নোবেল জয়ের পরও কেন ভারতে ধ্রুপদী নয় বাংলা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

নোবেল জয়ের পরও কেন ভারতে ধ্রুপদী নয় বাংলা

বাংলা কি ধ্রুপদী ভাষা নয়? ভারতের নয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি ফের এই বিতর্ক উসকে দিয়েছে৷ ওড়িয়া ধ্রুপদীর স্বীকৃতি পেলে বাংলাকেও এই মর্যাদা দেওয়া উচিত, এমনটাই দাবি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি মহলের৷

সম্প্রতি নতুন যে শিক্ষানীতি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ছ’টি ধ্রুপদী ভাষায় পড়াশোনার ক্ষেত্রে নতুন পরিসর তৈরি হতে চলেছে৷ সংস্কৃত, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালায়লাম ও ওড়িয়া ভাষায় যে কোনো রাজ্যে থেকে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে ছেলেমেয়েরা৷ এই নীতি প্রকাশের ফলে পুরোনো বিতর্ক সামনে এসেছে, কোন যুক্তিতে বাংলা ধ্রুপদী ভাষার তালিকায় নেই৷

এই তালিকা অবশ্য আজকের নয়৷ ২০০৪ সালে প্রথম তামিল ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়৷ ২০১৪ সালে অন্তর্ভুক্ত হয় ওড়িয়া৷ সেই সময় থেকেই বাংলার পক্ষে আওয়াজ উঠলেও দাবি এখনো মান্যতা পায়নি৷ ভাষাকে ধ্রুপদী আখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক মানদণ্ড ঠিক করে দেয়া হয়েছিল৷ ভাষাকে দেড় হাজার বছরের প্রাচীন হতে হবে৷ অতীতের সঙ্গে আধুনিক ভাষারূপের পার্থক্য থাকা দরকার৷ উন্নত মানের সাহিত্য সৃষ্টির উদাহরণ থাকতে হবে৷ হতে হবে ঐতিহ্যশালী৷

অডিও শুনুন 04:29

ধ্রুপদী ঘোষণার মধ্যে ভাষার উন্নতি নির্ভর করে না: মননকুমার মণ্ডল

কবি সুবোধ সরকার বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলা ভাষার বয়স দেড় হাজার বছর৷ ডঃ শহীদুল্লাহ গবেষণা করে দেখিয়েছেন, ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে মীননাথ যে পংক্তি রচনা করেছেন, তা বাংলা ভাষাতে৷ তিনি যে ভাষায় লিখেছিলেন, সেখানে পৌঁছনো সম্ভব নয় তারও আগে শতাধিক বছর চর্চা না থাকলে৷ সেই ভাষা থেকে আধুনিক বাংলা একেবারে আলাদা৷ তাহলে ওড়িয়া স্বীকৃতি পেলে বাংলা কেন পাবে না?’’ গবেষক নির্বেদ রায়ের বক্তব্য, ‘‘ভাষার মৌলিকত্বের উপর জোর দিয়ে তালিকা তৈরি হয়েছে৷ অন্য ভাষা থেকে অনেক শব্দ নেওয়া হয়েছে বলে হয়তো বাংলাকে বাদ রাখা হয়েছে৷ যে কারণে বাদ উর্দুও৷ তবে এটা একেবারে ব্যাকরণগত ব্যাপার৷ এর সঙ্গে ভাষার ঐতিহ্য বা সমৃদ্ধির যোগ নেই৷’’

ধ্রুপদী ভাষা ঘোষণার মধ্যে অনেকে রাজনীতি দেখছেন৷ অভিযোগ, দক্ষিণ ভারতে রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বিস্তারের লক্ষ্যে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ধ্রুপদী ভাষাকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে৷ নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান, মানববিদ্যা অনুষদের অধিকর্তা মননকুমার মণ্ডল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভারতের মতো বহুত্ববাদী ও বহুভাষিক দেশে নির্দিষ্ট কয়েকটি ভাষাকে ধ্রুপদী বলে চিহ্নিত করা আদতে প্রাদেশিক সংস্কৃতিকে উৎসাহ দেওয়া৷ সবচেয়ে বড় কথা, ধ্রুপদী ঘোষণার মধ্যে ভাষার উন্নতি নির্ভর করে না৷ সেটা যে ভাষার বিকাশে কোনো কাজে আসে, এমনও নয়৷’’ তিনিও প্রশ্ন তুলছেন, ওড়িয়া যদি ধ্রুপদী হতে পারে, বাংলা কেন নয়?

অডিও শুনুন 05:53

যদি দলিল পেশ করতে পারি, তাহলে স্বীকৃতি মিলতে পারে: পবিত্র সরকার

এছাড়াও বাংলার পক্ষে আছে আরো অনেক যুক্তি৷ বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা, তা একটি দেশের রাষ্ট্রভাষা৷ এই ভাষাতেই ভারত সাহিত্যে নোবেল জয় করেছে৷ বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এতটা চর্চিত নয় অন্য কোনো ভারতীয় ভাষা৷ তাই ভাষাবিদ পবিত্র সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাকে ধ্রুপদী তকমা না দিলে কিছু আসে-যায় না৷ বাংলা ভাষার মতো আর কোনো ভারতীয় ভাষায় এত অনুবাদ হয়নি পৃথিবীতে৷ আন্তর্জাতিক স্তরে যে স্বীকৃতি রয়েছে, তাতে ধ্রুপদী বলা হলো কিনা তা নিয়ে হীনম্মন্যতার কারণ নেই বাঙালির৷’’

বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ লোকসভায় জাতীয় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ টেনে একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন৷ কীভাবে বাংলা ধ্রুপদী ভাষার তালিকাভুক্ত হতে পারে, তার পথ দেখিয়েছেন পবিত্র সরকার৷ তিনি বলেন, ‘‘উড়িয়া যে দেড় হাজার বছরের পুরোনো, এর সপক্ষে তারা দলিল পেশ করেছে৷ আমাদের এখানে সেরকম উদ্যোগ নেয়া হয়নি৷ আমরা যদি দলিল পেশ করতে পারি, তাহলে স্বীকৃতি মিলতে পারে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন