নেড়া জমি ভরিয়ে দিতে পারে শিকড়ের নেটওয়ার্ক | অন্বেষণ | DW | 17.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

নেড়া জমি ভরিয়ে দিতে পারে শিকড়ের নেটওয়ার্ক

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক কারণে বনজঙ্গল সাফ করার ফলে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে৷ নতুন করে গাছ লাগিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করাও সহজ নয়৷ এক কৃষিবিদ পতিত জমির নীচে অক্ষত শিকড়ের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে অসাধ্যসাধন করছেন৷

হারিয়ে যাচ্ছে

মালির রাজধানী বামাকোয় কাঠকয়লার ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে৷ রান্নার জন্য প্রায় সবারই কাঠকয়লার প্রয়োজন হয়৷ তার উপর জনসংখ্যাও বেড়ে চলেছে৷ মাইমুনা ত্রায়োরে কাঠকয়লার ব্যবসা করেন৷ ব্যবসা ভালোই চলছে৷ কিন্তু এই সাফল্যই তাঁর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে৷ মাইমুনা বলেন, ‘‘গাছের সংখ্যা কমে চলেছে৷ সত্যি ভয়ঙ্কর৷ শহরের বাইরে গেলে নিজের চোখে সব দেখে সেটা বুঝতে পারবেন৷''

ওয়ার্ল্ড ভিশন নামের এনজিও-র অস্ট্রেলীয় কৃষিবিদ হিসেবে টোনি রিনাডো বনজঙ্গল ধ্বংসের প্রবণতার মোকাবিলা করতে এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন৷ আফ্রিকার একটা বড় অংশে এই সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে৷ এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাইট লাইভলিহুড পুরস্কার পেয়েছেন, যা বিকল্প নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত৷ টোনি বলেন, ‘‘কীভাবে এর মোকাবিলা করা সম্ভব? ফার্মার ম্যানেজড ন্যাচারেল রিজেনারেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অথবা আরও গাছপালা লাগিয়ে সৌভাগ্যবশত এটা করা যায়৷ খুবই কম ব্যয়ে দ্রুত প্রক্রিয়ায় এই ক্ষয় বন্ধ করা যায়৷''

মাইমুনা ত্রারোরে রিনাডোকে বলেন, যে এখন তাঁকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূর থেকে কাঠকয়লা সংগ্রহ করতে হচ্ছে৷ কারণ বামাকোর কাছে আর উপযুক্ত গাছ অবশিষ্ট নেই৷ আফ্রিকার অনেক বড় শহরের কাছেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে৷ অরণ্যের বিনাশ ও ভূমির অবনতি মারাত্মক সমস্যা হয়ে উঠেছে৷

মাটির নীচে অক্ষত শিকড়ের নেটওয়ার্ক

গত শতাব্দীর আশির দশকে রিনাডো আবিষ্কার করেন, যে গাছ কাটা হলেও অনেক জায়গায় মাটির নীচে শিকড়ের এক অক্ষত নেটওয়ার্ক থেকে  যায় এবং বেড়ে ওঠার চেষ্টা করে৷ তাছাড়া আগাছার মতো শিকড়ের কিছু উত্থিত অংশ ছেঁটে ফেললে গাছপালা, ঝোপঝাড়ের বৃদ্ধির হার বেড়ে যায়৷ ওয়ার্ল্ড ভিশন এখন বিশ্বের ২৪টি দেশে এই এফএমএনআর পদ্ধতি প্রবর্তন করছে৷

ভিডিও দেখুন 04:33

গাছের শিকড় থেকে নতুন গাছ

ঘানার উত্তরে ইয়ামেরিগায় প্রায় এক দশক আগে সামুয়েল বাতাং প্রথম চাষি হিসেবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার গ্রামে অনেক কিছু বদলে গেছে৷ আগে গবাদি পশু চরাতে অনেক দূর যেতে হতো৷ চোরেরা পশু চুরি করতো৷ এখন পশুরা কাছেপিঠেই চরে বেড়াতে পারে৷''

কিন্তু এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে৷ গ্রামের মানুষ নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে গিয়ে রিনাডো-র প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে সেগুলি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন৷ পুরানো শিকড় ছেঁটে ফেলে তাঁরা সেগুলির বৃদ্ধির পথ সুগম করেন৷

সহজ উপায় শিকড় উদ্ধার

ফার্মার ম্যানেজড ন্যাচারাল রিজেনারেশন প্রক্রিয়া মোটেই জটিল নয়৷ এর আওতায় সুনির্দিষ্টভাবে ঝোপঝাড় কাটছাঁট করতে হয় এবং নতুন চারাগাছের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হয়৷ তা সত্ত্বেও এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর৷ চারাগাছগুলি এক সময় বড় গাছ হয়ে উঠবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে৷ সামুয়েল বানতাং বলেন, ‘‘আমরা কিছু অংশ ছেঁটে ফেলি, বড়গুলিকে অক্ষত রাখি৷ ছাঁটা অংশগুলিকেও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি৷''

নতুন গাছ লাগানোর তুলনায় এই প্রক্রিয়ার মূল সুবিধা হলো, শিকড় আগে থেকেই সেখানে রয়েছে এবং সেগুলি মাটির গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে৷ তাই বৃষ্টিপাত কম হলেও শিকড় ভূগর্ভস্থ পানির নাগাল পায়৷

গাছপালা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কিছুটা উপরে তুলে আনতে পারে, বাতাসে আর্দ্রতা নির্গমন করতে পারে এবং গাছের ঝরা পাতা পচে গিয়ে সার হিসেবে মাটি উর্বর করে তুলতে পারে৷ পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সামুয়েল বানতাং গবাদি পশুর সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন৷ চাষি হিসেবে সামুয়েল মনে করেন, ‘‘এই প্রক্রিয়া সত্যি খুব সাহায্য করেছে৷ আগে জীবনযাত্রা অনেক বেশি কঠিন ছিল৷ এখন আমাদের নিয়মিত আয় হয়, আমরা পরিবারের দেখাশোনা করতে পারি, স্বাস্থ্য বিমার মাশুল ও স্কুলের ফি দিতে পারি৷ আর সবার জন্য যথেষ্ট খাদ্য রয়েছে৷''

প্রচার ও শিক্ষা

রিনাডো গোটা আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে এফএমএনআর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্মেলন আয়োজন করেন৷ এমনকি মালির মতো সংকটগ্রস্ত দেশও তিনি বাদ দেন না৷ সম্প্রতি তিনি বামাকোয় এসেছিলেন৷ রিনাডো আফ্রিকার বনজঙ্গলের পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই প্রক্রিয়া গোটা দেশে রূপান্তর ঘটাতে পারে, কারণ এর মধ্যে সেই সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে৷ যে সব মানুষ নিজের জমিতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ, তারা অন্য কোথাও গিয়ে লড়াই করতে আগ্রহী হবে না৷ তারা পরিবারের কল্যাণ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, নিজেদের জীবনযাত্রার উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করবে৷''

বামাকোর মতো শহর বিশাল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে, যদিও সেই সম্পদ ধীরে ধীরে কমে চলেছে৷ শহরের আশেপাশের অঞ্চল ও অন্যত্র আবার গাছপালা ফিরিয়ে আনলে মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি ঘটতে পারে, এমনকি হয়তো হিংসা ও সংকট কমাতেও সাহায্য করতে পারে৷

ইয়ুর্গেন স্নাইডার/এসবি 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন