নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে পোপ-এর অবস্থান স্পষ্ট | বিশ্ব | DW | 02.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রোহিঙ্গা সংকট

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে পোপ-এর অবস্থান স্পষ্ট

পোপ ফ্রান্সিসের কাছ থেকে বাংলাদেশ যা আশা করেছিল, তাই পেয়েছে৷ অস্পষ্টতা দূর করে নির্যাতিতের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন পোপ৷ এতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের শক্তি আরো বাড়লো বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷

বাংলাদেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল মিয়ানমারে পোপের সফর৷ আর এই সফরে পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কী অবস্থান নেন তা শুধু ঢাকা নয় বলতে গেলে পুরো বিশ্বই পর্যবেক্ষণ করছিল৷ নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশর নামটি জড়িয়ে আছে ১৯৭৮ সাল থেকে৷ আর সর্বশেষ ২৫শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে ‘জাতিগত নিধন' প্রক্রিয়ার শিকার হয়ে ছয় লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে৷ আর আগে থেকে আছে আরো চার লাখ রোহিঙ্গা৷

২৫ শে আগস্টের পর রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক আবেদন জানাতে গিয়ে চলতি বছরেই দুই দুইবার ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন পোপ ফ্রান্সিস৷ কিন্তু মিয়ানমারে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা থেকে বিরত ছিলেন৷ এভ্যাটিকান মুখপাত্র গ্রেগ বুরকে তখন বলেছিলেন, ‘‘পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি, এর মানে এই নয় যে তিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন৷''

বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পোপ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে তাঁর সম্মানে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা বললেও ‘রোহিঙ্গা' শব্দটি এড়িয়ে যান৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘রাখাইন রাজ্য থেকে আসা শরণার্থীদের সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে৷''

কিন্তু বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে পোপ মানবিকতার জয়গান গেয়েছেন৷ মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কথাই বলেছেন৷ কাকরাইল চার্চে কক্সবাজার থেকে আসা ১৫ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি৷ সেখানে বলেন, ‘‘এখন ঈশ্বরের অস্তিত্বকেও বলা যেতে পারে ‘রোহিঙ্গা'৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘তোমাদের ওপর যারা অত্যাচার চালিয়েছে, যারা তোমাদের কষ্ট দিয়েছে, তাদের হয়ে আমি ক্ষমা চাই৷''

অডিও শুনুন 01:23
এখন লাইভ
01:23 মিনিট

‘আমাদের প্রত্যেকের কথা তিনি আলাদা ভাবে শুনেছেন’

পোপের সঙ্গে যে রোহিঙ্গারা দেখা করেছেন , কথা বলেছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন কুতুপালং ক্যাম্পের লালু মাঝি৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পোপ অনেক বড় মানুষ, ভালো মানুষ৷ আমাদের প্রত্যেকের কথা তিনি আলাদা ভাবে শুনেছেন৷ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন, হাত ধরেছেন৷ বলেছেন, আমরা যাতে নাগরিকত্ব নিয়ে সম্মানের সঙ্গে আমাদের দেশে ফিরতে পারি সেজন্য তিনি কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন৷ তিনি আমাদের সবাইকে একটি করে রূপার মেডেল উপহার দিয়েছেন৷''

লালু মাঝি আরো বলেন, ‘‘আমরা প্রত্যেকেই আলাদাভাবে পোপকে আমাদের ওপর ব্যক্তিগত নির্যাতন ও নিপীড়ণের কথা বলেছি৷ বলেছি আমাদের উপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, আগুন আর লুট-তরাজের কথা৷''

লালু মাঝি পোপকে বলেছেন, তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিলে এবং নিরাপত্তা দিলে তারা নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবেন৷

পোপ রোহিঙ্গাদের পক্ষে সুস্পষ্ট মানবিক অবস্থান নিয়েছেন৷ তাঁর এই অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষেই৷ পোপের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পোপ শুধু রোহিঙ্গা শব্দটিই উচ্চারণ করেননি৷ তিনি বলেছেন, এখানে যেন রোহিঙ্গারাই ঈশ্বর৷ এটা অনেক বড় কথা৷ তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মধ্যেই ঈশ্বরকে দেখেছেন৷ এটা অনেক বড় মানবিক কথা৷ আর এর একটি বৈশ্বিক প্রভাব আছে৷ পোপ বিভিন্ন রাষ্ট্রে প্রভাব রাখেন৷ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ এখন আরো বাড়বে৷''

অডিও শুনুন 02:50
এখন লাইভ
02:50 মিনিট

‘পোপ এখন হয়তো নানা ভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চাপ দেবেন’

তিনি বলেন,‘‘সু চি এখন চীন সফরে রয়েছেন৷ মিয়ানমার এরইমধ্যে বুঝতে পেরেছে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তাদের এই লুকোচুরি খেলায় কাজ হবে না৷ তাই হয়তো সু চি এখন নতুন করে চীনের সঙ্গে পরামর্শ করবেন৷''

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই অধ্যাপক বলেন, ‘‘পোপ ফ্রান্সিস কার্যত রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন৷ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের শক্তি আরো বাড়লো বলে আমি মনে করি৷ পোপ এখন হয়তো নানা ভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চাপ দেবেন৷ পোপের সেই চাপ দেয়ার ক্ষমতা আছে৷''

পোপ ফ্রান্সিসের ছয় দিনের দক্ষিণ এশিয়া সফর শেষ হলো শনিবারে৷ বিকেলেই তিনি ঢাকা ছেড়েছেন রোমের উদ্দেশে৷ বাংলাদেশে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি৷ পোপ প্রার্থনা সভায় অংশ নিয়েছেন, সর্বধর্ম সভায় বক্তৃতা করেছেন৷ কথা বলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে৷ তিনি শান্তির বাণী ছড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশে৷ আর যুব সমাজকে পথভ্রষ্ট না হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷

এ প্রসঙ্গে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন