নড়েচড়ে বসেছেন পরিবহণ মালিকরা | বিশ্ব | DW | 08.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

নড়েচড়ে বসেছেন পরিবহণ মালিকরা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবশেষে টনক নড়েছে সরকার ও পরিবহণ মালিকদের৷ সড়কের পরিস্থিতি উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে৷ তার একটি, ঢাকায় বৃহস্পতিবার থেকেই মজুরির ভিত্তিতে বাস চালাবেন চালক-হেলপাররা৷

বুধবার মালিকপক্ষের এক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানানো হয়৷ মতিঝিলে মালিক সমিতির কার্যালয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘‘চালকরা বাস চালিয়ে সারাদিনের আয় মালিকের হাতে তুলে দেবেন৷ আর মালিক তাঁর বাসের চালক-শ্রমিকদের নির্ধারিত হারে মজুরি দেবেন৷''

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা জানান পরিবহণ মালিকরা৷ যেসব পরিবহণ এই সিদ্ধান্ত মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তাঁরা৷

এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘‘কালকের পর কেউ চুক্তিতে গাড়ি চালালে আমরা তাদের নিবন্ধন বাতিলের জন্য সুপারিশ করব৷ আর সে মালিক যদি আমাদের সদস্য হয়, তাহলে ওই মালিককে আমাদের সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হবে৷''

এনায়েত উল্লাহ'র এনা পরিবহণের চালকদের বিরুদ্ধেও বেপরোয়া চালনার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে৷ এই সিদ্ধান্ত কতটা কাজে আসবে বা কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে এমন প্রশ্নে জবাবে মালিকপক্ষ বলেন, অটোরিক্সার মতো দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে চালকের হাতে বাস দিলে তাদের নির্দিষ্ট অংকের অর্থ মালিকের হাতে দিনশেষে তুলে দিতেই হয়৷ তাই বেশি ট্রিপ মারতে তারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান৷ এটি সড়কে দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ৷

‘‘প্রতিটি রাস্তায় কোম্পানির চেকার থাকবে৷ তাছাড়া মালিক সমিতি কৌশল ব্যবহার করবে৷'' বলেন এনায়েত উল্লাহ৷

ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর এ বিষয়ে কথা বলেছে কয়েকজন বাসচালকের সঙ্গে৷ তাদের প্রতিবেদনে দেখা যায়, কয়েকটি পরিবহণ মজুরির ভিত্তিতে বাস চালালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দৈনিক জমার পদ্ধতি চলে আসছিল এতদিন৷

ওয়েলকাম পরিবহণের এক চালক বিডিনিউজকে জানান, তাদের পরিবহণের বাস মজুরির ভিত্তিতে চলে৷ প্রতি ট্রিপের জন্য তিনি পান সাড়ে তিনশ টাকা৷ আবার মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটের আরেকটি বাসের বাসচালক জানান, চুক্তিতে মালিককে দৈনিক আড়াই হাজার টাকা জমা দিতে হয়৷

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে মালিকপক্ষ আরো জানান যে, রাজধানীতে বাস চলাচলে আবার ‘কাউন্টার সার্ভিস' চালু করা হবে৷ কাউন্টারের জায়গা চেয়ে সিটি কর্পোরেশনে চিঠি পাঠানো হবে৷

এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘‘কাল থেকে রাজধানীর সড়কে কোনো ফিটনেসবিহীন বাস চলতে দেয়া হবে না৷ এজন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে৷ টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যাওয়ার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে৷''

পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজটি করতে প্রতিটি টার্মিনালে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে৷ ওই কমিটি বাস ছাড়ার আগে চালকের লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র এবং গাড়িটি চলাচলের উপযোগী কিনা তা দেখবে৷ যদি কোনো গলদ থাকে, তাহলে সেই বাস চলতে দেয়া হবে না৷

এছাড়া, পুরোনো রংচটা, লক্কড়ঝক্কড় বাস মেরামতের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানায় মালিকপক্ষ৷

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়৷ আরো কয়েকজন গুরুতর আহত হন৷ এতে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে৷ রাজধানী থেকে তাদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে৷

শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতেরাস্তায় নেমে সব গাড়ির চালকের লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করা শুরু করলে অনেক সরকারি ও দায়িত্বশীল পর্যায়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গাড়ির কাগজপত্রেও অনিয়ম পাওয়া যায়৷

আপনার কোনো মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

জেডএ/এডিকে (বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন