নিয়োগে এবার কড়াকড়ি, নেওয়া যাবে না যৌতুক | বিশ্ব | DW | 05.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

নিয়োগে এবার কড়াকড়ি, নেওয়া যাবে না যৌতুক

পণ বা যৌতুক দেওয়া-নেওয়া রুখতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছে৷ গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের এমন শর্ত কি আদৌ ফলপ্রসূ হবে?

পণ দেওয়া বা নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়৷ সচেতনতা বৃদ্ধি, ক্যাম্পেন, কড়া আইন প্রণয়ন সত্ত্বেও নিরুপমার সেই ‘দেনা পাওনা'র যুগ থেকে আজকের যুগেও এই সামাজিক অসুখ বহাল তবিয়তে টিকে আছে৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই অসুখ নির্মূল করতে সম্প্রতি শর্ত চাপিয়েছে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে৷

খুব তাড়াতাড়িই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অশিক্ষক' কর্মচারী পদে নিয়োগ শুরু হচ্ছে্৷ রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে যথাক্রমে ২৬০ ও ৩৩১ জনের নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে৷ সেখানে বেশ পরিষ্কার করেই বলা হয়েছে, বিয়েতে যৌতুক দেওয়া-নেওয়ার গন্ধ থাকলে চাকরি জুটবে না৷ এহেন কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরই সিন্ডিকেট৷ এমন উদ্যোগ আগে দেখা যায়নি৷ কিন্তু সত্যিই কি এই উদ্যোগ কোনও কাজের?

আইনে কাজ হয়নি, চাকরির শর্তে হবে?

অনেকেই মনে করছেন, এ উদ্যোগ হাস্যকরভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হবে৷ বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী বোলান গঙ্গোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুরো ব্যাপারটাই অবাস্তব৷ কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে পণ দেওয়া-নেওয়ার কাজটি করেন না৷ কেউ স্বীকারও করবেন না পণ নেওয়ার কথা৷ তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী করবে?''

তাঁর মতে, আইন তো ছিলই, তা সত্ত্বেও যদি পণ বা যৌতুক টিকে থাকে, তাহলে চাকরির শর্ত কি খুব কাজে আসবে? সমাজকেই এ রোগ নির্মূল করতে হবে৷ শর্ত চাপিয়ে লাভ হবে না৷

বোলান গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৬১ সালের যে পণ বিরোধী আইনের কথা বলছেন, তাকে আপাতত শীতঘুমে পাঠিয়ে বধূ নির্যাতনে এ রাজ্য বিশিষ্ট স্থান দখল করেছে৷ এমনকি ‘প্রোটেকশন উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ২০০৫' অ্যাক্ট বা ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ৩০৪বি ও ৪৯৮এ ধারাতে পণ নেওয়া বেশ গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

শুধু ‘অশিক্ষক' কেন?

২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ফুলবাগানের পিঙ্কি মালিককে পণের দাবিতে খুন করা হয়৷ উল্লেখ্য, পিঙ্কির স্বামী ছিলেন গ্রুপ ডি কর্মী৷ আবার গত মাসে বাঁশদ্রোণীতে পায়েল চক্রবর্তীর মৃত্যুর কারণও সেই পণ৷ মৃতার স্বামী একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক৷ কাজেই পণ দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রটা কোনও নির্দিষ্ট গ্রুপে সীমাবদ্ধ নেই৷ সে ক্ষেত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই শর্ত শুধুমাত্র গ্রুপ সি বা গ্রুপ ডি স্তরে আবদ্ধ রাখল কেন?

এমনই প্রশ্ন তুলে ধরেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক অরণি বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সবার জন্য আইন সমান হওয়া উচিত৷ গ্রুপ সি বা ডি শুধু পণ নেয় না, অনেক ওপরতলাতেও পণ নেওয়ার চল আছে৷

তাঁর মতে, ব্যাপারটা ধোঁয়াটে৷ আইডিয়া হিসেবে এটা শুনতে ভালোই লাগছে৷ কিন্তু সংশয় রয়েছে এর প্রয়োগ নিয়ে৷ পণ দেওয়া নেওয়া প্রমাণ হবে কী করে? কেউ অভিযোগ না করলে এটা তো জানাই যাবে না৷ এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার পন্থা না হয়ে দাঁড়ায়৷

অডিও শুনুন 03:27

‘পণ দেওয়া নেওয়া প্রমাণ হবে কী করে?’

তবে চাকরিতে এমন শর্ত নিঃসন্দেহে কর্মী মহলে পণ দেওয়া নেওয়ায় ভীতি প্রদর্শন করবে। এমনটাই মনে করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান সনৎ নস্কর৷ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে ভীষণভাবেই স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘‘পণের ক্ষেত্রে টাকার অঙ্কটা সীমিত৷ কিন্তু চাকরি থাকলে ওই টাকা রোজগার করে ফেলা যায়৷ তাই চাকরি বাঁচাতেই সবাই পণ থেকে দূরে থাকবেন৷''

কিন্তু এতরকমের আইন থাকতেও যেখানে অবাধে পণপ্রথা চলে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়াকড়ি কতটা সফল হবে? এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক নস্কর জানান, আসলে বি্শ্ববিদ্যালয়ের পরিসর অনেক বড় নয়৷ কিন্তু, সামাজিকভাবে কে কী করছে জানার অবকাশ থাকে না৷ এখানে তো সহকর্মীরাই সব জানিয়ে দেবে কর্তৃপক্ষকে৷ আইনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা দায়বদ্ধতা বা বাধ্যতামূলক স্তরে পৌঁছায় না, এখানে সেটা পৌঁছাবে আশা করা যায়৷

অধ্যাপক নস্কর মনে করেন, পুরো বিষয়টিতে যথেষ্ট স্বচ্ছতার দরকার৷ তবেই এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে৷

বিহারের নীতিশ কুমারের সরকার পণের দাবি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে অনেকটা এমনই পথ নিয়েছে৷ বিহারে কোনও সরকারি কর্মচারী বিয়ের সময় যৌতুক নিলেতাকে চাকরি খোয়াতে হবে৷ এমনকি, বিহারে সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে সবাইকে শপথ নিতে হয় যে, বিয়ের সময় তারা কোনও যৌতুক নেবে না৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কি এবার সেই পথে হাঁটতে চলেছে? এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক অরণি বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, বিহারেও বহু সরকারি স্তরে কর্মীরা পণ নিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে৷ তাদের ক'জনের শাস্তি হচ্ছে? তাই এখানেও পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার হওয়া দরকার৷

প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কোনও চাকরিপ্রার্থী নিজেকে পণ-গ্রহীতা হিসেবে কেনই বা স্বীকারোক্তি দেবে? চাকরির মতো মহার্ঘ বিষয়ে কেন আবেদনকারী স্বেচ্ছায় নিজের নাক কেটে নিজেরই যাত্রা ভঙ্গ করবেন, এটা কার্যত অসম্ভব বলেই শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে৷

মোট কথা, কেবল প্রগতির শর্ত চাপিয়েই আপাতত স্বস্তি নেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের৷ সেটা ঠিকঠাক পালন হলো কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে৷ নইলে বোলান গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা অনুযায়ী বলতে হবে, ‘‘পদক্ষেপ তো নেওয়াই যায়, কিন্তু তাতে পণপ্রথা বন্ধ করা যায় না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন