নেপালে বাংলাদেশের বিমান বিধ্বস্ত, নিহত কমপক্ষে ৫০ | বিশ্ব | DW | 12.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

নেপালে বাংলাদেশের বিমান বিধ্বস্ত, নিহত কমপক্ষে ৫০

ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নেপালে বিধ্বস্ত হয়েছে৷ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে৷ এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে৷

দুর্ঘটনার পর থেকেই নিয়মিত খবর পরিবেশন করে এলেও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিল না৷ তবে দুর্ঘটনার প্রকৃতি দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছিল আহতদের মধ্যে অনেকেই হয়ত প্রাণ হারাবেন৷ বার্তা সংস্থা ডিপিএ অবশেষে ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে৷

রয়টার্স জানিয়েছে, মোট ৭১ জন আরোহীর বিমানটিতে ৩৩জন নেপালি, ৩২ জন বাংলাদেশি এবং একজন করে চীনা ও মালয়েশীয় নাগরিক ছিলেন৷ ৬৭ জন যাত্রী এবং চারজন কেভিন ক্রু মিলিয়ে ৭১ জনের মধ্যে ৫০ জনই মারা গেছেন বলে জানাচ্ছে রয়টার্স৷

এর আগে সোমবার এ দুর্ঘটনার পর ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ইউএস-বাংলার জনসংযোগ শাখার জিএম কামরুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে কাঠমন্ডুগামী একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ার খবরটি তাঁরা জানতে পেরেছেন৷ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা৷

৬৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ইউএস-বাংলার বোম্বার্ডিয়ার কিউ৪০০ বিমানটি৷ কাঠমান্ডু পোঁছানোর আগ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই চলেছে বিমান৷ ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবতরণের অবতরণের অনুমতিও দিয়েছিল৷ কিন্তু রয়টার্সকে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রী জানান, অনুমতি পাওয়ার পরই পাইলট জানান, তিনি বিমান নিয়ে উত্তর দিকে এগোতে চান৷

কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে পাইলট বলেন, ‘‘না৷’’ পরক্ষণেই বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে দু’বার পাক খেতে দেখা যায় বিমানটিকে৷ট্রাফিক কন্ট্রোলার জানতে চান, ‘‘সব ঠিক আছে তো?’’ পাইলটকে বলতে শোনা যায়, ‘‘হ্যাঁ৷’’

কিন্তু তখন ‘অ্যালাইনমেন্ট’ ঠিক না থাকায় বিমানটির অবতরণে ঝুঁকি ছিল৷ সেকথা জানানোও হয় পাইলটকে৷ তা সত্ত্বেও দ্রুত অবতরণ শুরু করে বিমানটি এবং কয়েক মুহূর্ত পরই বিমানবন্দরের প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে নেমে পড়ে৷ প্রাচীরের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে আগুন লেগে যায় বিমানে৷

ভিডিও দেখুন 01:47
এখন লাইভ
01:47 মিনিট

বাংলাদেশের বিমান ভেঙে পড়ল কাঠমান্ডুতে

এর আগে নেপাল সরকারের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ দুয়াদি এএফপিকে জানান, বিমানের ধ্বংস হয়ে যাওয়া অংশ থেকে তাঁরা মৃতদেহও উদ্ধার করেছেন৷ তবে কয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তা তখনো জানা যায়নি৷

এপি-কে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিকে তিনি খুব কম উচ্চতায় উড়তে দেখেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বিমানটি এত নীচ দিয়ে উড়ছিল যে আমার মনে হয়েছিল এক্ষুণি বুঝি পাহাড়ে গিয়ে ধাক্কা খাবে৷ তারপর হঠাৎই প্রথমে একবার এবং তারপর আরেকবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই৷’’ 

দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের উদ্ধারকর্মী এবং দমকলকর্মীরা ছুটে আসেন৷ এরপর ধোঁয়ায় ঢাকা বিমান থেকে আহত যাত্রীদের বের করে হাসপাতালে পাঠানো শুরু হয়৷

কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে এর আগেও অবতরণের সময় বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে৷ ২০১২ সালে এক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন৷ এছাড়া ২০১৬ সালে বিমান পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হলে ২৩ জন মারা যায়৷

এসিবি/জেডএইচ (এএফপি, এপি, রয়টার্স, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন