নির্বাচন কমিশন চ্যালেঞ্জটা ‘মিট′ করতে পারেনি | আলাপ | DW | 31.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

নির্বাচন কমিশন চ্যালেঞ্জটা ‘মিট' করতে পারেনি

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেল৷ নির্বাচন কমিশন কতটা সফল? তাদের কী করা উচিত ছিল, কী করেছে, কী করতে পারেনি? এ সব নিয়েই ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন৷

ডয়চে ভেলে: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন দেখলেন? 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন: দেখা মানে আমি নিজে ভোট দিতে গেছি আর টেলিভিশনে যতটুকু দেখলাম৷ তবে ভোটের ফলাফলে আমি বিস্মিত হয়েছি৷ এটা আমার ধারণাও ছিল না৷ গত চারটি ভোটের সঙ্গে যদি আমি এটাকে মেলাই তাহলে আমি সত্যিই বিস্মিত৷ আওয়ামী লীগ জিতবে এটা আমার ধারণায় ছিল, কিন্তু এতটা আমি ভাবিনি৷ বিএনপি যে অভিযোগ করছে, সেটা আসলে কতটা সত্যি সেটাও দেখতে হবে৷ এবার আসলে দলীয় সরকার না, জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হয়েছে৷ যেটা আগে কখনও হয়নি৷ ফলে এই পরিস্থিতি তো একেবারেই নতুন৷

আগের নির্বাচনগুলো থেকে এই নির্বাচনের তফাৎ কী দেখছেন?

একটা পার্টি ১০ বছর ক্ষমতায়৷ তাদের বহাল রেখে নির্বাচন করা বাংলাদেশের মতো একটি দেশে ‘ইউনিক' এবং ‘ডিফিকাল্ট'৷ যেখানে আমাদের দেশে ইনস্টিটিউশনগুলো এখনো সেভাবে ‘গ্রো' করেনি৷ ফলে এটা তো অন্য নির্বাচনগুলো থেকে বিরাট তফাৎ৷

আপনি নিজেও তো এই পদে থেকে নির্বাচন করেছেন? বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কাজের দূর্বলতা কী দেখছেন?

অডিও শুনুন 08:41

‘পোস্ট-ইলেকশন সরকারের অনেক কিছু বিশ্লেষণের দরকার আছে’

আমরা যখন করেছি, তখন আর এখনের ভিন্ন পরিবেশ৷ আমরা তিন জন ছিলাম৷ সবাই একমত হতাম৷ আর এখন যারা ছিলেন তারা একটি সরকারের অধীনে থেকে নির্বাচন করেছে৷ তাদের যে সব ‘চ্যালেঞ্জ' ছিল সেটা তারা আসলে বুঝতে পারেনি৷ আমরা কিন্তু বারবার বলেছি, তাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ৷ সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে তারা পারেনি৷ এখন তো ভোট হয়ে গেছে৷ ‘পোস্ট-ইলেকশনে' তাদের অনেক কিছু বিশ্লেষণের দরকার আছে৷ এখন তারা করবে কিনা, সেটা তাদের বিষয়৷ তারা তো শেষ মুহূর্তে এই প্রার্থী বদল, ওই প্রার্থী বদল নিয়ে বেশ ডিফিকাল্টির মধ্যে তারা ছিল৷

বিরোধী পক্ষ বলছে, সরকারের অধীনে থেকে যে ভালো নির্বাচন করা সম্ভব নয় সেটা রবিবারের ভোটের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে৷ আপনি কী মনে করেন?

আমরা আগেই বলেছিলাম এটা হবে এই সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ এই পদ্ধতি যে সঠিক, সেটা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছিল সরকারের৷ এখন সেটা পার হতে পেরেছে কিনা, সেটা তো ওরা বলছে পারেনি৷ এখন দেখি জনগণ কী বলে৷ তবে এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এটা খুবই স্বাভাবিক৷

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারও কিন্তু সেই পরীক্ষার কথা ভোট দেয়ার পর স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন?

এই ‘সিস্টেম' যে কাজ করে সেটা প্রমান করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সরকারের সামনে৷ সেই চ্যালেঞ্জটা ‘মিট' হয়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

এখন তো আর পরামর্শ দিয়ে কোনো লাভ নেই৷ আসলে যে সমস্ত জায়গায় তাদের সন্দেহ আছে বা অভিযোগ আছে, সেগুলো তাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করতে হবে৷ তারাও বলছে তদন্ত করবে? আসলে কীভাবে তদন্ত করবে, সেটা তো আর আমি জানি না৷ এখন তো ভোটার লিস্ট থেকে শুরু করে সব কিছুই স্বচ্ছ৷ তারা চাইলেই এগুলো শনাক্ত করতে পারে৷ দেখেন আমি আপনাকে দেখিয়ে দিতে পারি, আপনি যদি না দেখেন তাহলে কি করা? আর শুধু মিডিয়া কেন দেখাবে? আমি দু'বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি, আমার পুরনো ‘ব্যাকগ্রাউন্ড' আছে৷ আমাকে তো বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি৷ আমি ৪৭ বছরের পুরনো একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছি৷ দেখেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মতো আর কোনো নির্বাচন কমিশনকে ‘ভ্যারাইটিজ' নির্বাচন করতে হয়নি৷ আপনি বলতে পারেন পাকিস্তান করেছে৷ ১৯৭০ সালের আগে ওদের কোনো নির্বাচনই হয়নি৷

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতী-র নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন কমিশন তাদের সহযোগিতা নিয়েছে৷ এখন নির্বাচন কমিশন তাদের আস্থায় নিতে পারে না৷ এটা কেন?

আমি যদি মনে করি আমি সব জানি, তাহলে আমার তো কারো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই৷ ফলে তারা কিছু শেয়ার করতে চান না৷ ফলে তারা অন্য কাউকে ‘স্টেকহোল্ডার' মনে করে না৷ কেউ যদি মনে করে আমি ‘রেসপনসেবল', তাহলে অন্য কাউকে শেয়ার করার দরকার কি? দেখেন শেষ মুহূর্তে এসে ‘ফরেন অবজারভার'-দের নিয়ে এত আলোচনা৷ এটার দরকার কী? ‘শিডিউল' ঘোষণার পর এসব নিয়ে তো আলোচনাই হবে না৷ যা করার আপনি আগেই করে ফেলবেন৷ কারণ শিডিউলের পর আপনার অনেক কাজ৷ আমরা সেভাবেই করেছি৷ আন্তর্জাতিক অবজারভারদের তো ‘গাইডলাইন' আছে৷ তারা সেটাই মেনে চলবে৷ আমি তো তাদের বলেছি, আপনাদের এত বেশি করাও লাগবে না৷ আপনারা ২০০৮ সালের খাতাপত্র খোলেন৷ সেখানেই সব বলা আছে৷ আমরা তো তখন অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছি৷ অনেক কিছুই আমরা করেছিলাম৷ আমরা বহু ‘রেকমেনডেশন' দিলাম৷ এখন আপনারা ‘আপডেট' করতে পারেন৷ এখন আপনি এগুলো না নিলে আমরা কি করতে পারি৷

ড. সাখাওয়াত হোসেনের সাক্ষাৎকারটি আপনার কেমন লাগলো জানান আমাদের৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন