নেদারল্যান্ডসের ডিকেন্সের গল্পের চরিত্রগুলো | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 30.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

নেদারল্যান্ডসের ডিকেন্সের গল্পের চরিত্রগুলো

প্রতিবছর বড়দিনের আগে নেদারল্যান্ডসের একটি ছোট্ট শহর চার্লস ডিকেন্সের স্মরণে যেন উৎসবে মাতে৷ শহরটির নাম ডেহভেনটা৷ যদিও ডিকেন্স কখনো ডেহভেন্টায় ছিলেন না, তার অনেক উপন্যাসে এখানকার চরিত্র রাস্তা ঘাটগুলো উঠে এসেছে৷

প্রতিবছর প্রায় এক লাখ পর্যটক এখানে আসেন একটি সপ্তাহান্তের জন্য ঊনিশ শতকে ফিরে যেতে৷ চার্লস ডিকেন্সের যুগের মানুষগুলোকে এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে৷ কৃষক, ভিক্ষুক, কারিগর কিংবা সাধারণ মানুষ- সবাইকেই পাওয়া যাবে ডেহভেন্টায়৷ সময়টা ঊনিশ শতকের, ক্রিসমাসের ঠিক আগেকার৷

এই যেমন ফান গুল পরিবার৷ সাত বছর বয়সী ফ্রেডেরিকের টুপিটা একটু আঁটোসাঁটো, কিন্তু চলবে৷ শহরের পুরোনো অংশটিতে থাকার কারণে উৎসবে যোগ দেবেনই তারা৷ কেন্দ্রীয়ভাবে এই পোশাকগুলো ভাড়া পাওয়া যায়৷ একেবারে বাস্তব মনে হবে দেখলে৷

স্থানীয় বাসিন্দা শানতাল ফান গুল বলেন, ‘‘প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পাই৷ আপনি প্রতিবেশী হিসেবে শুধু নাম লেখাবেন৷ ওরা আপনাকে পোশাক দেবে৷ এটা খুব মজার৷ প্রতিবছল আপনি একটি নতুন চরিত্র৷''

তিনি যোগ করেন, ‘‘এখানে এই শতাব্দীর কোনো কিছুই থাকবে না৷ এমনকি জুতোজোড়াও৷ স্নিকার বা তেমন কিছুও পরতে পারবেন না৷''

শানতালের স্বামী পিটার হিলেব্রান্ড বললেন, এমনকি কোনো ঘড়িও থাকবে না৷ আসলে এখানে নিয়ম খুব কড়াকড়ি৷ এমনকি মোবাইল ফোনও নেয়া যাবে না৷ এর অর্থ, হাঁটতে বের হতে হবে এবং বাইরে গিয়ে দেখতে হবে কী হচ্ছে৷ আগেকার দিনের মতো৷

এখানে শুধু পুরোনো কাপড় পরার বিষয়টিই নয়, ডেহভেন্টায় যেন পুরো ঊনিশ শতকটিই জেগে ওঠে৷

ভিডিও দেখুন 04:01

চার্লস ডিকেন্সের চরিত্ররা যখন বাস্তবে

একদিকে যেমন শিশুরা ভিক্ষা করছে, অন্যদিকে বিষয়টি, তখন ও এখন, কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়৷ আবার বুর্জোয়া পরিবেশে কফি খাওয়া চলছে৷ ইয়ান ট্যের ভেমে তাঁর থাকার ঘরটিকে একটি খাবারের দোকানে পরিণত করেছেন৷

‘‘এই রুপার জিনিসগুলো যেমন কাঁটাচামচ, ছুরি ১৮৫০, ১৮৫২ সালের৷ এটা ভিন্ন জগৎ৷ সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ মজাই লাগে করতে৷ তাড়নাটা আসে গায়ে যে কাপড়টা পরছি বা যা যা করছি তা থেকে, '' বলেন তিনি৷

এমি স্ট্রিক সবসময় চাইতেন চার্লস ডিকেন্সের ক্রিস্টমাস স্টোরি বইয়ের চরিত্রগুলো বাস্তবে দেখতে৷ ২৯ বছর আগে তিনি এই উৎসব শুরু করেন৷ তাঁর বাবাও ডিকেন্সের ফ্যান ছিলেন এবং ইংল্যান্ডকে ভালোবাসতেন৷

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমি স্ট্রিক বলেন, ‘‘আমি শুধু কয়েকটি দোকান দিয়ে শুরু করি এবং সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি চলচ্চিত্র দেখাই৷ অবশ্যই সেটি ‘ক্রিস্টমাস ক্যারল', এবং আমি বলি যে, এমনটা করা যেতে পারে৷ সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দোকানগুলোর লোকেরাই শুধু নয়, এখানকার সব মানুষ অংশ নিলেন৷''

চার্লস ডিকেন্সের ক্রিস্টমাস স্টোরি গল্পটি এবেনেসার স্ক্রুজ নামের একজন ব্যবসায়ী কিভাবে কৃপণ থেকে দানশীলে পরিণত হন তা নিয়ে৷ ল্যোক ফান ফুর্স্ট ভারিক্কী সেই মানুষটির চরিত্র ২৫ বছর ধরে করছেন এখানে৷

‘‘একটা বাজে লোকের চরিত্রে অভিনয় করা দারুণ ব্যাপার,'' বলেন এই অভিনেতা৷ ‘‘তাহলে নিজেকে খারাপ জিনিসের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়৷''

ডেহভেন্টার এই উৎসবটি আসলে একটা ক্রিস্টমাসের শক্তির এক বহিঃপ্রকাশ, ঠিক যেমনটা এখানে দেখা যাচ্ছে৷

আন্দ্রেয়া কাসিসকে/জেডএ

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়