো আমাদের স্পন্সর হয়৷''

কিন্তু সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ফাঁকে তো ইভ্যালির মতো প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হয়ে যায়৷ এ বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে জাতীয় দলের নিউজিল্যান্ড সফরে জার্সির স্পন্সর ছিল তারা৷ তাতে ভুল কিছু দেখছেন না নিজাম উদ্দিন, ‘‘যখন ইভ্যালি নিয়ে কথাবার্তা উঠেছে, তখন তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আর ছিল না৷''

তাতে কি দায় এড়ানো যায়? ইভ্যালির অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে কি অন্যভাবে ভাববে বিসিবি? ‘‘অবশ্যই, এটা সবসময়ই থাকবে৷ আগেও ছিল; এখনো আছে৷ এখন জানা যাচ্ছে যে, এই প্রতিষ্ঠান দ্বারা কিছু অনিয়ম হয়তো হয়েছে৷ তবে এখনকার মতো অবস্থা কিন্তু আগে ইভ্যালির ছিল না৷ অনেক অনেক পার্থক্য৷ আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই কোভিড সিচুয়েশনের মধ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্টই (স্পন্সরশিপে) আসছে৷ ভারতের ক্রিকেট দলেও সেটি হচ্ছে''-- বলেছেন বিসিবির সিইও৷

তারকাদের অনুসারী আছেন লাখো কোটি৷ ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও৷ অর্থের বিনিময়েই তো শুভেচ্ছাদূত হন তারা, কিংবা নেন স্পন্সরশিপ৷ কিন্তু আগ-পিছ না ভেবে অমনটা করা হলে অনেক সময় যে তা বুমেরাং হতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে সে ‘শিক্ষা'টা হলো কি?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়