নির্বাচন ছাড়া বিএনপির আর কি বিকল্প আছে? | বিশ্ব | DW | 20.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

নির্বাচন ছাড়া বিএনপির আর কি বিকল্প আছে?

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারুন বা না পারুন, বিএনপি আন্দোলন গড়ে তুলতে পারুক বা না পারুক, সরকারের মনোভাব যা-ই হোক, বিএনপি'র আগামী নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই৷ তারা নির্বাচনে যাবে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা৷

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি'র প্রতি তাঁর মনোভাব স্পষ্ট করেছেন৷ খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড এবং মামলার বিচার নিয়েও তিনি কোনো রাখঢাক করেননি৷ প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, ‘‘বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে আমাদের কিছুই করণীয় নেই৷'' আর বিএনপি চেয়ারপার্সনের কারাদণ্ড নিয়ে বলেছেন,‘‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিএনপির কাছের লোকেরাই মামলা দিয়েছে, রায় দিয়েছেন আদালত৷ আদালতের রায়ে সরকারের কিছু করার নেই৷''

প্রধামন্ত্রীর এই বক্তব্য বিএনপিকে নতুন কোনো বার্তা দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা এখন পরিস্কার যে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলেও নির্বাচন যথা সময়ে হবে৷ শুধু বিএনপি কেন, অন্য কোনো দলের ব্যাপরেও তিনি একই কথা বলেছেন৷ আর এরইমধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া হয়তো অংশ নিতে পারবেন না৷''

অডিও শুনুন 03:15
এখন লাইভ
03:15 মিনিট

‘প্রধানমন্ত্রী যা-ই বলুন না কেন, আমার ধারণা, বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে’

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী যা-ই বলুন না কেন, আমার ধারণা হলো,  বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে৷এমনকি খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনের অযোগ্য হন, তারপরও বিএনপি তাঁকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেবে৷ কারণ, নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নাই৷''

বিকল্প না থাকার কারণ জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই অধ্যাপক বলেন, ‘‘এবার নির্বাচনে না গেলে বিএনপি'র নিবন্ধন হারানোর বিষয়টি সামনে চলে আসতে পারে৷ আরো অনন্ত পাঁচ বছর বিএনপিকে সংসদ বা ক্ষমতার বাইরে থাকতে হবে৷ আরো পাঁচ বছর সংসদের বাইরে থাকার চাপ বিএনপি সহ্য করতে পারবে না৷ বিএনপি'র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রচুর মামলা আছে৷ আরো মামলা হতে পারে৷ এই মামলাগুলো মোকাবেলা করতে হলে যে ভিত্তি বা শক্তি থাকা দরকার, সেটা পার্লামেন্টে থাকলেই সম্ভব৷ সংসদে বিএনপি'র আসন যদি কমও হয়, তারপরও সেখানে তারা কথা বলার সুযোগ পাবে৷ প্রতিবাদ জানাতে পারবে৷ আর বিএনপি'র বিদেশি মিত্ররা চায় বিএনপি নির্বাচনে যাক, সংসদে যাক৷ তাদের এই প্রত্যাশা এবার বিএনপি'র পক্ষে এড়ানো সম্ভব নয়৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে গেলে হয়তোবা ভোটের বাক্সে তারা পিছিয়ে পড়তে পারে৷ কিন্তু নির্বাচনে না গেলে তাতে তো কোনো লাভ নাই৷ সংসদদে বিএনপি'র এখন যাওয়া জরুরি৷ আর সেজন্য নির্বাচনে যেতে হবে৷''

বিএনপি প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে৷ আর তারা সংসদে নাই চার বছরেরও বেশি সময় ধরে৷ এত বেশি সময় ধরে ক্ষমতা এবং সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি'র জন্য অনেক ক্ষতিকর৷ দলের নেতা-কর্মীদের এই পরিস্থিতি হতাশ করছে৷ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি লাভবান হয়নি বলেই বিশ্লেষকরা মনে করেন৷

অডিও শুনুন 04:26
এখন লাইভ
04:26 মিনিট

‘দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শান্তনূ মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘ প্রধানমন্ত্রীর কথা নতুন কিছু নয়৷ তবে এবার কনফিডেন্স লেভেলটা স্পষ্ট৷ নির্বাচন হবে, তা ২০১৪ সালের মতও যদি হয়৷ আর আমার মনে হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে  বিএনপি যে অবস্থানে ছিল এখন আর সেই অবস্থানে নাই৷ তারা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সরকারের ওপর একটা চাপ জারি রাখতে চায়৷ তারা এরইমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে এসেছে৷ এখন তারা খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না- এই ইস্যুতে চাপ সৃষ্টি করতে চায়৷ কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে সাধারণ মানুষেন সহানুভূতির বিষয়টিও তাদের মাথায় আছে৷ আসলে তাদের যা হিসাব, তা সব আগামী নির্বাচন নিয়েই৷''

বিএনপি'র নির্বাচনে যাওয়ার গুরুত্ব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে৷ আমার মনে হয়, সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার কোনো কৌশল অবলম্বন করলেও বিএনপি সেই কৌশলকে এড়িয়ে নির্বাচনে যাবে৷ কারণ, দলটি আর ক্ষমতা এবং সংসদের বাইরে থাকতে চায় না৷ আরো পাঁচ বছর তারা বাইরে থাকলে দলের অস্তিত্ব চরম সংকটে পড়বে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে তাদের শরিকরা কী করবে? এটা কিন্তু এখন বড় প্রশ্ন৷ আর বর্তমান সরকার দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাজ নিয়ে সমালোচনা আছে৷ ভোটারদের ভিন্ন চিন্তা আছে৷ আর দেশে তো অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ ভোট অনেক৷ তাই বিএনপি'র কৌশল হলো আগামী নির্বাচনের আগে যতটা চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা নেয়া যায়৷ টার্গেট কিন্তু নির্বাচন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন