নির্বাচন কমিশনের সংলাপের লক্ষ্য কী? | বাংলাদেশ | DW | 24.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

নির্বাচন কমিশনের সংলাপের লক্ষ্য কী?

নির্বাচন কমিশন যে সংলাপ শুরু করেছে তার লক্ষ্য বুঝে উঠতে পারছেন না সাবেক দুই নির্বাচন কমিশনার৷ ডয়চে ভেলেকে তারা বলেন, আলোচনা হওয়া ভালো, তবে আলোচনার লক্ষ্য কী, তা স্পষ্ট নয়৷ কমিশন এর মধ্য দিয়ে কী চায় তা-ও বোঝা যাচ্ছে না৷

তবে নির্বাচন কমিশন মনে করে আলোচনা খুব ভালো হচ্ছে৷ এই আলোচনা থেকে তারা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাচ্ছেন, যা তাদের কাজে লাগবে৷

দায়িত্ব নেয়ার পরপরই হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন সংলাপে মনেযোগী হয়েছে৷ ১৩ মার্চ তারা প্রথম সংলাপ করেন শিক্ষাবিদদের সঙ্গে৷ প্রথম দিনের সংলাপে আমন্ত্রিত ৩০ জন শিক্ষাবিদের মধ্যে ১৩ জন অংশ নেন৷ ২২ মার্চ দ্বিতীয় দফা সংলাপ হয় বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে৷ সেখানে আমন্ত্রিত ৩৯ জনের মধ্যে  ১৭ জন অংশ নেন৷ দুইটি সংলাপেই ৫০ ভাগেরও কম আমন্ত্রিত অংশ নিয়েছেন৷

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, ‘‘এটা ঠিক যে এবার নির্বাচন কমিশনের সংলাপের উদ্দেশ্য সুনিদিষ্ট নয়, টার্গেটেড নয়৷ তারপরও প্রত্যেক আলোচনার মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জন হয়৷ এবারও কিছু বিষয় এসেছে৷ চাইলে নির্বাচন কমিশন তা কাজে লাগতে পারে৷’’

অডিও শুনুন 00:57

নির্বাচন কমিশনের সংলাপের উদ্দেশ্য সুনিদিষ্ট নয়, টার্গেটেড নয়: মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ

তিনি মনে করেন, ‘‘সবাই সংলাপে না এলেও যারা এসেছেন, তারা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ তারা ভালো কিছু পরামর্শ দিয়েছেন৷ বাকিরা হয়ত দেশে ছিলেন না বা নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তাই আসেননি৷’’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন এই আলোচনার মধ্য দিয়ে কী জানতে চান, তাদের উদ্দেশ্য কী, সেটা স্পষ্ট নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আলোচনার কোনো বিষয় নেই৷ যে যার মতো কথা বলছেন৷ যা ভালো মনে করছেন তাই বলছেন৷ কিন্তু কমিশনের তো একটা টার্গেট থাকতে হবে৷ এই আলোচনা থেকে তারা কী পেতে চান তা তো নির্দিষ্ট হতে হবে৷’’

তার মতে, হোম ওয়ার্ক না করেই এই আলোচনা শুরু করা হয়েছে৷ ফলে আগ্রহও কম দেখা যাচ্ছে৷ নির্বাচনি আইন, সমস্যা কোথায়, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা কোথায়- এই বিষয়গুলো নিয়ে আগে কাজ করা দরকার৷ তারপর এসব বিষয় নিয়ে পরামর্শ নিলে ভালো হতো৷ এখন তারা যা আলোচকদের কাছ থেকে শুনছেন তা কোন কাজে লাগাবেন? আদৌ কি কোনো কাজে লাগানো হবে? নাকি শুধু আলোচনার জন্য আলোচনা?

অডিও শুনুন 02:48

হোম ওয়ার্ক না করেই আলোচনা শুরু হয়েছে, ফলে আগ্রহও কম দেখা যাচ্ছে: এম সাখাওয়াত হোসেন

তিনি বলেন, ‘‘সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা তো সবাই বলে৷ ওনারাও বলেন৷ এই বলাই তো যথেষ্ট নয়৷ সেটা কীভাবে করা যায় তা সুনির্দিষ্ট করতে অ্যাজেন্ডা ঠিক করে আলোচনা প্রয়োজন৷ নয়তো এতে কোনো ফল আসবে বলে মনে হয় না৷’’

তার কথা, ‘‘তারপরও আলোচনা ভালো৷ প্রত্যেক নির্বাচন কমিশনই সংলাপ করেছে৷ কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে আমন্ত্রিতদের ৫০ ভাগেরও কম আসছেন৷ আসলে এভাবে কার্ড পাঠিয়ে দাওয়াত দিলে হয় না৷ সত্যিকারের যোগাযোগ করতে হয়৷’’

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় সংলাপ হবে৷ কতগুলো সংলাপ হবে তা এখনো ঠিক হয়নি৷ তবে সবার শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ হবে৷

তিনি বলেন, ‘‘এই সংলাপ থেকে পাওয়া পরামর্শ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কাজে লাগাবে৷ সেজন্যই এই সংলাপ৷’’ তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘৫০ ভাগেরও কম আমন্ত্রিত সংলাপে আসছে এই তথ্য ঠিক না৷ প্রথমে আমন্ত্রণ জানানোর পর যারা কনফার্ম করেন, তাদের চূড়ান্ত আমন্ত্রণ জানানো হয়৷ আর আমাদের আমন্ত্রণে যারা আসছেন, তারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি৷’’

৭ জানুয়ারির ছবিঘরটি দেখুন...