ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস জার্মান মন্ত্রীর | বিশ্ব | DW | 26.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-জার্মানি

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস জার্মান মন্ত্রীর

তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গার্মেন্টস মালিকদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. গার্ড মুলার৷

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস দেন৷ বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক ডয়চে ভেলেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷

রুবানা হক বলেন, ‘‘জার্মান মন্ত্রীর সঙ্গে দারুণ একটা বৈঠক হয়েছে৷ উনি আসলে আরএমজি সাসটেনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) যেটা আমরা করেছি, সেটা কেমন হচ্ছে বা আমরা কি করছি সেটা জানতে এসেছিলেন৷ আমরা তাকে বলার পর উনি খুবই খুশি৷ তবে উনি আমাদের বলেছিলেন, শ্রমিকদের জীবন চলার মতো মজুরি দিতে হবে৷ প্রয়োজনে উনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলবেন৷ তখন আমি  বলেছি, ক্রেতারা তো আমাদের পোশাকের ঠিকমতো দাম দিচ্ছেন না৷ এটা আগে নিশ্চিত করা দরকার৷ তখন উনি আমাকে বলেছেন, আপনি বার্লিনে আসেন সেখানে দেখা হবে৷ আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে আছি, সেখানে আমরা একত্রে বিষয়টি উপস্থাপন করব৷''

দুই দিনের সফর শেষে ড. মুলার বুধবার ফিরে গেছেন৷ তার আগে তিনি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ বুধবার সকালে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন৷

অডিও শুনুন 01:25

‘জার্মান মন্ত্রীর সঙ্গে দারুণ একটা বৈঠক হয়েছে’

বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের প্রেস অফিসার কাজী মুকিতুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘উনি আসলে দু'টি কারণে এসেছিলেন৷আরএমজি সেক্টরের অবস্থা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প দেখতে৷ মঙ্গলবার উনি গার্মেন্টস মালিক-শ্রমিক সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন৷ পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন৷ আর বুধবার সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বিকেলেই দেশে ফিরে গেছেন৷ পুরো সফরে উনি কোন মিডিয়ার সঙ্গেই কথা বলেননি৷ অফিসিয়াল কোন স্টেটমেন্টও দেননি৷''

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জার্মান মন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা বুধবার সরেজমিনে দেখেছেন ড. মুলার৷ বেলা ১২ টার দিকে উখিয়ার বালুখালীর ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌছেন৷ এরপর তিনি সেখানে রোহিঙ্গাদের মাল্টিপারপাস ও লার্নিং সেন্টার ঘুরে দেখেন৷ এসময় রোহিঙ্গারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রীর কাছে৷ 

তার সঙ্গে থাকা অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ সফররত জার্মানির মন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরির্দশন করে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ তাদের অভিযোগ, সমস্যা-সুবিধা অসুবিধার কথা শুনেছেন৷ তবে এখানে তিনি কোন মন্তব্য করেননি৷''

অডিও শুনুন 01:17

‘জার্মান মন্ত্রী মূলত আরএমজি সেক্টরের অবস্থা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প দেখতে এসেছিলেন’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. মুলার

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন ড. মুলার৷ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে জার্মানিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য এক বিরাট বোঝা এবং তারা সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করছে৷ মিয়ানমারকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাদেশ থেকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিয়ে যেতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার আগমন কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্য একটি বড় সমস্যার কারণ হয়েছে, কেননা তারা সংখ্যায় স্থানীয় জনগণকে ছাড়িয়ে গেছে৷ অনেকেই (রোহিঙ্গারা) নিজেদেরকে সন্ত্রাস এবং মানবপাচারে জড়িয়ে ফেলার সুযোগ নিচ্ছে৷ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াও বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যাতে করে মিয়ানমার সরকার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিয়ে যেতে পারে৷ এরপর মিয়ানমার আর রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না এবং চুক্তিও মানছে না৷''

বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ গাড়ি উৎপাদন করার প্রস্তাব

বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ গাড়ি উৎপাদন করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ড. মুলার৷ মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বৈঠকের সময় জার্মান মন্ত্রীকে বিএমডব্লিউ গাড়ি উৎপাদন কারখানা করার বিষয়টি উত্থাপন করেন৷

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মান বিনিয়োগকারিদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করার জন্য আহবান জানান৷ মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলকে আমন্ত্রন জানানোর বিষয়টি পুনরায় জার্মান মন্ত্রীকে স্মরন করিয়ে দেন ড. মোমেন৷ দুই মন্ত্রীর আলোচনায় রোহিঙ্গা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরীর জন্য মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার জন্য মোমেন অনুরোধ করেন৷ জার্মান মন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন