নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি হেফাজতের | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 27.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি হেফাজতের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম৷

এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করে সরকারকে গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে বলছে তারা৷

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী এক বিবৃতিতে গুলিবর্ষণের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন৷ তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এভাবে পুলিশের গুলিবর্ষণের ন্যক্কারজনক ঘটনা কখনো মেনে নেওয়া যায় না৷ এর জবাব প্রশাসনকে অবশ্যই দিতে হবে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে৷ এ আন্দোলন দেশ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না উল্লেখ করে পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসার দাবি জানান তিনি৷

রবিবার দেশব্যাপী সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করবে দলটি৷ হরতালে কোন ধরনের বাঁধা দেওয়া হলে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা৷

হেফাজতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই হরতাল পালন করব৷ যদি বাঁধা দেওয়া হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে৷ সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে পুলিশ আমাদের হরতালে বাঁধা দিতে পারে না৷ আর যদি পুলিশ ছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ আসে তাহলে হেফাজত বুঝিয়ে দেবে কত ধানে কত চাল? মোদি বাংলাদেশে এসে দেশের মাটিকে কলঙ্কিত করেছে৷’’

গত শুক্রবার পুলিশের সাথে সংঘর্ষে সারা দেশে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়৷ শনিবার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর গ্রামে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশের সংঘর্ষে চার জন নিহত ও ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন৷ তাছাড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা সদরে একটি মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ৷ এ সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ গুলি চালালে একজন নিহত হন৷

অডিও শুনুন 02:54

‘সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে পুলিশ আমাদের হরতালে বাঁধা দিতে পারে না’

এদিকে  পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলাম৷ সেখানে নেতারা বলেন, অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটলে সরকারকে এর দায় নিতে হবে৷ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেফাজতে ইসলামের কয়েকশ' নেতাকর্মী বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর পাশের সিঁড়িতে অবস্থান নেন৷ হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পল্টন, গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে সতর্ক অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য৷ এ সময় পুলিশ এ এলাকায় যারা এসেছেন, তাদের সবাইকে তল্লাশি করে৷

চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে শুক্রবারের সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে৷ হেফাজতে ইসলামের কর্মীরাও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে রেখেছে৷ সড়কে ইটের দেওয়াল বানিয়ে ও বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নিয়েছে হেফাজতের কর্মীরা৷ এতে খাগড়াছড়ি, রামগড়, ফটিকছড়ি ও নাজিরহাটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ২৫০ জন র্যাব এবং বিজিবির ১০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়৷ শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নিা৷

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে৷ এসব মামলায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়৷ পুলিশের দুই সদস্য বাদী হয়ে শনিবার বিকেলে সদর থানায় মামলা তিনটি দায়ের করেন৷

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো মাদ্রাসাছাত্র নেই৷ হামলায় অংশ নেওয়া বহিরাগতদের আটক করা হয়েছে৷ অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে৷

মোদির ঢাকা সফরবিরোধী বিক্ষোভে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেসকাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ভাসানী পরিষদ৷ সমাবেশ শেষে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ধরে নিয়ে যায়৷ তবে পুলিশ বলেছে, কাউকে ‘আটক' বা ‘গ্রেপ্তার' করা হয়নি৷ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে কয়েকজনকে ‘হেফাজতে' নেওয়া হয়েছে৷ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়