‌নয়া হাসপাতাল বিল পশ্চিমবঙ্গে | বিশ্ব | DW | 03.03.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

‌নয়া হাসপাতাল বিল পশ্চিমবঙ্গে

বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ রাখতে নতুন ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট বিল আনলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই পেশ করলেন ‘‌দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্টস্‌ (‌রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি)‌ বিল, ২০১৭'‌৷ এই বিলে চিকিৎসার গাফিলতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হলো৷ এক নজরে নিয়মগুলি যা দাঁড়ালো— চরম গাফিলতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম জরিমানা ১০ লক্ষ টাকা৷ বড় ক্ষতির ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ এবং তুলনায় কম ক্ষতির ক্ষেত্রে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা৷ এই ক্ষতিপূরণ বিপত্তি ঘটার এক মাসের মধ্যে আংশিক এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি মিটিয়ে দিতে হবে৷ এছাড়া বলা হলো, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আর্থিক সঙ্গতি না দেখে, সবার আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে৷ অ্যাসিড হামলা এবং ধর্ষণের শিকার হবেন যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম৷ বলা হয়েছে, এমার্জেন্সি বিভাগ থেকে রোগী প্রত্যাখ্যান করা যাবে না৷ বিল মেটাতে না পারলে মৃতদেহ আটকে রাখাও যাবে না৷ নতুন বিলে খুব স্পষ্ট করে দেওয়া আছে যে, যে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এইসব নিয়ম মানবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল হবে৷ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান দেওয়া আছে বিলে৷

দু'‌ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে এই নতুন নিয়মের৷ এক, রাজনৈতিক, দুই, পেশাদারি৷ বিরোধী রাজনৈতিক শিবির বলছে, লোক দেখিয়ে এই নতুন বিল আনার কোনো দরকার ছিল না৷ কারণ, ২০১০ সালে বামফ্রন্ট সরকার এই একই বিল বিধানসভায় পাস করায়, যার সাহায্যে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা হয়েছিল৷ চরিত্র বা উদ্দেশ্যগতভাবে দুটি বিলের কোনো ফারাক নেই, কিছু গঠন ও প্রয়োগগত খুঁটিনাটিছাড়া৷

যেমন নতুন বিলে বলা হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনা, মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশন গড়ার কথা৷ আগের বিলে কমিশনের জায়গায় সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিশেষ ট্রাইবুনালকে৷ আগের বিলে বলা হয়েছিল, এমার্জেন্সিতে আনা রোগীর চিকিৎসা করা বাধ্যতামূলক৷ এই বিলেই সেটাই বলা হয়েছে৷ আগের বিলে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, নতুন বিলে সেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে৷ অকারণে অতিরিক্ত টেস্ট করালে, অত্যাধিক ফি নিলে জরিমানা, এমনকি লাইসেন্স বাতিলের নিদানও আগের বিলেই দেওয়া হয়েছিল৷ বস্তুত সেই আইনের জোরেই গত ১০ দিনে রাজ্যে ২৭টি বেসরকারি নার্সিং হোম ও হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে৷ যদিও সেই ২০১০ সালে, তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস আইনটির বিরোধিতা করেছিল৷ বিধানসভার সিলেক্ট কমিটির কাছে ‘‌নোট অফ ডিসেন্ট'‌ দিয়ে, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আইনের দাবি করেছিল৷

আর চিকিৎসকরা পেশাগত জায়গা থেকে এই নতুন নিয়ন্ত্রণ বিধিতে আপত্তি জানাচ্ছেন৷ তাঁদেরও বক্তব্য, পুরনো আইনে দোষী বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ গত ৭ বছর ধরেই ছিল৷ কিন্তু সমাজের বাকি সব ক্ষেত্রের মতো এই চিকিৎসা ক্ষেত্রেও সরকারি নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এই রাজ্যে অবৈধ কিডনি কেনা-বেচা, বা শিশু পাচার চক্রের বাড়বাড়ন্ত অবাধে হয়েছে৷ চিকিৎসা করাতে এসে যে কোনো রোগীর মৃত্যুই দুঃখজনক৷ কিন্তু হাসপাতালে রোগী-মৃত্যুর পর হাঙ্গামা, ভাংচুরের ঘটনার পর সরকার যেভাবে কেবল বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকেই একতরফাভাবে দোষী সাব্যস্ত করলেন, তা একেবারেই সঠিক সঙ্কেত দিল না জনগণের কাছে৷ এরপর চিকিৎসকরাও সতর্ক হয়ে যাবেন৷ তাঁরা কেউ ঝুঁকি নেবেন না, দায়িত্ব নেবেন না, উল্টে নিজেদের আইনি সুরক্ষা আরো আঁটোসাঁটো করতে তৎপর হয়ে উঠবেন৷ তাতে চিকিৎসা ব্যবস্থার কোনো চিকিৎসা আদতে হবে না৷

আর সোশাল মিডিয়াতেও অনেকে একটা প্রশ্ন তুলছেন৷ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার যে বেহাল দশা, তার দায়িত্ব কে নেবেন?‌ কেন লোকে সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভিড় করছে, সেই প্রশ্নের উত্তরই বা কার কাছে আছে?‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন