‘পঙ্গু হয়েও বিচার চায় না রত্না′ | আলাপ | DW | 20.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘পঙ্গু হয়েও বিচার চায় না রত্না'

রত্না খাতুন৷ ক্লাস এইটে পড়াকালীন রাস্তায় একটি ছেলে তাঁকে ক্রমাগত উত্যক্ত করতো৷ তাকে শাস্তি দেয়া দূরের কথা, পরবর্তীতে এলাকার মানুষের সালিশিতে সেই ছেলের সাথেই যখন বিয়ে হয়, তখন রত্নার বয়স মাত্র সাড়ে এগারো বছর৷

বিয়ের পর থেকেই শ্বাশুড়ি ও বরের নির্যাতনের মুখে পড়ে মেয়েটি৷ কথায় কথায় মারধোর থেকে শুরু করে খেতে না দেয়া – সবই চলে এ কিশোরীর উপর৷ এর মধ্যেই গর্ভবতী হয়ে পড়ে রত্না৷ এরপর নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে সেই সন্তানের জন্ম হয়৷ কিন্তু তারপরও থামে না অত্যাচার৷ ডয়চে ভেলের সাথে কথা বলার সময় কাঁদতে কাঁদতে রত্না বলছিলেন, ‘‘আমি তখন ভাবতাম সব মেয়ের জীবনেই বোধহয় এমন ঘটনা ঘটে৷''

মার খেতে খেতে আর মেনে নিতে নিতে সময় যখন গড়িয়ে যাচ্ছিল নিজের নিয়মে, এর মধ্যেই স্বামী হোসেন আলির নতুন বায়না শুরু হলো, বিদেশ যাবার টাকা চায় আর তা যোগাতে হবে রত্নার বাবাকেই৷

অডিও শুনুন 20:37
এখন লাইভ
20:37 মিনিট

‘শ্বাশুড়বাড়ির লোকরা আমাকে মারতে মারতে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছিল’

অত্যাচারের মাত্রা বাড়লো৷ রীতিমতো সময় বেঁধে দেয়া হলো বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেবার৷ এর মধ্যেই ধুমধাম করে রত্নার ছেলের খৎনা হলো৷ আত্মীয়স্বজন, এমনকি রত্নার বাবা-মাকেও দাওয়াত দেয়া হলো৷ অনুষ্ঠান মিটে যাবার দু'দিনের মাথায় আবারো টাকার দাবি৷ আর সেদিন ‘না' শব্দটা শুনতে রাজি ছিল না রত্নার স্বামী৷ অতঃপর টেনে হিঁচড়ে রত্নাকে উঠানে বের করে এনে শুরু হলো মারধর৷ নিরুপায় রত্না প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু ভুলে গেলেন না যে ঘরের বাইরে পা দিলে মান বাঁচানো দায় হবে৷ ছুটতে ছুটতে ছাদে গিয়ে দরজা লাগাতে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পারেন না তিনি৷ শ্বাশুড়ি আর বর সেখানে হাজির হয় পিছু পিছু৷ তারপর মারতে মারতে একসময় ছাদ থেকে ফেলে দেয় প্রায় অচেতন রত্নাকে৷

প্রতিবেশীরা পথ থেকে উদ্ধার করে তাঁকে৷ এরপর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে খুলনা৷ কিন্তু সেখানেও অপারগতা জানিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে৷ কিন্তু গরিব বাবার অত টাকা কই? শেষে গ্রামের লোকদের সাহায্য আর সমিতি থেকে ধার নিয়ে রত্নাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়৷

এর মধ্যেই রত্নাকে তালাক দেয় হোসেন আলি৷ একদিকে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাওয়া মেয়ের চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি, আরেক দিকে মেয়ের নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা৷ গরিব বাবা দিশেহারা হয়ে ছুটে যায় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারের কাছে৷ কিন্তু সেখান থেকেও পরামর্শ এলো ঝামেলা না বাড়ানোর৷ নিরুপায় হয়ে মামলার ‘ঝামেলা' না নিয়ে সন্তানের চিকিৎসাকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন বাবা৷

২০১৫ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত রত্না আছেন ঢাকার সিআরপিতে৷ সেখানে আড়াই মাসের চিকিৎসার পর এখন ক্রাচ দিয়ে হাঁটাচলা করতে পারেন তিনি৷ সিআরপির পুর্নবাসনের আওতায় সেখানেই থাকেন রত্না৷ ইতিমধ্যে হোসেন আলি আবার বিয়ে করেছে, সন্তানের বাবা হয়েছে৷ রত্নার ছেলেও আছে বাবার সাথে৷ পঙ্গু মা মাঝে মাঝে দেখা করার সুযোগ পান, কিন্তু ছেলেকে কাছে এনে রাখার সামর্থ্য নেই তাঁর৷ বুড়ো বাবার ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকা রত্না কোনো অবিচারের জবাব চায় না, কেবল উপার্জনের পথ খোঁজে যাতে সন্তানকে নিজের কাছে এনে রাখা যায়, যাতে পরিবারের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকার কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷

‘‘কেউ যদি আমাকে ৫-৬ হাজার টাকার একটা কাজও দিতো, তাহলে যত কষ্টই হোক, আমি তা করতাম৷''

আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন