‘নির্বাচন না হলে মৌলবাদের উত্থান হবে’ | বিশ্ব | DW | 05.12.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

‘নির্বাচন না হলে মৌলবাদের উত্থান হবে’

বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখতে চায় ভারত৷ মৌলবাদ বা জঙ্গিবাদের উত্থান তারা দেখতে চায় না৷ বাংলাদেশ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং বলেছেন নির্বাচনে যত বেশি দল অংশ নেয় ততই ভালো৷

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের এই খোলাখুলি মন্তব্যকে স্বাভাবিক মনে করেন বাংলাদেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ, জানিপপ-এর প্রধান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ৷ কারণ তিনি মনে করেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভারতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে৷

বুধবার ঢাকা সফরের প্রথম দিনে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷

এরমধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকটি এখন সবচেয়ে আলোচিত৷ সুজাতা সিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পরই এরশাদ সংবাদ মাধ্যমকে তাঁর দলের মন্ত্রীদের নির্বাচনকালীন সরকার থেকে পদত্যাগের নির্দেশের কথা জানান৷ তিনি দাবি করেন সুজাতা সিং তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুরোধ করেছেন৷ এরশাদের ভাষায় সুজাতা বলেছেন, ‘‘জাতীয় পার্টি নির্বাচনে না গেলে জামায়াত-শিবিরসহ উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান হবে৷ তারা ক্ষমতায় আসবে৷''

এদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বলেছেন৷ খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী জানান, সুজাতা সিং বলেছেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য যা যা করা দরকার, তা করবে ভারত৷ ভারত চায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক৷

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও সুজাতা সিং বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন৷ বলেছেন নির্বাচনে যত বেশি দল অংশ নেবে ততই ভালো৷ তাঁর দেশ চায় বাংলাদেশের নির্বাচনে অধিক সংখ্যক দল অংশগ্রহণ করুক৷

এদিকে বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘‘সর্বোচ্চ সংখ্যক দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে নির্বাচন দেখতে চায় ভারত৷ বাংলাদেশের মানুষই ঠিক করবে কারা ক্ষমতায় যাবে, কিভাবে নির্বাচন হবে৷ তবে ভারত চায় বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক, অব্যাহত থাকুক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া৷''

জানিপপ-এর প্রধান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ডয়চে ভেলেক জানান, সুজাতা সিং-এর সফরে স্পষ্ট হয়েছে সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান, সেটা বেশ খোলাখুলি বলে মনে করেন ড. কলিমুল্লাহ৷ তিনি বলেন ভারত বাংলাদেশে একটি নির্বাচন চায়, চায় ধারাবাহিকতা৷ আর অবস্থানগত কারণেই ভারত বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থানকে নিরুৎসাহিত করবে, চাইবে মৌলবাদ বা উগ্রবাদের উত্থান যাতে বাংলাদেশে না ঘটে৷ এটা হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে৷

কলিমুল্লাহ বলেন ভারতকে বাংলাদেশের অন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না৷ কারণ ভারত মনে করে বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক আত্মীয়ের৷ আর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ঐতিহাসিক দিক রয়েছে৷ তাই ভারত বাংলাদেশ নিয়ে একটু খোলাখুলি কথাই বলছে৷

নির্বাচন যথাসময়ে হবে

বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হবে৷ কোনো কারণে নির্বাচনের তারিখ পেছানো মানবে না তারা৷ আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন৷

এদিকে রাতেই জাতীয় পার্টির মুখপাত্র রহুল আমিন হাওলাদার জানিয়েছেন সর্বদলীয় সরকার থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টারা বৃহস্পতিবারই পদত্যাগ করবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন