নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষা রক্ষায় রাষ্ট্রের আগ্রহ কম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 21.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষা রক্ষায় রাষ্ট্রের আগ্রহ কম

বাংলা বাদ দিয়েও বাংলাদেশে ৪০টি ভাষা রয়েছে৷ এই ভাষাগুলো নিয়ে সরকারের তেমন একটা উদ্যোগ নেই৷ মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ভাষায় তিনটি করে বই প্রকাশ হয়েছে৷ 

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদানের জন্য এবারই প্রথম তিন ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রথমবারের মত তুলে দেওয়া হল ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’৷ জাতীয় অধ্যাপক  মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ছাড়াও এই পদক পেয়েছেন খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা৷ জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে অবদানের জন্য তাকে এই পদক দেওয়া হয়৷ 

এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ ও লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস এ সম্মাননা পেয়েছে৷

অডিও শুনুন 01:57

ব্যবহার যত বাড়বে ততই এটা সমৃদ্ধ হবে: মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা

বাংলা ছাড়াও অন্য ভাষাগুলো ব্যবহারের অধিকার, চর্চা, গবেষণা ও রাষ্ট্রের মনোভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পাওয়া মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আগের চেয়ে এই ভাষাগুলো রক্ষায় উদ্যোগ বেড়েছে৷ তরুণদের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে৷ তবে গবেষণাসহ অনেক কিছুই এখনও বাকি৷ সরকার চাইলে এই উদ্যোগগুলো নিতে পারে৷ এই ভাষাগুলোর ব্যবহার যত বাড়বে ততই এটা সমৃদ্ধ হবে৷’’

বাংলাদেশে এখন আদিবাসীর সংখ্যা কত? জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার বলেন, ‘‘এই সংখ্যাটা সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না৷ ২০১১ সালের যে জনগণনা জরিপ ছিল, তাতে উল্লেখ ছিল ১৭ লাখ৷ কিন্তু আমরা বিভিন্ন গবেষণা ও বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বলতে পারি, এই সংখ্যাটা ২৮ থেকে ৩০ লাখের কম হবে না৷’’

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত তার ‘পলিটিক্যাল ইকোনমি অফ আনপিপলিং অফ ইন্ডিজিনাস পিপলস: দ্য কেইস অফ বাংলাদেশ’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, ‘‘বাংলাদেশে সরকার ২২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে স্বীকার করে না৷ ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে স্বীকার করা হলেও বাস্তবে দেশের ৪৮ জেলায় ৪৯টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস৷’’ বাংলা বাদ দিয়ে যে ৪০টি ভাষা রয়েছে, তার মধ্যে ৩৪টি আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা রয়েছে৷

২০১০ সালের শিক্ষা নীতিতে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রচলন হলেও তা কার্যকর হয়েছে ২০১৭ সালে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, ‘‘এই কাজটা খুবই সামান্য এগিয়েছে৷ এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ভাষায় তিনটি করে বই হয়েছে৷ এছাড়া কোন কাজই হয়নি৷ শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার কারিকুলাম, প্রশিক্ষন এখনও কিছুই হয়নি৷’’

অডিও শুনুন 02:44

এভাবে কেউ এগিয়ে আসবে না: ড. সৌরভ সিকদার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট বলছে, বাংলা ছাড়া অন্য ভাষাগুলোর (নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা) মধ্য থেকে কয়েকটি ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে তারা৷ নানা বিষয়ে গবেষণা চলছে৷ দেশের যেকোন ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ ও প্রতিষ্ঠান এই গবেষণায় অংশ নিয়ে ভাষা বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করতে পারেন৷ এজন্য সহযোগিতা দেবে তারা৷ এগুলো পরবর্তীতে ইনস্টিটিউটের আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকবে৷

তবে অধ্যাপক সৌরভ সিকদারের মতে, ‘‘এভাবে কেউ এগিয়ে আসবে না৷ কেউ কি গিয়ে বলবে আমি গবেষণা করতে আগ্রহী, আমাকে ফান্ড দেন? কীভাবে তাকে ফান্ড দেবেন তারা? আসলে উদ্যোগটা তাদেরই নিতে হবে৷ গবেষক নিয়োগ দিতে হবে, কাজগুলোকে একত্রিত করতে হবে৷ তাহলেই এই কাজগুলো সম্ভব৷’’

তবে একেবারে যে কিছুই এগুয়নি এমনটা মনে করেন না মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা৷ তিনি বলেন, ‘‘আগে তো ভাবাই যেত না, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা স্কুলে নিজের ভাষার বই পড়বে৷ এখন তো কিছুটা হচ্ছে৷’’ তিনি মনে করেন, প্রভাবশালী ভাষার কারণে ভিন্ন নৃগোষ্ঠীদের ভাষাগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ে৷ এজন্য গবেষণা, প্রকাশনাসহ নানাভাবে রাষ্ট্র চাইলে এই পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন