নির্বাচন বর্জনের কোনো আলোচনা নেই বিএনপিতে | বিশ্ব | DW | 03.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

নির্বাচন বর্জনের কোনো আলোচনা নেই বিএনপিতে

সংলাপ নিয়ে ‘হতাশা আর অসন্তুষ্টি' যাই থাকুক না কেন এখন পর্যন্ত নির্বাচন বর্জনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই বিনপিতে৷ ঐক্যফ্রন্টের মূল অংশীদার বিএনপি৷ তাই বিএনপি'র চাহিদাকেই প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছেন ফ্রন্ট নেতারা৷

বৃহস্পতিবারের সংলাপের পর ঐক্যফ্রন্ট নেতারা আনুষ্ঠানিক এবং আলদাভাবে কথা বলেছেন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে৷ আর তারা অফ দি রেকর্ডও তথ্য দিচ্ছেন৷ তারা মনে করেন সরকারের সঙ্গে ছোট আকারে আবারো সংলাপ হবে৷ তারা সেই প্রস্তুতিও নিচ্ছেন৷

এর কারণ বৃহস্পতিবারের সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তারা৷ এরমধ্যে অন্যতম হল বর্তমান সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিলে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? আর ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতারা কথাই বলেননি৷

বিএনপি'র কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঐক্যফ্রন্টের মূল দাবি হলো নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা৷ তারা নিশ্চিত হতে চান প্রার্থীদের যতে গ্রেপ্তার করা না হয়৷ আর ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ঠিকমত ভোট দিতে পারেন৷

সরকারের পক্ষ থেকে সভা সমাবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু ফ্রন্ট নেতারা সেটা কীভাবে হবে তার নিশ্চয়তা চান৷ একাধিক নেতা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না এ ধরনের কোনো বিষয় নিয়ে এখন আর আলোচনা হচ্ছে না৷ আলোচনা হচ্ছে বিএনপি কীভাবে এবং কতটুকু ছাড় দিয়ে নির্বাচনে যাবে তা নিয়ে৷ এ নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নেতারা বেঠক করবেন৷ বিএনপি তাদের কৌশল এবং পরিকল্পনা নিয়ে এখন কাজ করছে৷

বিএনপি'র প্রাধান্যে যুক্তফ্রন্ট সংলাপের পর এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, বিএনপি'র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না সরকার৷ আর নির্বাচনও হবে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে৷ তাই এর মধ্য থেকে কতটুকু সুবিধা পাওয়া যায় তা নিয়ে ভাবছে বিএনপি৷

তারা চাইছে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলেও তাকে নির্বাচনের সময় প্যারোলে মুক্তি দিয়ে বাসায় রাখা যায় কিনা৷ অথবা তাকে বাসায় রেখে বাসাটাকেই সাবজেল ঘোষণা করা যায় কিনা৷ অথবা নির্বাচন নিয়ে দলের সঙ্গে জেলখানাতেই কথা বলার সুযোগ দেয়া যায় কিনা৷ কারণ প্রার্থী মনেনানয়নে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপি'র বার বার আলোচনার প্রয়োজন পড়বে৷

অডিও শুনুন 01:31

‘সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখার আছে’

অন্যদিকে এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হলে অথবা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আলাদা নির্বাচনী সরকার হলে সেখানে যেন ঐক্যফ্রন্টের কমপক্ষে তিনজন প্রতিনিধি থাকে৷ ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানের দাবি করেছে৷ সেক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো, মামলা আটকের শিকার নেতা-কর্মীদের বাইরে আনতে সময় লাগবে৷ সরকারও তালিকা চেয়েছে৷ তা করতেও সময় লাগবে৷

আর নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন যদি করা হয় তাহলেও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্ভব নয়৷ তাদের কথা, সরকারের কাছ থেকে যা আদায় করা যায় তা তফসিল ঘোষণার আগেই করতে হবে৷ পরে আর সম্ভব নয়৷ আর সরকার যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তার জন্য কী ব্যবস্থা নেয় তা দৃশ্যমান হতেও সময় লাগবে৷

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও ছিলেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারতো আমাদের সাত দফা দাবির কোনোটিই প্রত্যাখ্যান করেনি৷ তারা বলেছে দাবিগুলো নিয়ে ছোট আকারে আরো আলোচনা হবে৷ আমরা আমাদের সব দাবি তুলে ধরেছি৷ তারাও দাবিগুলোর ব্যাপারে তাদের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন৷ এখন পরবর্তী আলোচনায় কী হয় সেটাই দেখার বিষয়৷ তারা আবার আলোচনায় ডাকবেন৷ আমরা সেই আলোচনায় যাব কিনা বসে সিদ্ধান্ত নেব৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমরা চাই নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড৷ এখন সরকার সেটা করার কথা বলেছে৷ সেটা করার জন্য যে কাজ তা সরকারকেই করতে হবে৷ কী কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখার আছে৷ আমরা নির্বাচনের তফসিল পেছানোর কথা বলেছি৷ যে যার দাবির কথা বলে৷ কী হবে সেটাতো পরের বিষয়৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘নির্বাচনে যাব কি যাব না তাতো পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে৷''

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার কোনেভাবে খালেদা জিয়ার ব্যাপারে ছাড় দিতে রাজি নয়৷ তিনি যদি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে কারাগারের বাইরে আসতে পারেন, আসবেন৷ কিন্তু নির্বাচনের সময় প্যারেলে মুক্তি, তার বাসভবনকে সাবজেল এসব কোনো সুবিধা খালেদা জিয়াকে দেয়া হবে না৷ তাঁকে কারাগারে বসে মামলার বাইরে কোনো রাজনৈতিক পরামর্শের সুযোগ দেবে না সরকার৷ কারণ এটা আইনে অনুমোদন করে না৷

এদিকে, নির্বাচনকালীন সরকারের নামে মন্ত্রিসভা ছোট করার কথা আগে সরকারের দিক থেকে বলা হলেও আপাতত সেই সিদ্ধান্ত ত্যাগ করেছে সরকার৷ তবে সরকারের এই আকার ঠিক রেখে যদি সমঝোতা হয় তাহলে ঐক্যফ্রন্টসহ আরো দু'একটি জোট ও দল থেকে মন্ত্রিসভায় কয়েকজন নতুন মুখ নেয়া হতে পারে৷ আর নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কোনো ইচ্ছ নেই সরকারের৷ তারা চায় নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই করতে৷

অডিও শুনুন 03:20

‘নির্বাচনকালীন মন্ত্রী-এমপি ক্ষমতার ব্যবহার করবেন না’

তবে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে৷ তার অংশ হিসেবে ওই সময় সরকার রুটিন কাজের বাইরে কোনো কাজ করবে না৷ নতুন কোনো নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্ত বা বড় কোনো উন্নয়নমূলক কাজের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না৷ এমপি মন্ত্রীরা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না৷ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা করবে৷ সভা সমাবেশে কোনো বাধা দেয়া হবে না৷ হয়রানিমূলক মামলা, আটক ও গ্রেপ্তার যাতে না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকবে সরকার৷

সংলাপে আওয়ামী লীগের যারা ছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন দলটির আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন যে, সরকার অনেক বিষয়েই ছাড় দিতে প্রস্তুত বা ছাড় দেয়া সম্ভব৷ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো মন্ত্রী, এমপি তাদের ক্ষমতার ব্যবহার করবেন না৷ প্রয়োজনে মন্ত্রীরা তাদের পতাকাও ব্যবহার করবেন না৷ কোনোরূপ প্রতিশ্রুতি বা মানুষকে প্রলুব্ধ করার কোনো উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহন বা প্রশাসনিক কাজে অংশ নেবেন না৷ নির্বাচনকালীন সময়ে তাদের নিস্ক্রিয় করে রাখা হবে৷ নির্বাচনী কার্যক্রমে সবাই যাতে অংশ নিতে পারেন তা নিশ্চিত করবে সরকার৷ কোনো সভা, মিছিল বা নির্বাচনী প্রচারণায় কাউকে কোনোভাবে বাধা দেয়া হবে না৷ আর কারুর বিরুদ্ধে যদি কোনো রাজনৈতিক কারণে মামলা হয়ে থাকে, তা প্রত্যাহার করা হবে৷ রাজনৈতিক কারণে কোনো মামলা হবে না৷ আর নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার ব্যাপারে সর্বোচ্চ উদারতা দেখানো হবে৷ সুতরাং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তাদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই৷''

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন গঠন বা পুনর্গঠনের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির৷ এখানে সরকারের কিছু করার নেই৷''

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ আদালতে দন্ডপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে আছেন৷ বাংলাদেশের কোনো আইনে প্রধানমন্ত্রী বা সরকার তাঁকে মুক্তি দিতে পারেন না৷ আর তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মামলার রায় হয়ে হয়ে গেছে, তা প্রত্যাহারেও কোনো আইন নেই৷''

সংসদ ভেঙ্গে দেয়া এবং সরকারের পদত্যাগ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া সংসদ ভাঙার কোনো প্রশ্নই আসে না৷ সংসদ ভেঙে দেয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই৷ সরকারের পদত্যাগের মত কোনো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি৷ আর প্রধানমন্ত্রী নিজেও যদি পদত্যাগ করেন তাহলে সংবিধান অনুযায়ী কার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন? সরকারতো আর বেওয়ারিশ থাকতে পারে না৷ প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচিত সরকার না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালন করে যেতে বলবেন৷ তিনি তো একা দায়িত্ব পালন করবেন না৷ তার মন্ত্রিপরিষদও লাগবে৷ প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও থাকবেন আর পদত্যাগ করলেও সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী থাকবেন৷''

এদিকে রবিবার নির্বাচনের তফসিল নিয়ে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন৷ এই বৈঠকেই নির্বাচনের তফসিলের ব্যাপারে সিদ্ধন্ত নেয়ার কথা৷ ঐক্যফ্রন্ট শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে দেয়া এক চিঠিতে সংলাপ শেষ হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা না করার দাবি জানিয়েছে৷ আর সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে, তারা সংলাপ তফসিলের আগেই শেষ করতে চায়৷ তফসিলের পর কোনো সংলাপ নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন