নেপালঃ সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী ভারত | বিশ্ব | DW | 15.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

নেপালঃ সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী ভারত

চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে উত্তাপ এখনও প্রশমিত হয়নি, এর মধ্যে নেপালের সঙ্গেও সীমান্ত সমস্যায় জড়াল ভারত। উত্তরাখণ্ডের কিছু জায়গা তাঁদের জমি দেখিয়ে নতুন মানচিত্র করেছে নেপাল।

অবশেষে নড়েচড়ে বসল ভারত। নেপালের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বললেন, ''ভারত ও নেপালের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে তা মিটে যাবে। ভারত ও নেপালের সম্পর্ক শুধু আর্থিক বা সামাজিক নয়, আধ্যাত্মিকও। ভারতের কাশী বিশ্বনাথ, অমরনাথকে বাদ দিয়ে কি নেপালের পশুতিনাথকে ভাবা যায়?'' বেশ কয়েকদিন ধরে নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠার পর এই প্রথম ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী প্রতিক্রিয়া জানালেন। বিরোধ মেটানোর একটা উদ্য়োগের কথা শোনা গেল।

ভারতে কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, আলোচনাই  হচ্ছে নেপালের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। যেমন সিপিআই এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পল্লব সেনগুপ্তর মতে, ''আলোচনাই করেই সমস্যা মেটাতে হবে। আর এই আলোচনা আগেই হতে পারত।'' চীনের সঙ্গে এভাবেই উত্তেজনা কমিয়েছে ভারত। সূত্র জানাচ্ছে, নেপালের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই  সমস্যা মেটানোর জন্য শীগ্রই প্রয়াসী হবে ভারত। 

ঘটনা হলো, এই কয়েক দিনে কালী নদী দিয়ে জল অনেকটা গড়িয়ে গিয়েছে। ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্কও তিক্ত হয়েছে। উত্তেজনা দেখা দিয়োছে। সীমান্তে নেপালের পুলিশের গুলিতে এক ভারতীয় মারা গিয়েছেন।  আগে আলোচনা হলে হয়ত পরিস্থিতি এই জায়গায় পৌঁছত না।  

সেই ব্রিটিশ আমলে ১৮১৬ সালের চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল, মহাকালী নদীর পূর্ব দিকের জায়গা-জমি হলো নেপালের এবং পশ্চিমদিকে ভারতের। সেই মতোই এতকাল চলে আসছিল। সমস্যাটা তৈরি হলো যখন মহাকালী বা কালী নদীর কোন খান থেকে সীমান্ত ধরা হবে তা নিয়ে দুই দেশের মত মিললো না। নেপালের দাবি লিলিপুখ, কালাপানি, লিম্পিয়াধাউরা হলো তাঁদের এলাকা। আর দিল্লি বলে, এটা হলো উত্তরাখণ্ডের মধ্যে থাকা ভারতের এলাকা।  

 নেপাল যে এলাকাকে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করছে, তার কৌশলগত গুরুত্ব ভারতের কাছে বিশাল। এটা শুধু ভারত ও নেপালের এলাকা নয়, এখানে চীনেরও এলাকা শুরু হচ্ছে। এখানে তিন দেশের এলাকা মিশছে।  গত ৮ মার্চ উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় থেকে লিপুলেখের মধ্যে একটি লিঙ্ক রোডের উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এর ফলে মানসরোবর যাত্রার সময় অন্তত ছয় ঘণ্টা কম হবে। তার পাশাপাশি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দ্রুত সেনা বাহিনী পৌঁছে দেওয়ার কাজটাও অনেক সহজ হবে। ২০১৯ এ ভারত একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিল, যেখানে এই ভূখণ্ডটি ভারতের বলে দেখানো হয়েছে।

কিন্তু রাস্তার উদ্বোধনের পরেই নেপাল আপত্তি জানিয়ে বলে, তাঁদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা বানানো হয়েছে। এটা ভারত করতে পারে না। কিন্তু ভারতের বক্তব্য, নিজেদের জমির ওপরেই রাস্তা বানানো হয়েছে। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন ভারতের সেনা প্রধান মনোজ নারাভানে বলেন, লিঙ্ক রোড নিয়ে অন্য কোনো দেশের নির্দেশে নেপাল আপত্তি জানাচ্ছে। অর্থাৎ, নেপালের এই দাবির পিছনে আছে চীন। তীব্র প্রতিবাদ করে নেপাল।

সেনা প্রধানের এই মন্তব্যে ভারতেও কূটনৈতিক মহলে কিঞ্চিত বিষ্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, সচরাচর সেনা বাহিনীর কর্তারা এই ধরনের কথা বলেন না। কোনও সন্দেহ নেই, ভরতীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, নেপালের এই আচরণের পিছনে চীনের উস্কানি আছে।  কিন্তু সেটা কূটনৈতিক বা রজনৈতিক স্তরে বলাটাই দস্তুর।

শুধু মৌখিক প্রতিবাদ নয়, নেপাল বিরোধটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে এবং তাঁরা নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধাউরাকে নেপালের ভূখণ্ড হিসাবে প্রদর্শিত হবে। নেপালের পার্লামেন্ট নতুন মানচিত্র নির্ধারণ করার জন্য সংবিধান সংশোধন করার অনুমতি দিয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছিল, তখনই নেপালের বিদেশমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালি বলেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারত তাতে কান দেয়নি। অর্থাৎ, ভারতের বিরুদ্ধে বড়দাদাসুলভ আচরণের অভিযোগ করেছেন তিনি। 

গত এপ্রিলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কৃষ্ণ প্রসাদ শর্মা ওলির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তখনও সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ওলি কিছু বলেননি। তা হলে এই দুই মাসের মধ্যে এমন কী হলো, যার ফলে বিরোধটা এত তীব্র হয়ে উঠল? প্রবীণ সাংবাদিক ও বিদেশ নীতি বিশেষজ্ঞ প্রণয় শর্মা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''একটা মত হলো নিজের দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিলেন ওলি। তাঁকে সরাবার জন্য একটা অংশ সক্রিয় ছিল। ওলির মনে হয়েছিলো, ওই নেতাদের মদত দিচ্ছে ভারত। তিনিও ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়ে নিজের গদি বাঁচাতে চাইছেন।''

চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ আলোচনার পর কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। এ বার নেপালের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটবে কি না, তার জবাব ভবিষ্যৎ দেবে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন