নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব ইসি′র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ | আলাপ | DW | 06.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব ইসি'র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন কতটা প্রস্তুত? তাদের সামনে চ্যালেঞ্জই বা কী? এসব নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন৷

ডয়চে ভেলে: সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷ কমিশনের প্রস্তুতি কেমন দেখছেন?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন: এটা তো বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না৷ বলাও তো মুশকিল৷ তবে দুই রকম প্রস্তুতি আছে৷ একটা হলো লজিস্টিক৷ সেটা গত ৪৭ বছর ধরে হয়ে আসছে৷ তাঁরা কিন্তু এটাতে পারদর্শী৷ এই প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই হয়৷ এটা নিয়ে খুব একটা কমপ্লেন কখনো থাকে না৷ সময়মতো বুথ বানানো হয়, সবকিছু ঠিকমতোই পাওয়া যায়৷ একটা সেট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাঁরা কাজ করেন৷ কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে অপারেশন৷ চ্যালেঞ্জগুলো তারা কীভাবে মোকাবেলা করবে সেই প্রস্তুতিটা এখনো পরিষ্কার না৷ কী কী চ্যালেঞ্জ আছে সেটা আইডেন্টিফাই করেছে কিনা, আইডেন্টিফাই করলে তারা এগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা এখন দেখার বিষয়৷

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনএই দুটোর মধ্যে তফাৎ কতটুকু?

দেখুন, এ পর্যন্ত দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোতে সরকারি দলই সবসময় ফেরত আসে৷ সরকার যখন থাকে, তখন প্রশাসনের লোকজন আনুগত্য দেখায়, একটা হেল্পলেসনেস শো করে৷ আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিন্তু তাঁরা নিরপেক্ষ থাকেন৷ তখন তাঁরা জানেন না যে, কে ক্ষমতায় আসবে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ইলেকশন কমিশন (ইসি) পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে৷

সম্প্রতি বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার পক্ষে প্রস্তাব দিয়েছে৷ আপনার মত কী?

এটা আমাদের একটা প্রপোজাল ছিল৷ আমরা তখন এটাকে অধীনে বলিনি৷ এটা আমরা বলেছিলাম ‘আন্ডার সুপারভিশন'৷ মানে ইলেকশন কমিশন কোনো মন্ত্রণালয় চালানোর ক্ষমতা রাখে না, যেটা হয় সেটা সুপারভিশন৷ মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ইলেকশন কমিশনের কাছ থেকে একটা ছাড়পত্র নিতে হয় যে, এটা করা যাবে কি যাবে না৷ এটা বাংলাদেশে এখন নতুন শোনা যাচ্ছে৷ কিন্তু এটা এই উপমহাদেশে বহুদিন আগে থেকেই প্র্যাকটিস হয়ে আসছে৷ আমরা যদি ইন্ডিয়ান ইলেকশন কমিশনের দিকে তাকাই, সেখানে কিন্তু কোনো আইন নেই, কিন্তু কাস্টমাইজ অব ল বা কোর্ট যদি কোনো কিছু কগনিজেন্সে নেয়, সেটা কিন্তু মানতে হয়৷ সেখানে গত ইলেকশনের আগে আমরা দেখেছি যে, সেনাপ্রধানের নাম পর্যন্ত ইলেকশন কমিশন ঘোষণা করতে দেয়নি৷ ইলেকশনের আগে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না যা ইলেকশন কমিশন জানে না, এই ধরনের সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়কে প্রভাবিত করে৷

অডিও শুনুন 09:08

‘আপনি কারো সাথে লাইন করবেন কি না আপনার ইচ্ছা’

নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের পুলিশ এবং প্রশাসনের উপর কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকে বা কতটা সহযোগিতা পায়?

আমরা যদি সাদা চোখে দেখি তাহলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আছে৷ কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি যে কতটা নিয়ন্ত্রণ আছে, সেটা আপেক্ষিক৷ এখানে ইলেকশন কমিশনকে কিছু কাজ করতে হয়৷ আপনি কী ভাবেন, কীভাবে কন্ট্রোল করবেন, কীভাবে খবরগুলো পাবেন– সেই ব্যবস্থাগুলো আপনাকে এখনই করতে হবে৷ আমাদের সময় আমরা কিন্তু তিনজনই খুবই মনিটর করতাম৷ খবরের কাগজ, টেলিভিশন বা অন্যান্য মাধ্যম থেকে আমরা খবর নিতাম৷ কিছু সোর্সও ছিল৷ আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কারেকশন করার জন্য জোর দিতাম এবং আল্টিমেটাম দিতাম৷ রিটার্নিং অফিসারের পেছনে যে কেউ আছে সেটা তাকে অনুভব করার জন্য যতটুকু করা প্রয়োজন হতো, আমরা ব্যক্তিগতভাবে সেগুলো করতাম৷ সেটা হয়তো আমাদের স্টাইল ছিল৷ এটা ডিপেন্ড করে যে, ইলেকশন কমিশন কতটা এ্যাফোর্ট করতে চায়৷ শুধু তো অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের দোষ দিয়ে লাভ নেই৷ একজন প্রিজাইডিং অফিসার হেল্পলেস ফিল করছে, তাঁকে তো পেছন থেকে কারো সাহস দিতে হবে৷ তাঁকে বলতে হবে, আপনি এই মুহূর্তে হেল্পলেস ফিল করলে এটা করবেন৷ সেটার জন্য ইনফরমেশন পেতে নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হয়৷

বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন কতটা স্বাধীন?

আমি তো বলব হান্ড্রেড পার্সেন্ট৷ মানে ১০০ শতাংশ এবং অনেক দেশ থেকে বেশি স্বাধীন৷ কারণ হচ্ছে যে, এটা স্ট্রাকচারালি স্বাধীন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন, ডিসিশন মেকিংয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীন৷ কিন্তু স্বাধীনতা হচ্ছে আপেক্ষিক বিষয়৷ আপনি নিজে কতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে চান৷ এখন ধরেন একটি রাষ্ট্র স্বাধীন৷ আপনি যদি কারো সাথে লাইন করেন, কিছু ছাড় দেন, এটা তো আপনার ইচ্ছা৷

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রসঙ্গ এসেছে৷ এটা নিয়ে অনেকেরই আপত্তি  আছে৷ আপনারাই তো প্রথম ইভিএম ব্যবহার করেছিলেন৷ এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আমার মতে, এটা একটা টেকনোলজি৷ এটা অনেকেই বোঝে না৷ অনেক পলিটিক্যাল পার্টি পলিটিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে৷ অনেকে এটা ই-ভোটিংয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলছে৷ কিন্তু ই-ভোটিং আর ইভিএম দুটো আলাদা জিনিস৷ বিষয়টা হলো, আমরা যখন করি, তখন আমরা এরকম বহু প্রেসারের মধ্যে ছিলাম৷ তখন কিন্তু আমরা পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সাথে আলোচনা করেছি৷ তখন সবাই বলল যে, আপনারা ছোট ছোট নির্বাচনে অল্প অল্প করে ব্যবহার শুরু করেন, লোকাল ইলেকশনে এগুলো ব্যবহার করেন যাতে আমরাও দেখি, মানুষও দেখে৷ আমরা কিন্তু তখন লোকাল ইলেকশনে এটা আস্তে আস্তে ব্যবহার করি৷ আমরা তখন ভেবেছিলাম যে, এটা বেশ কয়েক বছর ব্যবহার করার পর পলিটিক্যাল পার্টিও দেখবে, সাধারণ মানুষও দেখবে৷ এভাবে চলতে থাকলে একটা পর্যায়ে এটা ঠিক হয়ে যাবে৷ কিন্তু আমরা চলে আসার পর দেখেছি এটা আর কন্টিনিউ করা হয়নি৷ এই কারণে এখন আবার নতুন করে শুরু করতে যাওয়ায় এটা নিয়ে কথা হচ্ছে৷ আমার মত হচ্ছে, এটা নিয়ে যেহেতু আপত্তি আছে, তাই সামনের ইলেকশনে এটা তড়িঘড়ি না করে পরবর্তী পর্যায়ে যে লোকাল ইলেকশনগুলো হবে, সেগুলোতে করলে ভালো হয়৷ ভারতে কিন্তু এটা চালু করতে ২৫ বছর লেগে গেছে৷ এটা আমাদের মনে রাখতে হবে৷

আগামী নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা দেখেন ?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়নের প্রয়োজন হয়৷ এই কারণে যে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্র, ১০ কোটি মানুষ ভোট দিতে যাবে, সেখানে সিকিউরিটি একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়৷ বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে৷ অনেক দেশ, এমনকি এশিয়ার অনেক দেশেও একজন পুলিশ থাকলেও যথেষ্ট৷ কিন্তু আমাদের তো পরিস্থিতি তেমন না৷ আমাদের এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের অপ্রতুলতা আছে৷ সেনাবাহিনীকে রাখা হয়, তারা পরিস্থিতি দেখে কাজ করবে৷ এ পর্যন্ত যতগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে সবসময় সেনাবাহিনী ডেকে আনা হয়েছিল, তারা এভাবে কাজ করেছে৷

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে৷ এছাড়া তাদের অন্যান্য কর্মকাণ্ড বিবেচনা করলে একটা সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন?

যাঁরা আছেন তাঁরাতো সবাই অভিজ্ঞ মানুষ৷ তাঁদের সবারই প্রশাসনে বড় অভিজ্ঞতা আছে৷ অন্যান্য বিষয়েও অভিজ্ঞতা আছে৷ তাঁরা চাইলে তাঁদের তরফ থেকে যেটা করা দরকার, সেটা কিন্তু তাঁরা করতে পারেন৷ আর বাকিটুকু তো তাঁরা একা করেন না, সরকার, পলিটিকাল পার্টি সবার একটা কন্ট্রিবিউশন থাকে৷ কাজেই এরকম কোয়ালিফাইড লোকজন যখন আছেন, তাঁরা যে করতে পারবেন না এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না৷ লোকাল ইলেকশন ভালো হয়নি৷ অবশ্যই তাঁদের কিছু গাফিলতি ছিল৷ অন্যান্য বিষয়েও গাফিলতি ছিল৷ সেটা তাঁদের উতরাতে হবে এবং উতরানোর ক্যাপাসিটি তাঁরা রাখেন এটা আমি বিশ্বাস করি৷ তাঁদের হাতে আইন আছে, তাঁদের লোকবল আছে, সর্বোপরি তাঁদের হাতে সংবিধান আছে৷ ফলে এটা না পারার কোনো কারণ আমি দেখি না৷

বাংলাদেশে একটি দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও প্রশ্নাতীত নির্বাচন করতে গেলে কোন কোন জায়গায় সংস্কার বা কাজ করা প্রয়োজন আছে বলে আপনি মনে করেন?

এই যে সংসদ সদস্যরা, তাঁরা তো নমিনেশন পাবেন৷ তাঁরা ইলেকশন করবেন৷ তাঁরা গত ১০ বছর ধরে এমপি হিসেবে আছেন৷ এলাকায় কিন্তু তাঁদের একটা ইনফুয়েন্স তৈরি হয়েছে৷ থানা-পুলিশ থেকে শুরু করে স্কুলের হেডমাস্টার সবার উপরই তাঁদের মোটামুটি একটা প্রভাব রয়েছে৷ আমাদের দেশে এমপিদের কিন্তু ইনফ্লুয়েন্স থাকে৷ এটা কিন্তু একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে৷ এটা নির্বাচন কমিশন কীভাবে দেখবে? পাশাপাশি মন্ত্রী মহোদয় যাঁরা আছেন, তাঁরা যদি নির্বাচন করতে যান, সেখানে আরো বেশি কমপ্লিকেশন তৈরি হবে৷ এইসব কিন্তু এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ এখন যা দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ প্রশাসনের কর্মকর্তারা কিন্তু সরকারের লাইনে কথা বলেন৷ কিন্তু নির্বাচন যখন হবে, তখন এই কর্মকর্তারা কি রাতারাতি উল্টে যাবেন? বাংলাদেশের পরিস্থিতি কি তা বলে? কাজেই এই জিনিসগুলো একটা বড় চ্যালেঞ্জ এবং এটা নির্বাচন কমিশনকে দেখতে হবে৷ আর সরকারের যদি টোটালি আন্তরিক ইচ্ছা না থাকে, তাহলে ইলেকশন কমিশন ইমপ্লিমেন্ট করলেও তা ফেল করবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন