নেশা হয়ে উঠতে পারে ‘স্মার্টফোন’ | বিশ্ব | DW | 01.01.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

স্মার্টফোনে আসক্তি

নেশা হয়ে উঠতে পারে ‘স্মার্টফোন’

কথাটা নেই, কিন্তু থাকা উচিত ছিল: মিডিয়াসক্তি, যার বাহক হলো প্রধানত স্মার্টফোন৷ নয়ত স্পটিফাই, হোয়াটসঅ্যাপ, নেটফ্লিক্সের দুর্বার আকর্ষণ যে কবে নেশা হয়ে উঠেছে, তা অনেকেই খেয়াল করেন না৷

কাজ কিংবা অকাজে, অফিস কিংবা বাড়িতে, দিনে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করটা আজকাল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এক্ষেত্রে ‘নিয়মিত ব্যবহারকারী' আর ‘নেশাগ্রস্ত'-দের মধ্যে ফারাকটা বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব৷

ক'ঘণ্টা ফোনে কাটাচ্ছেন, শুধু তার ওপরেই সেটা নির্ভর করে না৷ মিডিয়াসক্তি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে: প্রথমে কৌতূহল, হয়ত কোনো নতুন ভিডিও গেম একবার খেলে দেখা৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে হলো ‘এনজয়মেন্ট’ বা আনন্দ পাওয়া; তৃতীয় পর্যায়ে ‘হ্যাবিচুয়েশন' বা অভ্যেস হয়ে যাওয়া৷ চতুর্থ পর্যায়ে অপব্যবহার, অর্থাৎ মাত্রাতিরিক্ত মিডিয়া ভোগ করা৷ আর শেষ পর্যায়ে হলো নেশা বা মিডিয়াসক্তি: তখন মানুষ তাদের বন্ধুবান্ধব বা অন্যান্য হবি অবহেলা করতে শুরু করে, এমনকি স্কুল-কলেজ বা অফিসেও যেতে চায় না৷ তখন সে সত্যিই নেশাখোর৷

ঝুঁকি টিনেজারদেরই বেশি

জার্মান টিনেজাররা নাকি দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা অনলাইনে কাটায়, বলে একটি সাম্প্রতিক জরিপে প্রকাশ৷ তারা প্রধানত অনলাইনে যায় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা গান শুনতে৷ কিন্তু সারাক্ষণ ‘ডিজিট্যালি কনেক্টেড' থাকার প্রচেষ্টা অস্বাভাবিক হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা কোনো ছবি বন্ধুবান্ধবরা ‘লাইক' করল কিনা, সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করা; এত যে ‘ফলোয়ার' আছে, তারা হয়ত কোনো নতুন ছবি আপলোড হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে; অনেকে নাকি জিপ লক ব্যাগে করে শাওয়ারের নীচেও ফোন নিয়ে যায়৷

মিডিয়াসক্তির সঙ্গে অ্যালকহলে আসক্তির অনেক মিল আছে৷ দু'টোই ‘বিহেভিওরাল অ্যাডিকশন' বা আচরণগত আসক্তি৷ কিন্তু মদ্যপান ছাড়া যতটা সহজ, অনলাইনের অভ্যেস ছাড়া তার চাইতে অনেক বেশি শক্ত – কেননা মিডিয়া তো সর্বত্র৷ মিডিয়ার ব্যবহার কমাতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা দেখেছে যে, তাদের ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম' হচ্ছে: ঘাম হচ্ছে, মাথা ঘুরছে বা অকারণে মেজাজ খারাপ হচ্ছে৷

অফলাইন

অনলাইন ছাড়াও যে একটা জীবন আছে, টিনেজারদের সেটা দেখানোই হল নিভিন্ন ‘অ্যাডিকশন প্রিভেনশন প্রোগ্রাম' বা ‘আসক্তি প্রতিরোধ কর্মসূচির' উদ্দেশ্য৷ তাদের মুখোমুখি কথা বলা শেখা দরকার, ‘ইমোজি’ ছাড়াই তাদের আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করতে পারা চাই৷ সৃজনীশক্তির বিকাশের জন্যও যে সর্বক্ষেত্রে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের প্রয়োজন, এমন নয়৷

সাবধানবাণীটা শুধু টিনেজারদের জন্যই নয়৷ অনেক কোম্পানি আজকাল চায় যে, তাদের কর্মীরা দিনে বেশ কয়েক ঘণ্টা অফলাইন থাকেন৷ সারাটা দিন কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে বসে থাকলে, রাতে ঘুম ভালো হয় না, পরদিন মনোযোগ দিয়ে কাজ করা যায় না৷

প্রতিবেদন: রুবেন কালুস/এসি
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

প্রিয় পাঠক, স্মার্টফোন নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা জানান আমাদের৷ লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন