নোবেল বিজয়ী অভিজিৎদের গবেষণায় বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ মডেল | বিশ্ব | DW | 16.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

নোবেল বিজয়ী অভিজিৎদের গবেষণায় বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ মডেল

অতিদরিদ্র মোকাবেলা নিয়ে গবেষণা করে চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তিন অর্থনীতিবিদ৷

অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এসথার ডুফলো

অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এসথার ডুফলো

এই গবেষণার জন্য যেসব মডেল তাঁরা অনুসরণ করেছেন তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্র্যাকের উদ্ভাবিত ‘আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন’ কর্মসূচি৷ দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্যের কারণে যা এখন ৪০ টি দেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে৷

২০০২ সালে দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ব্র্যাক৷ উদ্দেশ্য অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন৷ ক্ষুদ্র ঋণসহ দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচলিত যেসব প্রকল্প ছিল এটি তার চেয়ে আলাদা৷ ঋণ বা অর্থ সহায়তা দিয়েই এখানে দায়িত্ব শেষ হয় না৷ তার বদলে প্রয়োজনের ভিত্তিতে অতিদরিদ্রদের গবাদিপশু, হাঁস-মুরগী, নৌকার মতো বিভিন্ন সম্পদ দেয়া হয়, যা দিয়ে তারা উপার্জন করতে পারেন৷ থাকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, নিশ্চিত করা হয় স্বাস্থ্যসেবাও৷ পাশাপাশি ব্র্যাকের কর্মীরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করেন যাতে কেউ কোনো সমস্যায় না পড়ে৷ পরবর্তীতে মূল্যায়ন পরীক্ষায় দারিদ্র্য দূরীকরণে এই প্রকল্পটির সাফল্য প্রমাণিত হয়৷ 

ব্র্যাকের উদ্ভাবিত মডেলটি কি বাংলাদেশের বাইরেও দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজে লাগবে? চিকিৎসাশাস্ত্রে বহুলব্যবহৃত ‘র‌্যান্ডমাইজ়ড কন্ট্রোল ট্রায়াল’ এর মাধ্যমে সেটিই পরীক্ষা করতে চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-এমআইটির অভিজিৎ ব্যানার্জি আর এসথার ডুফলো৷ এজন্য ব্র্যাকের অনুসরণে ছয়টি দেশের স্থানীয় এনজিওগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত একই ধরণের প্রকল্প বেছে নেন তারা৷ তাদের সহযোগিতা দেয় এমআইটির আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশন ল্যাব এবং ইনোভেশনস ফর পভার্টি অ্যাকশন নামের একটি অলাভজনক সংস্থা৷ গবেষণাটি প্রকাশ হয় ২০১৫ সালে৷ পরবর্তীতে এ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয় গবেষণাধর্মী জার্নাল ন্যাচার ও ইকোনমিস্টে৷  

প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, অভিজিৎ ও তাঁর সহকর্মীরা গবেষণার জন্য দুইটি দল বেছে নেন, একটি প্রকল্পের অধীনে থাকা পরিবারগুলো অন্যটি এই সুবিধার বাইরে থাকা অতিদরিদ্ররা৷ দুইবছর পর তারা পরীক্ষা করে দেখেন দুই দলের মধ্যে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কীনা৷ ফলাফলে দেখা যায় কর্মসূচীতে অংশগ্রহণকারীদের খাদ্য গ্রহণের পরিমান পাঁচ ভাগ বেড়েছে, বেড়েছে আয়ের পরিমানও৷ সেইসাথে তাদেরকে যেসব সম্পদ দেয়া হয়েছিল তার মূল্যও ১৫ ভাগ বেড়েছে৷ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই কর্মসূচী শেষ হওয়ার এক বছর পর খোঁজ নিয়েও তাদের স্বচ্ছল জীবন যাপনের চিত্র পেয়েছেন তারা৷ ছয়টি দেশের ১০ হাজার দরিদ্র পরিবারের উপর গবেষণাটি চালানো হয়েছিল সাত বছর ধরে৷ 

অভিজিৎদের গবেষণায় ব্র্যাকের মডেলের ভূমিকা
সব মিলিয়ে গত ১৬ বছর ধরে অতিদরিদ্র দূরীকরণ নিয়ে গবেষণা করে আসছেন অভিজিৎ, এসথার ডুফলো ও সেনথিল মুলাইনাথান৷ সেখান থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু যুগান্তকারী চিন্তাধারা, যার সাম্প্রতিকতম ফল ২০১৯ সালে প্রকাশিত অভিজিৎ ও এসথারের ‘হোয়াট দ্য ইকোনোমি নিডস নাও’ শীর্ষক বইটি৷ নোবেল কমিটি তাদের ঘোষণায় বলেছে, গোটা বিশ্বে দারিদ্র্য দূরীকরণে তাঁরা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান হাজির করেছেন৷ সেই সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা ভিত্তিক গবেষণা পদ্ধতিটি উন্নয়ন অর্থনীতিতেও নতুন এক ধারার জন্ম দিয়েছে৷

২০১১ সালে তাঁরা ‘পুওর ইকোনমিক্স' বইটি প্রকাশ করেন, যা ‘গোল্ডম্যান স্যাকস বিজনেস বুক অফ দ্য ইয়ার' পুরস্কার পায়৷ তবে অভিজিৎ এবং তাঁর সহকর্মীদের কাজ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০১৫ সালে ব্র্যাকের উদ্ভাবিত মডেল নিয়ে গবেষণাটি প্রকাশের পরে৷

ব্র্যাকের আলট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামের প্রধান রোজিনা হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অভিজিৎ ও তাঁর সহযোগী গবেষকবৃন্দের দারিদ্র্য বিষয়ক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্র্যাকের আলট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন মডেলটি৷ তাছাড়া বিভিন্ন দেশের স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে সেখানকার চরম দরিদ্র মানুষের অবস্থা পরিবর্তনে কীভাবে কাজে লাগানো সম্ভব সে বিষয়ে তাঁদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে৷’’

রোজিনা জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৪৭টি জেলায় ২০ লাখের বেশি পরিবার তাদের এই কর্মসূচির সুফল পেয়েছে৷ এর কার্যকারিতা প্রমাণ হওয়ায় ৪০ টিরও বেশি দেশে এই মডেলটি স্থানীয় বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে৷ বিভিন্ন দেশে এসব প্রকল্পের কিছু ব্র্যাক নিজে বাস্তবায়ন করছে, বাকিগুলো করছে সেসব দেশের সরকার অথবা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন